ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

গৌরীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বিদ্যুৎকর্মীর মৃত্যু: ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ও ফাঁসির দাবি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক লাইনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাসুদ করিম বাবু (৩০) নামে এক বিদ্যুৎকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

নিহত মাসুদ উপজেলার পূর্ব ভালুকা এলাকার মৃত আব্দুস সালামের বড় ছেলে।

এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও বিদ্যুৎ বিভাগের চরম গাফিলতি আখ্যা দিয়ে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পৌর শহরের বালুয়াপাড়া মোড়ে বৈদ্যুতিক লাইন মেরামতের জন্য খুঁটিতে ওঠেন মাসুদ করিম বাবু তখন তিনি বিদ্যুতায়িত হন এবং খুঁটি থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. লামিয়া ইসলাম জ্যুতি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক ২টার দিকে মাসুদের মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, দুর্ঘটনার সময় মাসুদের সঙ্গেই কাজ করছিলেন বিদ্যুৎকর্মী মো. খায়রুল মিয়া।

চোখের সামনে সহকর্মীকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে নিচে পড়ে যেতে দেখে তিনি তীব্র মানসিক আঘাত পান এবং স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ফিডার বন্ধ থাকার পরও কীভাবে সচল লাইনের মতো ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলো এই প্রশ্ন তুলে ক্ষুব্ধ গৌরীপুরবাসী রাস্তায় নেমে আসেন।

বুধবার দুপুর সাড়ে ৩টায় নিহত বাবুর ছবি সম্বলিত ব্যানার নিয়ে সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন শত শত স্থানীয় জনতা। এই ঘটনাকে গৌরীপুর বিদ্যুৎ বিভাগের ষড়যন্ত্রে হত্যাকাণ্ড” বলে উল্লেখ করেন এবং এই ঘটনার পেছনে দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানান।

এ সময় তারা গৌরীপুর থানায় অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি দেন।

লাইন বন্ধ থাকার পরও কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, জানতে চাইলে গৌরীপুর পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী লিটন মজুমদার বলেন, আমাদের অচিন্তপুর ফিডার ও খেলারমাঠ ফিডার বন্ধ ছিল। তবে ১১ হাজার ভোল্টের কোনো একটি লাইনে সম্ভবত লিকেজের কারণে বিদ্যুতের ‘ফিডব্যাক’ হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।

তবে নিহত মাসুদ পিডিবির নিয়মিত কর্মী না হওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে ১১ হাজার ভোল্টের মতো ঝুঁকিপূর্ণ লাইনে কাজ করতে দেওয়া হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিহত মাসুদ করিম বাবু আমাদের স্থায়ী বা নিয়োগপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন না। তবে আমাদের নিজস্ব লাইনম্যান না থাকলে প্রয়োজনের সময় তারা লাইনে কাজ করতেন।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

নিহতের মরদেহ বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব পেলেন ডা. জাহিদ

গৌরীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বিদ্যুৎকর্মীর মৃত্যু: ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ও ফাঁসির দাবি

আপডেট সময় ০৯:৫৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক লাইনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাসুদ করিম বাবু (৩০) নামে এক বিদ্যুৎকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

নিহত মাসুদ উপজেলার পূর্ব ভালুকা এলাকার মৃত আব্দুস সালামের বড় ছেলে।

এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও বিদ্যুৎ বিভাগের চরম গাফিলতি আখ্যা দিয়ে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পৌর শহরের বালুয়াপাড়া মোড়ে বৈদ্যুতিক লাইন মেরামতের জন্য খুঁটিতে ওঠেন মাসুদ করিম বাবু তখন তিনি বিদ্যুতায়িত হন এবং খুঁটি থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. লামিয়া ইসলাম জ্যুতি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক ২টার দিকে মাসুদের মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, দুর্ঘটনার সময় মাসুদের সঙ্গেই কাজ করছিলেন বিদ্যুৎকর্মী মো. খায়রুল মিয়া।

চোখের সামনে সহকর্মীকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে নিচে পড়ে যেতে দেখে তিনি তীব্র মানসিক আঘাত পান এবং স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ফিডার বন্ধ থাকার পরও কীভাবে সচল লাইনের মতো ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলো এই প্রশ্ন তুলে ক্ষুব্ধ গৌরীপুরবাসী রাস্তায় নেমে আসেন।

বুধবার দুপুর সাড়ে ৩টায় নিহত বাবুর ছবি সম্বলিত ব্যানার নিয়ে সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন শত শত স্থানীয় জনতা। এই ঘটনাকে গৌরীপুর বিদ্যুৎ বিভাগের ষড়যন্ত্রে হত্যাকাণ্ড” বলে উল্লেখ করেন এবং এই ঘটনার পেছনে দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানান।

এ সময় তারা গৌরীপুর থানায় অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি দেন।

লাইন বন্ধ থাকার পরও কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, জানতে চাইলে গৌরীপুর পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী লিটন মজুমদার বলেন, আমাদের অচিন্তপুর ফিডার ও খেলারমাঠ ফিডার বন্ধ ছিল। তবে ১১ হাজার ভোল্টের কোনো একটি লাইনে সম্ভবত লিকেজের কারণে বিদ্যুতের ‘ফিডব্যাক’ হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।

তবে নিহত মাসুদ পিডিবির নিয়মিত কর্মী না হওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে ১১ হাজার ভোল্টের মতো ঝুঁকিপূর্ণ লাইনে কাজ করতে দেওয়া হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিহত মাসুদ করিম বাবু আমাদের স্থায়ী বা নিয়োগপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন না। তবে আমাদের নিজস্ব লাইনম্যান না থাকলে প্রয়োজনের সময় তারা লাইনে কাজ করতেন।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

নিহতের মরদেহ বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”