ময়মনসিংহ , রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

৬২৪ প্রতিযোগী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে প্রতি পদে , পরীক্ষা ঢাকায়

  • ডিজিটাল রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫৪:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে মাত্র ১ হাজার ১২২টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় সাত লাখ চাকরিপ্রার্থী। হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতিটি পদের জন্য গড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬২৪ জন। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) আয়োজিত এই নিয়োগ পরীক্ষার আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়েছে গত বছরের ২৬ অক্টোবর। এখন বিশাল এই পরীক্ষার আয়োজন ঘিরে প্রস্তুতির শেষ ধাপে রয়েছে কমিশন।

প্রধান শিক্ষক পদের প্রতি এই প্রবল আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো বেতন গ্রেডের উন্নয়ন। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদটি ১১তম গ্রেড থেকে উন্নীত হয়ে ১০ম গ্রেডে এসেছে। এতে নিয়োগপ্রাপ্তদের মূল বেতন শুরু হচ্ছে ১৬ হাজার টাকা থেকে, যা সর্বোচ্চ ধাপে গিয়ে দাঁড়াবে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকায়। আগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের মূল বেতন ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে। বেতন কাঠামোর এই উন্নয়ন এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির ফলে মেধাবী প্রার্থীদের আকর্ষণ বহুগুণে বেড়েছে।

ঢাকায় একক কেন্দ্রে পরীক্ষা

পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে কৌতূহল বাড়লেও এখনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি পিএসসি। কমিশনের চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম জানিয়েছেন, প্রায় সাত লাখ পরীক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষা আয়োজন করা একটি অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা শুধু ঢাকাতেই অনুষ্ঠিত হবে। স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে কমিশন সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পরীক্ষার কাঠামো

পিএসসি জানিয়েছে, ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে ৯০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, দৈনন্দিন বিজ্ঞান এবং সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি) অন্তর্ভুক্ত থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় সফল প্রার্থীরাই মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে এই নজিরবিহীন প্রতিযোগিতা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান নীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। সাত লাখ প্রার্থীর ভিড় থেকে শেষ পর্যন্ত কারা বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ করবেন—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহ সদর আসনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল ওয়াহাব আকন্দের পক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

৬২৪ প্রতিযোগী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে প্রতি পদে , পরীক্ষা ঢাকায়

আপডেট সময় ০৯:৫৪:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে মাত্র ১ হাজার ১২২টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় সাত লাখ চাকরিপ্রার্থী। হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতিটি পদের জন্য গড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬২৪ জন। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) আয়োজিত এই নিয়োগ পরীক্ষার আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়েছে গত বছরের ২৬ অক্টোবর। এখন বিশাল এই পরীক্ষার আয়োজন ঘিরে প্রস্তুতির শেষ ধাপে রয়েছে কমিশন।

প্রধান শিক্ষক পদের প্রতি এই প্রবল আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো বেতন গ্রেডের উন্নয়ন। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদটি ১১তম গ্রেড থেকে উন্নীত হয়ে ১০ম গ্রেডে এসেছে। এতে নিয়োগপ্রাপ্তদের মূল বেতন শুরু হচ্ছে ১৬ হাজার টাকা থেকে, যা সর্বোচ্চ ধাপে গিয়ে দাঁড়াবে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকায়। আগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের মূল বেতন ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে। বেতন কাঠামোর এই উন্নয়ন এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির ফলে মেধাবী প্রার্থীদের আকর্ষণ বহুগুণে বেড়েছে।

ঢাকায় একক কেন্দ্রে পরীক্ষা

পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে কৌতূহল বাড়লেও এখনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি পিএসসি। কমিশনের চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম জানিয়েছেন, প্রায় সাত লাখ পরীক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষা আয়োজন করা একটি অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা শুধু ঢাকাতেই অনুষ্ঠিত হবে। স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে কমিশন সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পরীক্ষার কাঠামো

পিএসসি জানিয়েছে, ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে ৯০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, দৈনন্দিন বিজ্ঞান এবং সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি) অন্তর্ভুক্ত থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় সফল প্রার্থীরাই মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে এই নজিরবিহীন প্রতিযোগিতা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান নীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। সাত লাখ প্রার্থীর ভিড় থেকে শেষ পর্যন্ত কারা বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ করবেন—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।