ময়মনসিংহ , রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জামায়াত-ছাত্রশিবির ইহুদি স্টাইলে রাজনীতি করে বলেছেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিব এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোট যৌথভাবেই বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে জানিয়েছেন আযাদ বঙ্গভবন নয়, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকার শপথ নেবে বাসন্তী ভালোবাসা বুবলীর আসাদুল্লাহ গ্রেপ্তার এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বিরুদ্ধে বরিশালে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে মোদির আসার সম্ভাবনা নেই তারেক রহমানকে ‘প্রকাশক ঐক্যের’ খোলা চিঠি বইমেলা পেছাতে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪৫:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১২৪ বার পড়া হয়েছে

নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুশীলা কার্কির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান দেন। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে সুশীলা কার্কি এ শপথ নেন। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল। 

এদিকে নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ গ্রহণ করেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান। নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এনডিটিভির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্কির শপথ গ্রহণের পরই নেপালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৫ মার্চে হবে নির্বাচন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে গত তিন দিনের টানা বিক্ষোভে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সরকারের পতন হয়।

এরপর বুধবার আন্দোলনকারীরা কার্কিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী করতে সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে মনে হয়েছিল।

কিন্তু এর ২৪ ঘণ্টা পরই আন্দোলনকারীদের মধ্যে মতপার্থক্যের খবর মেলে।
শোনা যায়, প্রকৌশলী কুলমান ঘিসিংকে প্রধানমন্ত্রী পদে চাইছেন আন্দোলনকারীদের অনেকে, যিনি নেপালের বিদ্যুৎ সংকট সমাধান করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

আন্দোলনকারীরা এক বিবৃতিতে তার নামও প্রস্তাব করেছিলেন। কুলমানের নাম উঠে আসায় কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। আর এরও আগে ওলি সরকারের পতনের পরই প্রাথমিকভাবে নাম শোনা গিয়েছিল রাজধানী কাঠমাণ্ডুর নির্দল মেয়র ও জনপ্রিয় র‌্যাপার বলেন্দ্র শাহের।

কিন্তু ৩৫ বছর বয়সী শাহ প্রধানমন্ত্রী হতে আগ্রহী ছিলেন না। বরং তিনি প্রকাশ্যে কার্কির পক্ষেই সমর্থন জানান।

৭২ বছর বয়সী সুশীলা কার্কি নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ পদে ছিলেন তিনি। সেটিও ছিল ইতিহাস। এখন আরো এক ইতিহাসের সাক্ষী হলো হিমালয়ের দেশ নেপাল।

জেন-জি (তরুণ প্রজন্ম)- যাদের নেতৃত্বে আন্দোলনে কেপি শর্মা ওলি সরকারের পতন ঘটেছে, তাদের মধ্যে সুশীলা কার্কির জনপ্রিয়তা রয়েছে।

সততা, ন্যায়বিচার, নিরপেক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য পরিচিত তিনি। বিশেষ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্কির কঠোর অবস্থানের জন্য তিনি জনপ্রিয়।

বিচারপতি থাকাকালে ক্ষমতাসীন মন্ত্রীকে জেলে পাঠানো থেকে শুরু করে সরাসরি সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতেও পিছপা হননি কার্কি।

তবে তার বিচারপতি জীবন ঝঞ্ঝাটমুক্ত ছিল না। দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে দেখা হয়। জনমতের চাপে শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়। যদিও ঘটনাটি কার্কিকে হতাশ করেছিল এবং তিনি পরে পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এবার তার সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত-ছাত্রশিবির ইহুদি স্টাইলে রাজনীতি করে বলেছেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিব

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে

আপডেট সময় ১০:৪৫:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুশীলা কার্কির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান দেন। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে সুশীলা কার্কি এ শপথ নেন। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল। 

এদিকে নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ গ্রহণ করেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান। নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এনডিটিভির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্কির শপথ গ্রহণের পরই নেপালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৫ মার্চে হবে নির্বাচন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে গত তিন দিনের টানা বিক্ষোভে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সরকারের পতন হয়।

এরপর বুধবার আন্দোলনকারীরা কার্কিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী করতে সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে মনে হয়েছিল।

কিন্তু এর ২৪ ঘণ্টা পরই আন্দোলনকারীদের মধ্যে মতপার্থক্যের খবর মেলে।
শোনা যায়, প্রকৌশলী কুলমান ঘিসিংকে প্রধানমন্ত্রী পদে চাইছেন আন্দোলনকারীদের অনেকে, যিনি নেপালের বিদ্যুৎ সংকট সমাধান করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

আন্দোলনকারীরা এক বিবৃতিতে তার নামও প্রস্তাব করেছিলেন। কুলমানের নাম উঠে আসায় কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। আর এরও আগে ওলি সরকারের পতনের পরই প্রাথমিকভাবে নাম শোনা গিয়েছিল রাজধানী কাঠমাণ্ডুর নির্দল মেয়র ও জনপ্রিয় র‌্যাপার বলেন্দ্র শাহের।

কিন্তু ৩৫ বছর বয়সী শাহ প্রধানমন্ত্রী হতে আগ্রহী ছিলেন না। বরং তিনি প্রকাশ্যে কার্কির পক্ষেই সমর্থন জানান।

৭২ বছর বয়সী সুশীলা কার্কি নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ পদে ছিলেন তিনি। সেটিও ছিল ইতিহাস। এখন আরো এক ইতিহাসের সাক্ষী হলো হিমালয়ের দেশ নেপাল।

জেন-জি (তরুণ প্রজন্ম)- যাদের নেতৃত্বে আন্দোলনে কেপি শর্মা ওলি সরকারের পতন ঘটেছে, তাদের মধ্যে সুশীলা কার্কির জনপ্রিয়তা রয়েছে।

সততা, ন্যায়বিচার, নিরপেক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য পরিচিত তিনি। বিশেষ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্কির কঠোর অবস্থানের জন্য তিনি জনপ্রিয়।

বিচারপতি থাকাকালে ক্ষমতাসীন মন্ত্রীকে জেলে পাঠানো থেকে শুরু করে সরাসরি সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতেও পিছপা হননি কার্কি।

তবে তার বিচারপতি জীবন ঝঞ্ঝাটমুক্ত ছিল না। দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে দেখা হয়। জনমতের চাপে শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়। যদিও ঘটনাটি কার্কিকে হতাশ করেছিল এবং তিনি পরে পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এবার তার সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।