ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি, পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ৪ মৎস্যচাষীর মাঝে দেশীয় ছোট মাছ চাষের উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠিত এআই ক্যামেরায় দেড় হাজার মামলা হয়েছে জানালেন ডিএমপি কমিশনার বগুড়ায় কুকুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম, গ্রেফতার যুবক ইরানে সড়ক দুর্ঘটনায় আইআরজিসি নৌবাহিনীর মুখপাত্রের মৃত্যু মাদ্রাসাসহ বেতন বঞ্চিত শিক্ষকদের সমস্যার সমাধান শিগগিরই বললেন শিক্ষামন্ত্রী রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে আরও ২টি আউটলেট নির্মাণসহ নানামুখী উদ্যোগ ব্রাজিলকে নিয়ে রুমিন ফারহানার ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশের  পর অন্ধ আকলিমার পাশে ইউএনও, শফিকুল ইসলাম চট্টগ্রাম-৪ আসনে নতুন করে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে আরও ২টি আউটলেট নির্মাণসহ নানামুখী উদ্যোগ

রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে দখল হওয়া খাল উদ্ধার, পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ এবং নর্দমা ও বক্স কালভার্ট থেকে পলিথিন ও বর্জ্য অপসারণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

দ্রুত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় আরও দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ভারি বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা থেকে পোর্টেবল পাম্প এবং বিদ্যমান পাম্প স্টেশনের মাধ্যমে দ্রুত পানি অপসারণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ডিএসসিসির জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ চলছে। নগরীতে জমে থাকা বৃষ্টির পানি দ্রুত আশপাশের নদীতে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আশা করি, শিগ্‌গিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।
 
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, খাল থেকে ভাসমান বর্জ্য ও স্লাস অপসারণের কাজ অব্যাহত রয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএনসিসি’র আওতাধীন ২৯টি খাল দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ চলছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণে হটস্পটগুলোতে সাড়ে তিনশর বেশি কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন।
 
ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে কমলাপুর টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিলে তিনটি আউটলেট রয়েছে। এসব আউটলেট দিয়ে ১০৯.২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার পানি নিষ্কাশন হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ কারণে আরও দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
 
এছাড়াও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মেট্রো ঢাকা রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের আওতায় গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত নতুন একটি বৃহৎ নর্দমা (আউটলেট) নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া শ্যামপুর খালের পানি বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য খাল প্রকল্পের আওতায় বক্স কালভার্ট ও আট ফুট ব্যাসের বৃহৎ নর্দমা নির্মাণের কাজ চলছে বলে জানায় ডিএসসিসি।
 
ডিএসসিসি জানায়, নিউমার্কেট, নাইম রোড, গ্রিন রোড, শান্তিনগর, মুগদা মেডিকেল, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, মাজেদ সরদার রোড, পশ্চিম মালিবাগসহ প্রায় ৩৩টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ২২টি খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে খাল পরিষ্কার ও পুনঃখননের কাজ চলছে। চারটি বক্স কালভার্ট পরিষ্কার এবং ওয়ার্ডভিত্তিক নর্দমা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত পানি অপসারণে ছয়টি পোর্টেবল পাম্পও স্থাপন করা হয়েছে।
 
সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় কালুনগর, শ্যামপুর, জিরানী ও মান্ডা এলাকায় চারটি বৃহৎ খাল খননসহ টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে।
 

ডিএসসিসি আরও জানায়, ড্রেনেজ লাইনের মধ্যে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেট ও টেলিফোনের লাইন থাকায় অনেক ক্ষেত্রে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

 
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট (আইডব্লিউএফএম)-এর অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. সাইফুল ইসলাম বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নই ঢাকার জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। এছাড়া খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যে ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত বের হতে পারে না।
 
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী খনন, বর্ষার আগে ড্রেন পরিষ্কার, আবর্জনা ডাম্পিং (অপসারণ), সময়মতো পাম্প চালু এবং সিটি করপোরেশনগুলোর সমন্বিত ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
 
ডিএনসিসি জানায়, খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পের আওতায় খালের পানি নিকটবর্তী বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য আউটলেট নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে নর্দমা নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি খোলা ও সবুজ এলাকা বৃদ্ধি, পাম্প স্টেশনের সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন পাম্প স্টেশন স্থাপন এবং খাল ও নর্দমায় বর্জ্য ফেলা রোধে জনসচেতনতা ও আইন প্রয়োগের কার্যক্রমও চলছে।
 
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে দখল হওয়া খাল উদ্ধার, পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ এবং নর্দমা ও বক্স কালভার্ট থেকে পলি ও বর্জ্য অপসারণে দুই সিটি করপোরেশনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে।
 
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল দখল এবং পলিথিন ও আবর্জনায় ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি ঢাকার আশপাশের নদীতে পৌঁছাতে পারে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা সমাধানে খাল দখলমুক্ত করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বক্স কালভার্ট সচল করতে দুই সিটি করপোরেশনকে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।
 
ঢাকার জলাবদ্ধতার প্রধান হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে ধানমন্ডি-২৭, গ্রিন রোড, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, পলাশী এস এম হল এলাকা, সাকুরা মার্কেট, পশ্চিম মালিবাগ, খিলগাঁও ফ্লাইওভার থেকে মালিবাগ কমিউনিটি সেন্টার, আনন্দ বেকারি, মানিকনগর টিটিপাড়া পাম্প এলাকা, টিটিপাড়া ট্রাক স্টেশন, মুগদা মেডিকেল, গোপীবাগ বড় মসজিদ, কমলাপুর রেলস্টেশন, শাপলা চত্বর, নটর ডেম কলেজ, চানমারি মোড়, সবুজ কানন, শান্তিবাগ, পল্টন, দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, বুয়েট কোয়ার্টার, আগা সাদেক রোড, মাজেদ সরদার রোড, অভয়দাস লেন, আলমবাগ, পশ্চিম জুরাইন, মুদ্দিবাড়ী পাইপ রোড, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের দক্ষিণ পাশের সড়ক, জিয়া সরণি, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও, কাওরান বাজার ও ফার্মগেট।( সূত্র বাসস ) 

