ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচির বিজ্ঞপ্তিটি অসত্য জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ​শহীদ দিবসের মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনায় তোলপাড়: রাতভর পাহারা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিলেন মমতা মামলা নিরসনে মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে বলেছেন আইনমন্ত্রী দক্ষিণাঞ্চলের দুই পদযাত্রার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনল এনসিপি হজযাত্রীদের বিমানভাড়া কমছে:ধর্মমন্ত্রী ​সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বড় লক্ষ্য: প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার বাংলাদেশের ​আগামী বছরের হজ প্যাকেজ ঘোষণা: সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন খরচ ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, নতুন দর কত? ​পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে আদালত চত্বর থেকে হাতকড়া খুলেই চম্পট দিল ডাকাত মুসলিম মায়ের অদম্য সংগ্রাম আর ত্যাগের ফলেই আজকের তারকা লামিনে ইয়ামাল
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

​শহীদ দিবসের মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনায় তোলপাড়: রাতভর পাহারা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিলেন মমতা

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে ভারতের কলকাতায় জাতীয় কংগ্রেসের বিভক্ত চার দল ও বিদ্রোহীরা ‘শহীদ দিবস’ পালন করছে আজ। মূল কংগ্রেস ও টুকরা হওয়া তিন দলই পৃথকভাবে দিনটি পালন করছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এই সময়ের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কলকাতার তারা মন্ডল বা বিড়লা প্লানেটরিয়ামের কাছে শহীদ দিবসের মঞ্চ তৈরি করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। গতকাল মঞ্চ তৈরির সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামধারী একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি অতর্কিতে হামলা চালিয়ে মঞ্চের সামনের পোস্টার, ব্যানার, ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলেন। এমনকি এসময় কর্মীদের মরধর করার অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে মঞ্চে ভাঙচুর ও হামলার খবর পেয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে মমতা মঞ্চ নির্মাণস্থলে যান। সারারাত তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। আজ সেখানে দিবসের মূল অনুষ্ঠানে তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন জাতীয় কংগ্রেসের অঙ্গসংগঠন যুব কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিং অভিমুখে যাত্রা করেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র।

সে সময়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বামফ্রন্ট নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। স্বরাষ্ট্রসচিব ছিলেন মণীশ গুপ্ত আর কলকাতার পুলিশ কমিশনার তুষার কান্তি তালুকদার।

সেদিনের গুলি চালানোর দায় মমতার দল রাজ্য সরকারের ওপর বর্তালেও সরকারিভাবে তা স্বীকার করা হয়নি। দাবি ওঠে, সেদিনের স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই পুলিশ গুলি চালিয়েছিল।

পরে ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর সাবেক বিচারপতি সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করা হলে কমিশন ৪৪ জনকে সাক্ষ্যের জন্য ডাকে। তাদের মধ্যে ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বিমান বসু, সোমেন মিত্র, প্রদীপ ভট্টাচার্য, মণীশ গুপ্ত, তুষার কান্তি তালুকদার প্রমুখ। তবে সেদিন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডাকা হয়নি।

পরে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তদন্ত কমিশন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা তা প্রকাশ্যে আনেননি। সেই প্রতিবেদনই গতকাল রাজ্য বিধানসভায় পেশ করেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিকে মমতাকে উদ্দেশ করে শুভেন্দু বলেন, ‘২১ জুলাইয়ের আবেগ ও শহীদের রক্ত ব্যবহার করে অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও রাজনৈতিক আখের গুছিয়েছেন। কিন্তু শহীদ পরিবারগুলো আজও উপেক্ষিত।’

১৯৯৩ সালের ওই ঘটনাকে স্মরণে রাখতে ১৯৯৮ সালে গঠিত তৃণমূল কংগ্রেস মূলত ২১ জুলাইকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে বড় পরিসরে পালন করে আসছে। ২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকে নিহত ১৩ জনের পরিবারকে মঞ্চে এনে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে এ সমাবেশ আয়োজন করত দলটি।

তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের চরম পরাজয় এবং দল ভেঙে তিন টুকরা হওয়ায় শহীদ দিবস পালনে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।

