ময়মনসিংহ , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গণপিটুনিতে প্রাণ হারালেন টঙ্গীর যুবক, অভিযুক্ত ছিনতাইয়ের ​অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক্‌-নির্বাচনী পরীক্ষার নতুন সময়সূচী প্রকাশ জন্মদিনের বিশেষ ছবি প্রকাশ: আবারও আলোচনায় বিজয়-তৃষার প্রেম অন্য দেশ পারলে ইরান কেন ক্ষেপণাস্ত্র রাখতে পারবে না জানিয়েছেন শেহবাজ চীন সফরে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব বললেন রিজভী হত্যাচেষ্টা মামলা: কণ্ঠশিল্পী মমতাজ আবারও গ্রেপ্তার দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী ​ট্রাইব্যুনাল আইনের চ্যালেঞ্জ: হাইকোর্টে রিট দায়ের নকল পেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের আওতায় আনব বললেন শিক্ষামন্ত্রী বডি স্প্রের গন্ধে ক্লাসরুমে অসুস্থ ১৫ শিক্ষার্থী
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

চাঁদপুরে শিক্ষক পরিবারের চলাচলের পথে দেয়া কাঁটাযুক্ত বেড়া অপসারণ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে দীর্ঘ তিন মাস ধরে এক শিক্ষক পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ থাকার ঘটনায় অবশেষে হস্তক্ষেপ করেছে প্রশাসন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিপক্ষের দেয়া বাঁশ ও কাঁটাযুক্ত বেড়া খুলে দেয়ার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন।

গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাঁশ ও কাঁটাযুক্ত বেড়া অপসারণের নির্দেশ দেন। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে পথের ওপর দেয়া প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নেয়া হয়।এর আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উপজেলার ১৬ নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর সাহেবগঞ্জ এলাকার ফজল বেপারী বাড়ির বাসিন্দা ও সাহেবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তাছলিমা সুলতানার পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ বাঁশ ও কাঁটাযুক্ত বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, প্রায় তিন মাস ধরে তারা স্বাভাবিকভাবে বাড়িতে যাতায়াত করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যদের পুকুর সাঁতরে অথবা ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প পথ ব্যবহার করে বাড়িতে প্রবেশ করতে হয়েছে। এতে নারী ও শিশুদের নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে।

তাছলিমা সুলতানা অভিযোগ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে ছিলাম। একজন শিক্ষক হিসেবে প্রতিদিন বিদ্যালয় থেকে ফিরে নিজের ঘরে প্রবেশের জন্যও সংগ্রাম করতে হয়েছে। শুধু আমি নই আমার সন্তানদেরও একইভাবে কষ্ট করতে হয়েছে।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় আপাতত ঘটনাস্থলে দেয়া বাঁশ ও কাঁটাযুক্ত বেড়া অপসারণ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে উভয়পক্ষকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আলোচনায় বসা হবে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করেই মূলত এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। যারা বাঁশ ও কাঁটাযুক্ত বেড়া দিয়েছিল, তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি বুঝিয়ে সেগুলো অপসারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কাউকে দুর্ভোগে ফেলা উচিত নয়। তাই সেখানে দেয়া বাঁশ ও কাঁটাযুক্ত বেড়া অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর যে মামলা আদালতে রয়েছে, সেটি সংশ্লিষ্ট পক্ষ আদালতের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণপিটুনিতে প্রাণ হারালেন টঙ্গীর যুবক, অভিযুক্ত ছিনতাইয়ের

চাঁদপুরে শিক্ষক পরিবারের চলাচলের পথে দেয়া কাঁটাযুক্ত বেড়া অপসারণ

আপডেট সময় ১০:৪৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে দীর্ঘ তিন মাস ধরে এক শিক্ষক পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ থাকার ঘটনায় অবশেষে হস্তক্ষেপ করেছে প্রশাসন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিপক্ষের দেয়া বাঁশ ও কাঁটাযুক্ত বেড়া খুলে দেয়ার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন।

গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাঁশ ও কাঁটাযুক্ত বেড়া অপসারণের নির্দেশ দেন। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে পথের ওপর দেয়া প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নেয়া হয়।এর আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উপজেলার ১৬ নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর সাহেবগঞ্জ এলাকার ফজল বেপারী বাড়ির বাসিন্দা ও সাহেবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তাছলিমা সুলতানার পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ বাঁশ ও কাঁটাযুক্ত বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, প্রায় তিন মাস ধরে তারা স্বাভাবিকভাবে বাড়িতে যাতায়াত করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যদের পুকুর সাঁতরে অথবা ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প পথ ব্যবহার করে বাড়িতে প্রবেশ করতে হয়েছে। এতে নারী ও শিশুদের নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে।

তাছলিমা সুলতানা অভিযোগ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে ছিলাম। একজন শিক্ষক হিসেবে প্রতিদিন বিদ্যালয় থেকে ফিরে নিজের ঘরে প্রবেশের জন্যও সংগ্রাম করতে হয়েছে। শুধু আমি নই আমার সন্তানদেরও একইভাবে কষ্ট করতে হয়েছে।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় আপাতত ঘটনাস্থলে দেয়া বাঁশ ও কাঁটাযুক্ত বেড়া অপসারণ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে উভয়পক্ষকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আলোচনায় বসা হবে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করেই মূলত এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। যারা বাঁশ ও কাঁটাযুক্ত বেড়া দিয়েছিল, তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি বুঝিয়ে সেগুলো অপসারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কাউকে দুর্ভোগে ফেলা উচিত নয়। তাই সেখানে দেয়া বাঁশ ও কাঁটাযুক্ত বেড়া অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর যে মামলা আদালতে রয়েছে, সেটি সংশ্লিষ্ট পক্ষ আদালতের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করবে।