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি, পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে আরও ২টি আউটলেট নির্মাণসহ নানামুখী উদ্যোগ

আপডেট সময় ১২:২৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে দখল হওয়া খাল উদ্ধার, পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ এবং নর্দমা ও বক্স কালভার্ট থেকে পলিথিন ও বর্জ্য অপসারণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

দ্রুত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় আরও দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ভারি বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা থেকে পোর্টেবল পাম্প এবং বিদ্যমান পাম্প স্টেশনের মাধ্যমে দ্রুত পানি অপসারণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ডিএসসিসির জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ চলছে। নগরীতে জমে থাকা বৃষ্টির পানি দ্রুত আশপাশের নদীতে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আশা করি, শিগ্‌গিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।
 
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, খাল থেকে ভাসমান বর্জ্য ও স্লাস অপসারণের কাজ অব্যাহত রয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএনসিসি’র আওতাধীন ২৯টি খাল দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ চলছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণে হটস্পটগুলোতে সাড়ে তিনশর বেশি কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন।
 
ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে কমলাপুর টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিলে তিনটি আউটলেট রয়েছে। এসব আউটলেট দিয়ে ১০৯.২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার পানি নিষ্কাশন হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ কারণে আরও দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
 
এছাড়াও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মেট্রো ঢাকা রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের আওতায় গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত নতুন একটি বৃহৎ নর্দমা (আউটলেট) নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া শ্যামপুর খালের পানি বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য খাল প্রকল্পের আওতায় বক্স কালভার্ট ও আট ফুট ব্যাসের বৃহৎ নর্দমা নির্মাণের কাজ চলছে বলে জানায় ডিএসসিসি।
 
ডিএসসিসি জানায়, নিউমার্কেট, নাইম রোড, গ্রিন রোড, শান্তিনগর, মুগদা মেডিকেল, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, মাজেদ সরদার রোড, পশ্চিম মালিবাগসহ প্রায় ৩৩টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ২২টি খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে খাল পরিষ্কার ও পুনঃখননের কাজ চলছে। চারটি বক্স কালভার্ট পরিষ্কার এবং ওয়ার্ডভিত্তিক নর্দমা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত পানি অপসারণে ছয়টি পোর্টেবল পাম্পও স্থাপন করা হয়েছে।
 
সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় কালুনগর, শ্যামপুর, জিরানী ও মান্ডা এলাকায় চারটি বৃহৎ খাল খননসহ টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে।
 

ডিএসসিসি আরও জানায়, ড্রেনেজ লাইনের মধ্যে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেট ও টেলিফোনের লাইন থাকায় অনেক ক্ষেত্রে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

 
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট (আইডব্লিউএফএম)-এর অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. সাইফুল ইসলাম বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নই ঢাকার জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। এছাড়া খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যে ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত বের হতে পারে না।
 
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী খনন, বর্ষার আগে ড্রেন পরিষ্কার, আবর্জনা ডাম্পিং (অপসারণ), সময়মতো পাম্প চালু এবং সিটি করপোরেশনগুলোর সমন্বিত ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
 
ডিএনসিসি জানায়, খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পের আওতায় খালের পানি নিকটবর্তী বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য আউটলেট নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে নর্দমা নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি খোলা ও সবুজ এলাকা বৃদ্ধি, পাম্প স্টেশনের সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন পাম্প স্টেশন স্থাপন এবং খাল ও নর্দমায় বর্জ্য ফেলা রোধে জনসচেতনতা ও আইন প্রয়োগের কার্যক্রমও চলছে।
 
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে দখল হওয়া খাল উদ্ধার, পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ এবং নর্দমা ও বক্স কালভার্ট থেকে পলি ও বর্জ্য অপসারণে দুই সিটি করপোরেশনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে।
 
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল দখল এবং পলিথিন ও আবর্জনায় ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি ঢাকার আশপাশের নদীতে পৌঁছাতে পারে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা সমাধানে খাল দখলমুক্ত করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বক্স কালভার্ট সচল করতে দুই সিটি করপোরেশনকে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।
 
ঢাকার জলাবদ্ধতার প্রধান হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে ধানমন্ডি-২৭, গ্রিন রোড, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, পলাশী এস এম হল এলাকা, সাকুরা মার্কেট, পশ্চিম মালিবাগ, খিলগাঁও ফ্লাইওভার থেকে মালিবাগ কমিউনিটি সেন্টার, আনন্দ বেকারি, মানিকনগর টিটিপাড়া পাম্প এলাকা, টিটিপাড়া ট্রাক স্টেশন, মুগদা মেডিকেল, গোপীবাগ বড় মসজিদ, কমলাপুর রেলস্টেশন, শাপলা চত্বর, নটর ডেম কলেজ, চানমারি মোড়, সবুজ কানন, শান্তিবাগ, পল্টন, দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, বুয়েট কোয়ার্টার, আগা সাদেক রোড, মাজেদ সরদার রোড, অভয়দাস লেন, আলমবাগ, পশ্চিম জুরাইন, মুদ্দিবাড়ী পাইপ রোড, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের দক্ষিণ পাশের সড়ক, জিয়া সরণি, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও, কাওরান বাজার ও ফার্মগেট।( সূত্র বাসস )