ভারী বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের সীমান্ত জেলা প্লাবিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার অন্তত ৩০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গত সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে ঢলের তীব্র স্রোতে নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি বেইলি ব্রিজ ভেসে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপরের লোহার বেইলি ব্রিজটি পানির তোড়ে ভেঙে পড়ে। ব্রিজটি ভেঙে পড়ার সময় দুই শিশুসহ তিনজন পথচারী অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। ব্রিজটি বিধ্বস্ত হওয়ায় ওই এলাকার কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও ক্ষয়ক্ষতি
সড়ক যোগাযোগ বন্ধ: চেল্লাখালী নদীর পানি বাড়ায় শেরপুর-নালিতাবাড়ী-গাজীরখামার সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় সড়ক তলিয়ে গেছে। ফলে আজ সকাল থেকে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
নদীভাঙন: সোমেশ্বরী নদীর পানির স্রোতে আয়নাপুর ও কাড়াগাঁও এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
বাজার প্লাবিত: মহারশি নদীর পানি উপচে ঝিনাইগাতী সদর বাজারে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বক্তব্য
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী জানান, সোমবার সকাল ৯টায় চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৩২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে বিকেল থেকে বৃষ্টি কমে আসায় পানি নামতে শুরু করেছে। বিকেল তিনটায় চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
”নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হলে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”

শেরপুর প্রতিনিধি 
























