থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াতরা ব্যাংককের ক্লোং প্রেম সেন্ট্রাল প্রিজন থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। এক বছরের কারাদণ্ডের মধ্যে ইতিমধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সাজা ভোগ করায় এবং প্যারোলের শর্ত পূরণ হওয়ায় তাকে এই মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (১১ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন এবং সেখানে অপেক্ষমাণ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হন। কারামুক্তির পর তিনি ও তার পরিবার জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন এবং উপস্থিত সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটের দিকে গাড়িবহর নিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন।
কারা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত মাসে অনুষ্ঠিত প্যারোল কমিটির সভায় থাকসিনসহ ৮৫০ জনেরও বেশি বন্দির আগাম মুক্তির বিষয়টি অনুমোদন করা হয়। থাকসিনের বয়স বর্তমানে ৭৬ বছর এবং তার সাজার মেয়াদ এক বছরেরও কম অবশিষ্ট থাকায় বয়সজনিত ও আইনি কারণে তাকে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করছেন থাকসিন সিনাওয়াতরা।
এছাড়া আগামী ৯ সেপ্টেম্বর তার এক বছরের সাজার মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি থাইল্যান্ডের বাইরে বা অন্য কোনো দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন না। গত ২৯ এপ্রিল থাইল্যান্ডের বিচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত প্যারোল কমিটি ১১ মে তাকে মুক্তি দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
থাকসিন সিনাওয়াতরা থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি ২০০১ এবং ২০০৫ সালে দুই দফায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং ২০০৮ সাল থেকে তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন।
২০২৩ সালের আগস্টে তিনি থাইল্যান্ডে ফিরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং বিভিন্ন অভিযোগে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাজকীয় ক্ষমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার সাজা কমিয়ে এক বছর করা হয়।কারাগারে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা জানিয়ে তাকে দ্রুত পুলিশ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন যে তার হাসপাতালে কাটানো সময় সাজার অন্তর্ভুক্ত হবে না, যার ফলে তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরে যেতে হয়েছিল।
উল্লেখ্য, প্যারোলে মুক্তি পেলেও থাকসিনের ওপর এখনো রাজকীয় অবমাননার একটি পৃথক মামলা ঝুলছে। ২০১৫ সালে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের জের ধরে করা সেই মামলায় নিম্ন আদালতের খালাসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেল আপিল করেছেন।

ডিজিটাল ডেস্ক 






















