ময়মনসিংহ , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ধামইরহাটে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত কটিয়াদীতে জাতীয় যুব দিবস পালিত ও যুব ঋণের চেক বিতরণ পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত ময়মনসিংহে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ পালিত নেত্রকোণায় জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নেত্রকোণায় ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ শেরপুরে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপন: র‍্যালি, আলোচনা সভা, যুব ঋণ ও সনদপত্র বিতরণ পূর্বধলায় জাতীয় যুব দিবসে স্বর্ণ সুধা যুব উন্নয়ন সমিতির উদ্যোগে ৫০টি পেয়ারাগাছের চারা বিতরণ সফল যুব সংগঠক হিসেবে জনসেবায় বিশেষ অবদান, জাতীয় যুব দিবসে সম্মাননা পেলেন সবুজ বাংলার নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আব্দুল আলীম পাবনার ফরিদপুরে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র‌্যালি
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

৮৯১ প্রকল্পে জলবায়ুর ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, ২০১০–২০২৪ সালের মধ্যে জাতীয় জলবায়ু তহবিল বিসিসিটি থেকে বরাদ্দকৃত অর্থের ৫৪ শতাংশে দুর্নীতি হয়েছে। ওই সময়ে মোট ৮৯১টি প্রকল্পে দুর্নীতির প্রাক্কলিত পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪৮.৪ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ২ হাজার ১১০ দশমিক ৬ কোটি টাকার সমান।

আজ মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশকালে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০–২০২৪ সালের মধ্যে বিসিসিটি থেকে মোট ৪৫৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ শতাংশ বরাদ্দ দুর্নীতিগ্রস্ত বলে টিআইবি প্রাক্কলন করেছে। প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ড ও কারিগরি কমিটির সদস্যদের যোগসাজশ ও রাজনৈতিক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিসিসিটির কর্মকর্তারা যদিও তহবিল ব্যবস্থাপক, তবুও এসব অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

টিআইবির গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় প্রতিবছর প্রয়োজন ১২,৫০০ মিলিয়ন ডলার, কিন্তু ২০১৫–২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তহবিল মিলিয়ে প্রতিবছর গড়ে বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৮৬.২ মিলিয়ন ডলার, যা প্রয়োজনের মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বও গভীর উদ্বেগের বিষয়। ৮৯১টি প্রকল্পের মধ্যে ৫৪৯টির (৬১.৬%) মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গড় প্রকল্পের মেয়াদ ৬৪৮ দিন থেকে বেড়ে ১,৫১৫ দিন, অর্থাৎ ১৩৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধি। কিছু ক্ষেত্রে চার বছরের প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লেগেছে ১৪ বছর পর্যন্ত।

আন্তর্জাতিক তহবিলের প্রকল্পেও বিলম্ব দেখা গেছে। ৫১টি প্রকল্পের মধ্যে ২১টির (৪১.২%) মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গড়ে মেয়াদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৯৫৮ দিন থেকে ২,৯৭৮ দিনে, যা ৫২.১ শতাংশ বৃদ্ধি।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতি বছর ১০–১২ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। কিন্তু ২০০৩–২০২৪ সালের মধ্যে আমরা পেয়েছি মাত্র ১.২ বিলিয়ন ডলার, যা অত্যন্ত নগণ্য। দুর্নীতির কারণে জাতীয় তহবিলের ৫৪ শতাংশ লুটপাট হয়েছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও প্রভাবশালীরা এই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। জবাবদিহিতা ও সুশাসনের ঘাটতি, রাজনৈতিক প্রভাব, বাস্তবায়নকারী সংস্থার অদক্ষতা ও অনিয়ম—এ সব মিলিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা চাই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন।”

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ধামইরহাটে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

৮৯১ প্রকল্পে জলবায়ুর ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি

আপডেট সময় ০১:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, ২০১০–২০২৪ সালের মধ্যে জাতীয় জলবায়ু তহবিল বিসিসিটি থেকে বরাদ্দকৃত অর্থের ৫৪ শতাংশে দুর্নীতি হয়েছে। ওই সময়ে মোট ৮৯১টি প্রকল্পে দুর্নীতির প্রাক্কলিত পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪৮.৪ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ২ হাজার ১১০ দশমিক ৬ কোটি টাকার সমান।

আজ মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশকালে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০–২০২৪ সালের মধ্যে বিসিসিটি থেকে মোট ৪৫৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ শতাংশ বরাদ্দ দুর্নীতিগ্রস্ত বলে টিআইবি প্রাক্কলন করেছে। প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ড ও কারিগরি কমিটির সদস্যদের যোগসাজশ ও রাজনৈতিক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিসিসিটির কর্মকর্তারা যদিও তহবিল ব্যবস্থাপক, তবুও এসব অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

টিআইবির গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় প্রতিবছর প্রয়োজন ১২,৫০০ মিলিয়ন ডলার, কিন্তু ২০১৫–২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তহবিল মিলিয়ে প্রতিবছর গড়ে বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৮৬.২ মিলিয়ন ডলার, যা প্রয়োজনের মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বও গভীর উদ্বেগের বিষয়। ৮৯১টি প্রকল্পের মধ্যে ৫৪৯টির (৬১.৬%) মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গড় প্রকল্পের মেয়াদ ৬৪৮ দিন থেকে বেড়ে ১,৫১৫ দিন, অর্থাৎ ১৩৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধি। কিছু ক্ষেত্রে চার বছরের প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লেগেছে ১৪ বছর পর্যন্ত।

আন্তর্জাতিক তহবিলের প্রকল্পেও বিলম্ব দেখা গেছে। ৫১টি প্রকল্পের মধ্যে ২১টির (৪১.২%) মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গড়ে মেয়াদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৯৫৮ দিন থেকে ২,৯৭৮ দিনে, যা ৫২.১ শতাংশ বৃদ্ধি।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতি বছর ১০–১২ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। কিন্তু ২০০৩–২০২৪ সালের মধ্যে আমরা পেয়েছি মাত্র ১.২ বিলিয়ন ডলার, যা অত্যন্ত নগণ্য। দুর্নীতির কারণে জাতীয় তহবিলের ৫৪ শতাংশ লুটপাট হয়েছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও প্রভাবশালীরা এই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। জবাবদিহিতা ও সুশাসনের ঘাটতি, রাজনৈতিক প্রভাব, বাস্তবায়নকারী সংস্থার অদক্ষতা ও অনিয়ম—এ সব মিলিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা চাই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন।”