মুস্তাফিজুর রহমানের বিপিএল দল রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান জানালেন, নানা আলোচনা-সমালোচনার মাঝেও বাংলাদেশের হয়ে সেরাটা দেওয়ার স্বপ্নেই স্থির আছেন এই বাঁহাতি পেসার।
চারপাশে ক্রিকেট আর রাজনীতির উত্তাল ঢেউ। বাংলাদেশ-ভারত ইস্যুতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মুস্তাফিজুর রহমান। অথচ মাঠে নামলে যেন সবকিছু ছাপিয়ে যান তিনি। বল হাতে ছুটে চলেন নিজের ছন্দে—কাটার, স্লোয়ার, বাউন্সার, ইয়র্কারের নিখুঁত মিশেলে। ঠিক যেন ধ্যানমগ্ন এক ঋষি। বাইরের ঝড় তাকে স্পর্শ করে না, তিনি ডুবে থাকেন নিজের কাজে।
শেষ ১৮ বলে ঢাকার প্রয়োজন ছিল ২৫ রান, হাতে ছিল ৭ উইকেট। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন সমীকরণ সাধারণত কঠিন কিছু নয়। কিন্তু মুস্তাফিজ থাকলে হিসাব বদলে যায়। তার বিপক্ষে কোনো জবাব খুঁজে পায়নি ঢাকা।
১৮তম ওভারে বোলিংয়ে এসে মাত্র দুই রান দেন মুস্তাফিজ। ওভারের শেষ বলে বিদায় করেন বিপজ্জনক শামীম হোসেনকে। পরের ওভারে রংপুরের আকিফ জাভেদের কাছ থেকে ১৩ রান তুললেও শেষ ওভারে প্রয়োজন দাঁড়ায় ১০ রান।
অপরাজিত ফিফটি করা মোহাম্মদ মিঠুন ও আগ্রাসী সাব্বির রহমান—দুজনের কেউই শেষ ওভারে বড় শট খেলতে পারেননি। মুস্তাফিজের নিখুঁত বোলিংয়ে পুরো ওভারে আসে মাত্র চারটি সিঙ্গল, দুটি বল ডট। নিজের শেষ দুই ওভারে তিনি দেন মোটে ছয় রান। সেখানেই থামে ঢাকার লড়াই।
১৯তম ওভারের শেষ বলে ছক্কা হজম করার সময় রংপুর অধিনায়ক সোহানের চোখেমুখে বিরক্তি ছিল স্পষ্ট। কিন্তু শেষ ওভার শেষে সেই মুখেই ফুটে ওঠে চওড়া হাসি। যার কল্যাণে সেই হাসি, তাকে প্রশংসায় ভাসাতেও কার্পণ্য করেননি তিনি।
সোহান বলেন, “মুস্তাফিজ বিশ্বমানের বোলার, এটা সে অনেক দিন ধরেই প্রমাণ করে আসছে। ওকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। সবসময়ই ও মুগ্ধ করে।”
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মুস্তাফিজের জন্য বড় ধাক্কা ছিল আইপিএল থেকে বাদ পড়া। বাংলাদেশের রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দল পাওয়া এই পেসার প্রথমবারের মতো কলকাতা নাইট রাইডার্সের মতো জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিতে সুযোগ পেয়েছিলেন। ফর্মও ছিল দুর্দান্ত। সব মিলিয়ে হতাশার কারণ যে নেই, তা নয়।
তবু প্রতিক্রিয়া প্রকাশে মুস্তাফিজ বরাবরই সংযত। উচ্ছ্বাস বা হতাশা—দুটোই খুব কমই দেখা যায় তার মধ্যে। সোহান জানালেন, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
“অবশ্যই ও বিন্দাস আছে। খারাপ লাগা তো থাকতেই পারে, কারণ ও যেটা ডিজার্ভ করে… আগেও আরও বেশি ডিজার্ভ করত। ওই জায়গা থেকে খারাপ লাগা থাকতেই পারে। তবে আমার মনে হয়, এটা ঠিক আছে।”
আইপিএল ইস্যু ঘিরে বাংলাদেশজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র আলোচনা। ভারতীয় বোর্ডের সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গড়িয়েছে। এসব আলোচনা মুস্তাফিজ কিংবা রংপুর দলকে প্রভাবিত করার কথা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন।
সোহান বলেন, “সত্যি বলতে সোশ্যাল মিডিয়া খুব একটা ফলো করি না। বাইরে কী হচ্ছে, সেটা খুব বেশি জানিও না। দলের ভেতরে অবশ্য কথা হয়েছে। মুস্তাফিজের খারাপ লাগা থাকতে পারে। কিন্তু ও সবসময় স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশের হয়ে সেরাটা দেওয়ার। আমার কাছে মনে হয়, ও এখনো পুরোপুরি বিন্দাস।”

ডিজিটাল ডেস্ক 























