ময়মনসিংহ , সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে নিউজিল্যান্ডের হাইকমিশনারের বৈঠক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরলেন জুলাই গ্রাফিতি অপসারণের নির্দেশ সিটি করপোরেশন দেয়নি জানিয়েছেন চসিক মেয়র পশ্চিমবঙ্গে বুলডোজার রাজনীতি চলবে না বললেন মমতা চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের চাকরি পেলেন ১২০ টাকায়, ২১ তরুণ-তরুণী লাঞ্চ বিরতিতেই বাংলাদেশের লিড আড়াইশ ছুঁই ছুঁই, কাঁপছে প্রতিপক্ষ! সেন্টমার্টিনে ১৬ লাখ টাকার সিমেন্ট জব্দ, আটক ৩৩ চুয়াডাঙ্গায় ভ্যান চুরিকে কেন্দ্র করে, ডেলিভারি বয়কে পিটিয়ে হত্যা পূর্বধলায় পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার ১ ​ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত: ৭ মিনিটের ইনজেকশন এবার ভারতে
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

​ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত: ৭ মিনিটের ইনজেকশন এবার ভারতে

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

ফুসফুসের ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে ভারত। দেশটিতে প্রথমবারের মতো মাত্র সাত মিনিটে প্রয়োগযোগ্য একটি ইমিউনোথেরাপি ইনজেকশন বাজারে আনা হয়েছে, যা ক্যানসার চিকিৎসাকে আরও দ্রুত ও সহজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্যমতে, রোশ ফার্মা ইন্ডিয়া ‘টেসেন্ট্রিক’ নামের এই নতুন ওষুধটি বাজারে এনেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে রোগীদের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি হাসপাতালের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগী এবং দূরবর্তী এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিরা এ পদ্ধতিতে বেশি সুবিধা পাবেন।

নতুন ইনজেকশনে ব্যবহৃত হয়েছে অ্যাটেজোলিজুমাব নামের একটি ওষুধ। এটি শরীরের ‘পিডি-এল১’ নামের একটি প্রোটিনকে ব্লক করে দেয়। সাধারণত ক্যানসার কোষ এই প্রোটিন ব্যবহার করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেয়। প্রোটিনটি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ কোষ ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, যেসব রোগীর টিউমারে পিডি-এল১-এর মাত্রা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর। প্রায় অর্ধেক এনএসসিএলসি রোগী এই থেরাপির উপযুক্ত হতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় ইমিউনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম। কারণ কেমোথেরাপি সুস্থ কোষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে, যেখানে ইমিউনোথেরাপি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করে।

তবে চিকিৎসা পদ্ধতিটি যতটা আধুনিক, এর খরচও ততটাই বেশি। ইনজেকশনটির প্রতি ডোজের মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি। একজন রোগীর সাধারণত ছয়টি ডোজ প্রয়োজন হয়, ফলে পুরো চিকিৎসার ব্যয় কয়েক লাখ রুপিতে পৌঁছাতে পারে।

এ কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই চিকিৎসা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা। খরচ কমাতে রোশ ফার্মা ‘ব্লু ট্রি’ নামে একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। পাশাপাশি এটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পের (সিজিএইচএস)-এর আওতায়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তারপরও বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত ক্যানসার চিকিৎসা সাধারণ মানুষের নাগালে আনতে সরকারি সহায়তা ও কম খরচের বিকল্প ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে নিউজিল্যান্ডের হাইকমিশনারের বৈঠক

​ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত: ৭ মিনিটের ইনজেকশন এবার ভারতে

আপডেট সময় ১১:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

ফুসফুসের ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে ভারত। দেশটিতে প্রথমবারের মতো মাত্র সাত মিনিটে প্রয়োগযোগ্য একটি ইমিউনোথেরাপি ইনজেকশন বাজারে আনা হয়েছে, যা ক্যানসার চিকিৎসাকে আরও দ্রুত ও সহজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্যমতে, রোশ ফার্মা ইন্ডিয়া ‘টেসেন্ট্রিক’ নামের এই নতুন ওষুধটি বাজারে এনেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে রোগীদের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি হাসপাতালের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগী এবং দূরবর্তী এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিরা এ পদ্ধতিতে বেশি সুবিধা পাবেন।

নতুন ইনজেকশনে ব্যবহৃত হয়েছে অ্যাটেজোলিজুমাব নামের একটি ওষুধ। এটি শরীরের ‘পিডি-এল১’ নামের একটি প্রোটিনকে ব্লক করে দেয়। সাধারণত ক্যানসার কোষ এই প্রোটিন ব্যবহার করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেয়। প্রোটিনটি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ কোষ ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, যেসব রোগীর টিউমারে পিডি-এল১-এর মাত্রা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর। প্রায় অর্ধেক এনএসসিএলসি রোগী এই থেরাপির উপযুক্ত হতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় ইমিউনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম। কারণ কেমোথেরাপি সুস্থ কোষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে, যেখানে ইমিউনোথেরাপি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করে।

তবে চিকিৎসা পদ্ধতিটি যতটা আধুনিক, এর খরচও ততটাই বেশি। ইনজেকশনটির প্রতি ডোজের মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি। একজন রোগীর সাধারণত ছয়টি ডোজ প্রয়োজন হয়, ফলে পুরো চিকিৎসার ব্যয় কয়েক লাখ রুপিতে পৌঁছাতে পারে।

এ কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই চিকিৎসা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা। খরচ কমাতে রোশ ফার্মা ‘ব্লু ট্রি’ নামে একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। পাশাপাশি এটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পের (সিজিএইচএস)-এর আওতায়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তারপরও বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত ক্যানসার চিকিৎসা সাধারণ মানুষের নাগালে আনতে সরকারি সহায়তা ও কম খরচের বিকল্প ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।