রাজধানীর সিদ্দিকবাজার এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার তিন বছর পর তদন্তে উঠে এসেছে, তিনজনের অবহেলা ও লোভের কারণেই প্রাণ হারান ২৬ জন। এ ঘটনায় দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত এবং মামলার বিচার শুরুর প্রক্রিয়া চলছে।
২০২৩ সালের ৭ মার্চ বিকেলে ঢাকার নর্থ সাউথ রোড এলাকায় অবস্থিত সাততলা ক্যাফে কুইন ভবন-এ শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে ভবনের দুটি তলা ধসে পড়ে এবং ২৪টি কলামের মধ্যে ৯টি কলামসহ ভবনের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনায় ভবনের দোকানের কর্মচারী ছাড়াও রাস্তায় থাকা যানবাহনের যাত্রী ও পথচারীসহ মোট ২৬ জন নিহত হন। ঘটনার দিনই ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর নয় মাস তদন্ত শেষে গত ডিসেম্বরে সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের পরিদর্শক এস এম রাইসুল ইসলাম তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযুক্তরা হলেন ভবন মালিক ওয়াহিদুর রহমান ও মতিউর রহমান এবং স্যানিটারি দোকানের মালিক আ. মোতালেব মিন্টু।
তদন্তে আরও দেখা যায়, অনুমোদিত ঠিকাদার দিয়ে কাজ না করিয়ে লোহার মিস্ত্রি দিয়ে গ্যাস সংযোগের কাজ করানো হয়। পাশাপাশি বাড়তি আয়ের আশায় ভবনের নকশা পরিবর্তন করে বেইজমেন্টে দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়, যা অনুমোদিত ছিল না। এসব অবহেলা ও অনিয়মের কারণেই গ্যাস জমে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১৪ জানুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। বর্তমানে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। অভিযুক্ত তিনজন বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে এবং দ্রুত বিচার শেষ করার চেষ্টা করা হবে, যাতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পায়।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তাদের মক্কেলরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তারা আদালতে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এদিকে নিহতদের স্বজনরা দ্রুত বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। ওই বিস্ফোরণে স্যানিটারি পণ্য কিনতে গিয়ে নিহত হন মোমিনুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নদী বেগম। মোমিনুলের চাচা আব্দুর রহিম বলেন, “যাদের অবহেলায় তাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণ চাই।”

ডিজিটাল রিপোর্ট 



















