ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কামরুল-মেননের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ ট্রাম্পের দাবি: ইরানের পরমাণু সংকট সমাধানে ওয়াশিংটনকে সাহায্য করতে আগ্রহী পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক ইরানি জাহাজের ৬ নাবিক মুক্ত, ফিরলেন দেশে ​ভালোবাসার আড়ালে নিষ্ঠুরতা: টিটন হত্যাকাণ্ডে পিচ্চি হেলালের চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি হাসানুল হক ইনুকে নিয়ে মন্তব্য: দুই পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নাহিদ রানার সামনে শিরোপা জয়ের হাতছানি: খেলবেন পিএসএল ফাইনাল বিসিবিতে তামিমের আগমন ক্রিকেটের জন্য মঙ্গলজনক: সাকিবের মন্তব্য ‘কেমন আছ, লেখাপড়া করছ তো?’: সংসদে শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিলেন শিক্ষামন্ত্রী ​কালবৈশাখীর তান্ডব: ৮ জেলায় বজ্রপাতে ১৩ জনের মৃত্যু ​বিসিবি সভাপতির পদ ছাড়ছেন না তামিম, পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

পাবনা জেলার ফরিদপুরে মরে যাচ্ছে বড়াল নদী, খনন না হলে হারিয়ে যেতে পারে ঐতিহ্য ও জীবিকা

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার পার ফরিদপুর ও ফরিদপুরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া বড়াল নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে। একসময়ের প্রমত্ত এই নদীতে এখন পানি নেই বললেই চলে। বছরের অধিকাংশ সময় নদীর বুকে জেগে থাকে বালুচর, কোথাও কোথাও জন্মেছে ঝোপ-ঝাড় ও ঘাস। দ্রুত খনন না করলে নদীটি সম্পূর্ণ রূপে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কয়েক দশক আগেও বড়াল নদী ছিল এই অঞ্চলের প্রাণ। বর্ষা মৌসুমে নদী ভরা থাকত টইটম্বুর পানিতে, চলত নৌযান, ধরা পড়ত প্রচুর মাছ। কৃষিকাজ, সেচ ব্যবস্থা ও নিত্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত নদীটি। কিন্তু পলি জমে ভরাট, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে নদীর নাব্যতা কমে গেছে।

বর্তমানে নদীর অনেক অংশ প্রায় শুকিয়ে খালে পরিণত হয়েছে। এতে করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, কমছে জীববৈচিত্র্য। স্থানীয় কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে। সেচের পানির সংকটে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। নদীকেন্দ্রিক জীবিকা বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায় প্রায় বিলুপ্তির পথে।

ফরিদপুর উপজেলার বড়াল নদী শুধু একটি জলধারা নয়, এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ। বিভিন্ন গ্রামীণ হাট-বাজার, নৌ-যোগাযোগ ও উৎসবকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল নদীনির্ভর জীবনধারা। এখন সেই চিত্র কেবল স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবিলম্বে নদীটির পূর্ণাঙ্গ জরিপ করে পরিকল্পিত খনন কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। পাশাপাশি নদীর দুই তীরে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে এই ঐতিহ্যবাহী বড়াল নদী।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, বড়াল নদী রক্ষা মানে এই অঞ্চলের পরিবেশ, কৃষি ও মানুষেরজীবন-জীবিকা রক্ষা করা। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো কেবল নামেই চিনবে বড়াল নদীকে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কামরুল-মেননের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

পাবনা জেলার ফরিদপুরে মরে যাচ্ছে বড়াল নদী, খনন না হলে হারিয়ে যেতে পারে ঐতিহ্য ও জীবিকা

আপডেট সময় ১২:৫৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার পার ফরিদপুর ও ফরিদপুরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া বড়াল নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে। একসময়ের প্রমত্ত এই নদীতে এখন পানি নেই বললেই চলে। বছরের অধিকাংশ সময় নদীর বুকে জেগে থাকে বালুচর, কোথাও কোথাও জন্মেছে ঝোপ-ঝাড় ও ঘাস। দ্রুত খনন না করলে নদীটি সম্পূর্ণ রূপে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কয়েক দশক আগেও বড়াল নদী ছিল এই অঞ্চলের প্রাণ। বর্ষা মৌসুমে নদী ভরা থাকত টইটম্বুর পানিতে, চলত নৌযান, ধরা পড়ত প্রচুর মাছ। কৃষিকাজ, সেচ ব্যবস্থা ও নিত্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত নদীটি। কিন্তু পলি জমে ভরাট, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে নদীর নাব্যতা কমে গেছে।

বর্তমানে নদীর অনেক অংশ প্রায় শুকিয়ে খালে পরিণত হয়েছে। এতে করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, কমছে জীববৈচিত্র্য। স্থানীয় কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে। সেচের পানির সংকটে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। নদীকেন্দ্রিক জীবিকা বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায় প্রায় বিলুপ্তির পথে।

ফরিদপুর উপজেলার বড়াল নদী শুধু একটি জলধারা নয়, এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ। বিভিন্ন গ্রামীণ হাট-বাজার, নৌ-যোগাযোগ ও উৎসবকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল নদীনির্ভর জীবনধারা। এখন সেই চিত্র কেবল স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবিলম্বে নদীটির পূর্ণাঙ্গ জরিপ করে পরিকল্পিত খনন কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। পাশাপাশি নদীর দুই তীরে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে এই ঐতিহ্যবাহী বড়াল নদী।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, বড়াল নদী রক্ষা মানে এই অঞ্চলের পরিবেশ, কৃষি ও মানুষেরজীবন-জীবিকা রক্ষা করা। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো কেবল নামেই চিনবে বড়াল নদীকে।