ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কেরানীগঞ্জে ৬০ পুরিয়া হেরোইনসহ শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেফতার সীমান্তে বিজিবির কঠোর অভিযান: উদ্ধার ৫ হাজার পিস ভারতীয় ইলেকট্রিক রেজিস্টর যুব উন্নয়ন ও মানবিক সেবায় পূর্বধলায় স্বর্ণ সুধা যুব উন্নয়ন সমিতি ময়মনসিংহের গৌরীপুরে গুজিখার কেরামতিয়া মসজিদের উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জশনে জুলুস ও আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত নেপালে ত্রাণ-উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বিশ্ববাজারে ফের কমল জ্বালানি তেলের দাম আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় স্কুলশিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা, বিএনপি নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা অন্তর্বর্তী সরকার বর্তমান সরকারকে কাজ করার মতো একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে:সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

পাবনা জেলার ফরিদপুরে মরে যাচ্ছে বড়াল নদী, খনন না হলে হারিয়ে যেতে পারে ঐতিহ্য ও জীবিকা

  • মোঃ আরিফুল ইসলাম
  • আপডেট সময় ১২:৫৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার পার ফরিদপুর ও ফরিদপুরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া বড়াল নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে। একসময়ের প্রমত্ত এই নদীতে এখন পানি নেই বললেই চলে। বছরের অধিকাংশ সময় নদীর বুকে জেগে থাকে বালুচর, কোথাও কোথাও জন্মেছে ঝোপ-ঝাড় ও ঘাস। দ্রুত খনন না করলে নদীটি সম্পূর্ণ রূপে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কয়েক দশক আগেও বড়াল নদী ছিল এই অঞ্চলের প্রাণ। বর্ষা মৌসুমে নদী ভরা থাকত টইটম্বুর পানিতে, চলত নৌযান, ধরা পড়ত প্রচুর মাছ। কৃষিকাজ, সেচ ব্যবস্থা ও নিত্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত নদীটি। কিন্তু পলি জমে ভরাট, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে নদীর নাব্যতা কমে গেছে।

বর্তমানে নদীর অনেক অংশ প্রায় শুকিয়ে খালে পরিণত হয়েছে। এতে করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, কমছে জীববৈচিত্র্য। স্থানীয় কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে। সেচের পানির সংকটে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। নদীকেন্দ্রিক জীবিকা বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায় প্রায় বিলুপ্তির পথে।

ফরিদপুর উপজেলার বড়াল নদী শুধু একটি জলধারা নয়, এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ। বিভিন্ন গ্রামীণ হাট-বাজার, নৌ-যোগাযোগ ও উৎসবকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল নদীনির্ভর জীবনধারা। এখন সেই চিত্র কেবল স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবিলম্বে নদীটির পূর্ণাঙ্গ জরিপ করে পরিকল্পিত খনন কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। পাশাপাশি নদীর দুই তীরে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে এই ঐতিহ্যবাহী বড়াল নদী।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, বড়াল নদী রক্ষা মানে এই অঞ্চলের পরিবেশ, কৃষি ও মানুষেরজীবন-জীবিকা রক্ষা করা। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো কেবল নামেই চিনবে বড়াল নদীকে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে ৬০ পুরিয়া হেরোইনসহ শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেফতার

পাবনা জেলার ফরিদপুরে মরে যাচ্ছে বড়াল নদী, খনন না হলে হারিয়ে যেতে পারে ঐতিহ্য ও জীবিকা

আপডেট সময় ১২:৫৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার পার ফরিদপুর ও ফরিদপুরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া বড়াল নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে। একসময়ের প্রমত্ত এই নদীতে এখন পানি নেই বললেই চলে। বছরের অধিকাংশ সময় নদীর বুকে জেগে থাকে বালুচর, কোথাও কোথাও জন্মেছে ঝোপ-ঝাড় ও ঘাস। দ্রুত খনন না করলে নদীটি সম্পূর্ণ রূপে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কয়েক দশক আগেও বড়াল নদী ছিল এই অঞ্চলের প্রাণ। বর্ষা মৌসুমে নদী ভরা থাকত টইটম্বুর পানিতে, চলত নৌযান, ধরা পড়ত প্রচুর মাছ। কৃষিকাজ, সেচ ব্যবস্থা ও নিত্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত নদীটি। কিন্তু পলি জমে ভরাট, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে নদীর নাব্যতা কমে গেছে।

বর্তমানে নদীর অনেক অংশ প্রায় শুকিয়ে খালে পরিণত হয়েছে। এতে করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, কমছে জীববৈচিত্র্য। স্থানীয় কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে। সেচের পানির সংকটে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। নদীকেন্দ্রিক জীবিকা বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায় প্রায় বিলুপ্তির পথে।

ফরিদপুর উপজেলার বড়াল নদী শুধু একটি জলধারা নয়, এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ। বিভিন্ন গ্রামীণ হাট-বাজার, নৌ-যোগাযোগ ও উৎসবকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল নদীনির্ভর জীবনধারা। এখন সেই চিত্র কেবল স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবিলম্বে নদীটির পূর্ণাঙ্গ জরিপ করে পরিকল্পিত খনন কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। পাশাপাশি নদীর দুই তীরে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে এই ঐতিহ্যবাহী বড়াল নদী।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, বড়াল নদী রক্ষা মানে এই অঞ্চলের পরিবেশ, কৃষি ও মানুষেরজীবন-জীবিকা রক্ষা করা। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো কেবল নামেই চিনবে বড়াল নদীকে।