ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মাহমুদা আক্তার বন্যা কে সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হিসেবে দেখতে চায় ময়মনসিংহবাসী লাল খান উচ্চ বিদ্যালয়-এ অতিরিক্ত ফিস আদায়ের অভিযোগ চট্রগ্রামের সাতকানিয়ায় ট্রাক চাপায় নালিতাবাড়ীর কলেজ ছাত্র নিহত নালিতাবাড়ী পৌর শহরে মোবাইল কোর্ট ঘিরে উত্তেজনা, ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ ফুলেল শুভেচ্ছায় সম্মানিত আলহাজ্ব সালমান ওমর রুবেল, প্রত্যাশা বাস্তব অগ্রগতির বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘটনা বর্তমান সরকার সমর্থিত ‘মব কালচারের’ আনুষ্ঠানিক সূচনা বললেন ডা. শফিকুর রহমান আপিল বিভাগ মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খান আকরামকে খালাস দিলেন আংশিক মেঘলা থাকতে পারে ঢাকার আকাশ জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর আহসান মনসুরকে সরিয়ে আর্থিক খাতে লুটপাটের পথ উন্মুক্ত করল বিএনপি বলে মন্তব্য করেছেন নাহিদ ইসলাম আজ প্রধানমন্ত্রী একুশে পদক প্রদান করবেন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

৮৯১ প্রকল্পে জলবায়ুর ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, ২০১০–২০২৪ সালের মধ্যে জাতীয় জলবায়ু তহবিল বিসিসিটি থেকে বরাদ্দকৃত অর্থের ৫৪ শতাংশে দুর্নীতি হয়েছে। ওই সময়ে মোট ৮৯১টি প্রকল্পে দুর্নীতির প্রাক্কলিত পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪৮.৪ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ২ হাজার ১১০ দশমিক ৬ কোটি টাকার সমান।

আজ মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশকালে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০–২০২৪ সালের মধ্যে বিসিসিটি থেকে মোট ৪৫৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ শতাংশ বরাদ্দ দুর্নীতিগ্রস্ত বলে টিআইবি প্রাক্কলন করেছে। প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ড ও কারিগরি কমিটির সদস্যদের যোগসাজশ ও রাজনৈতিক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিসিসিটির কর্মকর্তারা যদিও তহবিল ব্যবস্থাপক, তবুও এসব অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

টিআইবির গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় প্রতিবছর প্রয়োজন ১২,৫০০ মিলিয়ন ডলার, কিন্তু ২০১৫–২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তহবিল মিলিয়ে প্রতিবছর গড়ে বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৮৬.২ মিলিয়ন ডলার, যা প্রয়োজনের মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বও গভীর উদ্বেগের বিষয়। ৮৯১টি প্রকল্পের মধ্যে ৫৪৯টির (৬১.৬%) মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গড় প্রকল্পের মেয়াদ ৬৪৮ দিন থেকে বেড়ে ১,৫১৫ দিন, অর্থাৎ ১৩৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধি। কিছু ক্ষেত্রে চার বছরের প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লেগেছে ১৪ বছর পর্যন্ত।

আন্তর্জাতিক তহবিলের প্রকল্পেও বিলম্ব দেখা গেছে। ৫১টি প্রকল্পের মধ্যে ২১টির (৪১.২%) মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গড়ে মেয়াদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৯৫৮ দিন থেকে ২,৯৭৮ দিনে, যা ৫২.১ শতাংশ বৃদ্ধি।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতি বছর ১০–১২ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। কিন্তু ২০০৩–২০২৪ সালের মধ্যে আমরা পেয়েছি মাত্র ১.২ বিলিয়ন ডলার, যা অত্যন্ত নগণ্য। দুর্নীতির কারণে জাতীয় তহবিলের ৫৪ শতাংশ লুটপাট হয়েছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও প্রভাবশালীরা এই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। জবাবদিহিতা ও সুশাসনের ঘাটতি, রাজনৈতিক প্রভাব, বাস্তবায়নকারী সংস্থার অদক্ষতা ও অনিয়ম—এ সব মিলিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা চাই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন।”

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাহমুদা আক্তার বন্যা কে সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হিসেবে দেখতে চায় ময়মনসিংহবাসী

৮৯১ প্রকল্পে জলবায়ুর ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি

আপডেট সময় ০১:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, ২০১০–২০২৪ সালের মধ্যে জাতীয় জলবায়ু তহবিল বিসিসিটি থেকে বরাদ্দকৃত অর্থের ৫৪ শতাংশে দুর্নীতি হয়েছে। ওই সময়ে মোট ৮৯১টি প্রকল্পে দুর্নীতির প্রাক্কলিত পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪৮.৪ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ২ হাজার ১১০ দশমিক ৬ কোটি টাকার সমান।

আজ মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশকালে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০–২০২৪ সালের মধ্যে বিসিসিটি থেকে মোট ৪৫৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ শতাংশ বরাদ্দ দুর্নীতিগ্রস্ত বলে টিআইবি প্রাক্কলন করেছে। প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ড ও কারিগরি কমিটির সদস্যদের যোগসাজশ ও রাজনৈতিক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিসিসিটির কর্মকর্তারা যদিও তহবিল ব্যবস্থাপক, তবুও এসব অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

টিআইবির গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় প্রতিবছর প্রয়োজন ১২,৫০০ মিলিয়ন ডলার, কিন্তু ২০১৫–২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তহবিল মিলিয়ে প্রতিবছর গড়ে বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৮৬.২ মিলিয়ন ডলার, যা প্রয়োজনের মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বও গভীর উদ্বেগের বিষয়। ৮৯১টি প্রকল্পের মধ্যে ৫৪৯টির (৬১.৬%) মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গড় প্রকল্পের মেয়াদ ৬৪৮ দিন থেকে বেড়ে ১,৫১৫ দিন, অর্থাৎ ১৩৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধি। কিছু ক্ষেত্রে চার বছরের প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লেগেছে ১৪ বছর পর্যন্ত।

আন্তর্জাতিক তহবিলের প্রকল্পেও বিলম্ব দেখা গেছে। ৫১টি প্রকল্পের মধ্যে ২১টির (৪১.২%) মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গড়ে মেয়াদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৯৫৮ দিন থেকে ২,৯৭৮ দিনে, যা ৫২.১ শতাংশ বৃদ্ধি।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতি বছর ১০–১২ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। কিন্তু ২০০৩–২০২৪ সালের মধ্যে আমরা পেয়েছি মাত্র ১.২ বিলিয়ন ডলার, যা অত্যন্ত নগণ্য। দুর্নীতির কারণে জাতীয় তহবিলের ৫৪ শতাংশ লুটপাট হয়েছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও প্রভাবশালীরা এই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। জবাবদিহিতা ও সুশাসনের ঘাটতি, রাজনৈতিক প্রভাব, বাস্তবায়নকারী সংস্থার অদক্ষতা ও অনিয়ম—এ সব মিলিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা চাই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন।”