ফলে চারটি দলের ব্যানারে এবার শহীদ দিবস পালন হচ্ছে। কালীঘাটের তৃণমূল কংগ্রেস, যার নেতৃত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস দিনটি পালন করবে কলকাতার মেয়ো রোডের গান্ধী মূর্তির পাদদেশে আর জাতীয় কংগ্রেস কলকাতার ধর্মতলার শহীদ মিনার পাদদেশের ময়দানে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচির বিজ্ঞপ্তিটি অসত্য জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

​শহীদ দিবসের মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনায় তোলপাড়: রাতভর পাহারা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিলেন মমতা

আপডেট সময় ০২:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে ভারতের কলকাতায় জাতীয় কংগ্রেসের বিভক্ত চার দল ও বিদ্রোহীরা ‘শহীদ দিবস’ পালন করছে আজ। মূল কংগ্রেস ও টুকরা হওয়া তিন দলই পৃথকভাবে দিনটি পালন করছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এই সময়ের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কলকাতার তারা মন্ডল বা বিড়লা প্লানেটরিয়ামের কাছে শহীদ দিবসের মঞ্চ তৈরি করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। গতকাল মঞ্চ তৈরির সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামধারী একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি অতর্কিতে হামলা চালিয়ে মঞ্চের সামনের পোস্টার, ব্যানার, ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলেন। এমনকি এসময় কর্মীদের মরধর করার অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে মঞ্চে ভাঙচুর ও হামলার খবর পেয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে মমতা মঞ্চ নির্মাণস্থলে যান। সারারাত তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। আজ সেখানে দিবসের মূল অনুষ্ঠানে তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন জাতীয় কংগ্রেসের অঙ্গসংগঠন যুব কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিং অভিমুখে যাত্রা করেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র।

সে সময়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বামফ্রন্ট নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। স্বরাষ্ট্রসচিব ছিলেন মণীশ গুপ্ত আর কলকাতার পুলিশ কমিশনার তুষার কান্তি তালুকদার।

সেদিনের গুলি চালানোর দায় মমতার দল রাজ্য সরকারের ওপর বর্তালেও সরকারিভাবে তা স্বীকার করা হয়নি। দাবি ওঠে, সেদিনের স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই পুলিশ গুলি চালিয়েছিল।

পরে ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর সাবেক বিচারপতি সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করা হলে কমিশন ৪৪ জনকে সাক্ষ্যের জন্য ডাকে। তাদের মধ্যে ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বিমান বসু, সোমেন মিত্র, প্রদীপ ভট্টাচার্য, মণীশ গুপ্ত, তুষার কান্তি তালুকদার প্রমুখ। তবে সেদিন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডাকা হয়নি।

পরে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তদন্ত কমিশন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা তা প্রকাশ্যে আনেননি। সেই প্রতিবেদনই গতকাল রাজ্য বিধানসভায় পেশ করেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিকে মমতাকে উদ্দেশ করে শুভেন্দু বলেন, ‘২১ জুলাইয়ের আবেগ ও শহীদের রক্ত ব্যবহার করে অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও রাজনৈতিক আখের গুছিয়েছেন। কিন্তু শহীদ পরিবারগুলো আজও উপেক্ষিত।’

১৯৯৩ সালের ওই ঘটনাকে স্মরণে রাখতে ১৯৯৮ সালে গঠিত তৃণমূল কংগ্রেস মূলত ২১ জুলাইকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে বড় পরিসরে পালন করে আসছে। ২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকে নিহত ১৩ জনের পরিবারকে মঞ্চে এনে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে এ সমাবেশ আয়োজন করত দলটি।

তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের চরম পরাজয় এবং দল ভেঙে তিন টুকরা হওয়ায় শহীদ দিবস পালনে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।

ফলে চারটি দলের ব্যানারে এবার শহীদ দিবস পালন হচ্ছে। কালীঘাটের তৃণমূল কংগ্রেস, যার নেতৃত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস দিনটি পালন করবে কলকাতার মেয়ো রোডের গান্ধী মূর্তির পাদদেশে আর জাতীয় কংগ্রেস কলকাতার ধর্মতলার শহীদ মিনার পাদদেশের ময়দানে।