ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুরঘাটে অবৈধ কার্যক্রম রোধে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করতে গিয়ে এক অপ্রীতিকর ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযান চলাকালে স্বয়ং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সঙ্গীয় পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতেই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন এক বালু ইজারাদার কর্মকর্তা।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন ও ঘাট তদারকিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ঘাটে উপস্থিত এক যুবক মোবাইল কোর্টকে লক্ষ্য করে উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “আপনারা কারা?” উপস্থিত কর্মকর্তারা পরিচয় দিয়ে বলেন, “আমরা ম্যাজিস্ট্রেট!” এতে দমে না গিয়ে যুবকটি অত্যন্ত তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ সুরে জবাব দেন, “এমন ম্যাজিস্ট্রেট তো অনেকেই আসে! আসার আগে বলে আসবেন না?”
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, ঘটনা চলাকালে যুবকটির চোখে থাকা সানগ্লাস কপালে তোলা ছিল। ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও তিনি চেয়ার থেকে উঠতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং বারবার ফোনে কাউকে কল করার চেষ্টা করতে থাকেন। একটি উপজেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তার সামনে এমন বেপরোয়া আচরণ দেখে স্থানীয়রা হতবাক হয়ে যান।
উপজেলার সর্বময় নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে এমন আচরণে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে। স্থানীয়দের প্রশ্ন প্রশাসনের চোখে চোখ রেখে কথা বলার এই দুঃসাহস ও ক্ষমতার উৎস কোথায়? সে কি কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, নাকি কোনো জনপ্রতিনিধি বা উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তি ও মন্ত্রীর ছত্রছায়ায় রয়েছে?
এলাকাবাসীর দাবি, জমি ও বালু খেকো চক্রের দাপট নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে প্রশাসনিক অভিযানের সময় সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ত্রিশালের সচেতন মহল অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ টি এম মনিরুজ্জামান (মনির) 



















