ময়মনসিংহ , রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
​পে-স্কেল বাস্তবায়ন: অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন সুখবর “কোরবানির হাটে পশুর সরবরাহ পর্যাপ্ত, বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস মন্ত্রীর” কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই, উদ্বৃত্ত থাকবে ২২ লাখের বেশি জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী হাওড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ৩ মাস সহায়তা দেবে সরকার জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ভবিষ্যতে যেন মেগা প্রকল্পের নামে মেগা ডাকাতি না হয় জানিয়েছেন সারজিস আলম ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে সরকার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনে ডিসিদের প্রস্তুত থাকতে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলায় চার্জশিট দাখিল শ্রীবরদীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর ফাইনাল অনুষ্ঠিত ওরা সাংবাদিক না – ওরা রাজনৈতিক দালাল
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

​পে-স্কেল বাস্তবায়ন: অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন সুখবর

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হচ্ছে। তিনটি বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রণয়নে পুনর্গঠিত কমিটি ধাপে ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে এবং আগামী ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপ কার্যকর হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। প্রস্তাবিত স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী পাচ্ছেন মাত্র ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন।

গত ২১ এপ্রিল সরকার জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন-সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করে। সম্প্রতি ওই কমিটি তাদের মতামত জমা দিয়েছে। কমিটির মতামতের ভিত্তিতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সচিব কমিটির সুপারিশের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আসন্ন বাজেটে এ জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হতে পারে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি করা হবে। তবে এ জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত দিতে হবে।’

প্রস্তাবিত বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত রাখা হয়েছে ১:৮, যা দেশের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বনিম্ন। তুলনামূলকভাবে দেখলে, ১৯৭৩ সালে প্রথম বেতন কমিশনে এই অনুপাত ছিল ১:১৫.৪ এবং ২০১৫ সালের সর্বশেষ বেতন কমিশনে ছিল ১:৯.৪।

বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারী মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং বাড়িভাড়া ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে মোট পান ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। প্রস্তাবিত বেতনস্কেলে ওই কর্মচারীর মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা এবং ভাতাসহ মোট বেতন দাঁড়াবে ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা।

একইভাবে ১৯তম গ্রেড থেকে ১ম গ্রেড পর্যন্ত ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, তবে যুক্তিসঙ্গত সমতা বিধানের স্বার্থে উচ্চতর গ্রেডে বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম হবে। যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা ও ঝুঁকি ভাতার মতো সুবিধাগুলো সাধারণত ১০ম বা ১১তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা পেয়ে থাকেন। পঞ্চম গ্রেড থেকে উপরের গ্রেডে প্রযোজ্য গাড়ি সেবা নগদায়ন ভাতা এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে, ফলে শতকরা হারে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ভাতা বৃদ্ধির হার কম দেখাবে।

সুপারিশে আরও বলা হয়েছে, নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে বর্তমানে প্রদত্ত ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা প্রচলিত নিয়মে সমন্বয় করা যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

​পে-স্কেল বাস্তবায়ন: অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন সুখবর

​পে-স্কেল বাস্তবায়ন: অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন সুখবর

আপডেট সময় ০৩:৫১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হচ্ছে। তিনটি বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রণয়নে পুনর্গঠিত কমিটি ধাপে ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে এবং আগামী ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপ কার্যকর হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। প্রস্তাবিত স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী পাচ্ছেন মাত্র ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন।

গত ২১ এপ্রিল সরকার জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন-সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করে। সম্প্রতি ওই কমিটি তাদের মতামত জমা দিয়েছে। কমিটির মতামতের ভিত্তিতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সচিব কমিটির সুপারিশের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আসন্ন বাজেটে এ জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হতে পারে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি করা হবে। তবে এ জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত দিতে হবে।’

প্রস্তাবিত বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত রাখা হয়েছে ১:৮, যা দেশের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বনিম্ন। তুলনামূলকভাবে দেখলে, ১৯৭৩ সালে প্রথম বেতন কমিশনে এই অনুপাত ছিল ১:১৫.৪ এবং ২০১৫ সালের সর্বশেষ বেতন কমিশনে ছিল ১:৯.৪।

বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারী মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং বাড়িভাড়া ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে মোট পান ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। প্রস্তাবিত বেতনস্কেলে ওই কর্মচারীর মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা এবং ভাতাসহ মোট বেতন দাঁড়াবে ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা।

একইভাবে ১৯তম গ্রেড থেকে ১ম গ্রেড পর্যন্ত ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, তবে যুক্তিসঙ্গত সমতা বিধানের স্বার্থে উচ্চতর গ্রেডে বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম হবে। যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা ও ঝুঁকি ভাতার মতো সুবিধাগুলো সাধারণত ১০ম বা ১১তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা পেয়ে থাকেন। পঞ্চম গ্রেড থেকে উপরের গ্রেডে প্রযোজ্য গাড়ি সেবা নগদায়ন ভাতা এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে, ফলে শতকরা হারে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ভাতা বৃদ্ধির হার কম দেখাবে।

সুপারিশে আরও বলা হয়েছে, নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে বর্তমানে প্রদত্ত ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা প্রচলিত নিয়মে সমন্বয় করা যেতে পারে।