সিলেট বিভাগে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম ও রুবেলা রোগীর সংখ্যা। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ জুন পর্যন্ত বিভাগজুড়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম ও রুবেলা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩০ জনে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলায়। একই সময়ে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীদের মধ্যে মোট ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আজ রোববার (২১ জুন) সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের সর্বশেষ হাম ও রুবেলা রোগীর প্রতিবেদন-২০২৬ থেকে এসব তথ্য জানা যায়।সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ আক্রান্ত স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া ৩৩০ জন রোগীর মধ্যে সুনামগঞ্জে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭৮ জন। এ ছাড়া সিলেট জেলায় ১০৭ জন, হবিগঞ্জে ২৯ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জের আক্রান্তদের মধ্যে দুজন রুবেলা রোগী রয়েছেন।গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও একজনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি মোট ৮৪ জন।
এ দিকে বিভাগজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৪ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৯ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৯ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১২ এবং অন্যান্য হাসপাতালে চারজন। বর্তমানে সিলেট বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৬১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালভিত্তিক রোগীর সংখ্যা:
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৪ জন,শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৬২ জন ও
অন্যান্য হাসপাতালে ১১৫ জন।
ছয় মাসে ৭৬ জনের মৃত্যু
চলতি বছরে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম ও রুবেলা আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীদের মধ্যে মোট ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু চারজন,সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যু ৭২ জন।
অপরদিকে জেলাভিত্তিক মৃত্যুর চিত্র সুনামগঞ্জ ৩১ জন, সিলেটে ২৯, মৌলভীবাজার ১০, হবিগঞ্জে ছয়জন; মোট জেলাভিত্তিক মৃতের সংখ্যা ৭৬ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন মৃত্যু নেই। তবে কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের কোথাও হাম বা রুবেলায় নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সময় সংবাদকে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ নজরদারি জোরদার করেছে। একইসঙ্গে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং টিকাদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

মাটি ও মানুষ ডেস্ক 


















