ময়মনসিংহ , রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
লাইভে রাশেদ খাঁনের পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনা নিয়ে যা : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সংবিধান সংস্কার না করলে লাল কার্ড দেখতে হবে: আল্লামা মামুনুল হক ত্রিশালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে রেড ক্রিসেন্টের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার জামালপুর জেলা পুলিশের কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের সংঘর্ষে চালক নিহত শিবগঞ্জে প্রায় ৩ কোটি টাকার হেরোইনসহ ৬০ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার পাঁচবিবিতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ বেনাপোল সীমান্তে ২৮ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ: বিজিবি রুহিয়া টাঙ্গন ব্যারেজে মৎস্য উৎসবের শুভ উদ্বোধন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

শেরপুরে এইচএসসি ফলাফলে চরম বিপর্যয়, দুই কলেজে পাসের হার শূন্য

২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে শেরপুর জেলার কলেজগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম বৈষম্য। জেলার কোনো কোনো কলেজে পাসের হার ৯৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও দুটি কলেজের পাসের হার নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়। এ ছাড়া কয়েকটি কলেজে পাসের হার ১০ শতাংশেরও নিচে। এমন ফলাফল জেলার সামগ্রিক শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, শেরপুর জেলার কলেজগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে হাজী নুরুল হক পোড়াগাঁও মৈত্রী কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

অন্যদিকে, জেলার অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শেরপুর সরকারি কলেজে পাসের হার ৬৯ দশমিক ০২ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ অর্জনে এগিয়ে রয়েছে এ কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে সর্বোচ্চ ৮৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।

জেলার অন্যান্য কলেজের ফলাফলে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজে পাসের হার ৮০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। নালিতাবাড়ী শহীদ আব্দুর রশিদ মহিলা কলেজে পাসের হার ৫০ দশমিক ৮৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন। শ্রীবরদী সরকারি কলেজে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।

এ ছাড়া চন্দ্রকোনা কলেজে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ, চৌধুরী ছবরুন্নেছা মহিলা কলেজে ৪০ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ড. সেকান্দর আলী কলেজে ৩০ দশমিক ০২ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি থেকে একজন করে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

জেলার সবচেয়ে হতাশাজনক ফলাফল করেছে মনমথ দে কলেজ এবং আলহাজ্ব এস এম এ ওয়ারেজ নাইম মডেল কলেজ। প্রতিষ্ঠান দুটির পাসের হার মাত্র ০.০০ শতাংশ। অর্থাৎ, এ দুটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

এ ছাড়া ইসলাম নগর সেলামপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে পাসের হার মাত্র ২ দশমিক ২২ শতাংশ এবং সীমান্ত মডেল কলেজে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফল জেলার শিক্ষাঙ্গনে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি করেছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন হতাশাজনক ফলাফলের পেছনে পাঠদান কার্যক্রমের দুর্বলতা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং যথাযথ তদারকির ঘাটতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য কিংবা ১০ শতাংশের নিচে, সেসব কলেজের ফলাফল ও শিক্ষার পরিবেশ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

তাঁদের মতে, শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা, শিক্ষকদের জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং শিক্ষা কার্যক্রমে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লাইভে রাশেদ খাঁনের পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনা নিয়ে যা : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

শেরপুরে এইচএসসি ফলাফলে চরম বিপর্যয়, দুই কলেজে পাসের হার শূন্য

আপডেট সময় ০৯:২৭:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে শেরপুর জেলার কলেজগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম বৈষম্য। জেলার কোনো কোনো কলেজে পাসের হার ৯৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও দুটি কলেজের পাসের হার নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়। এ ছাড়া কয়েকটি কলেজে পাসের হার ১০ শতাংশেরও নিচে। এমন ফলাফল জেলার সামগ্রিক শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, শেরপুর জেলার কলেজগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে হাজী নুরুল হক পোড়াগাঁও মৈত্রী কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

অন্যদিকে, জেলার অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শেরপুর সরকারি কলেজে পাসের হার ৬৯ দশমিক ০২ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ অর্জনে এগিয়ে রয়েছে এ কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে সর্বোচ্চ ৮৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।

জেলার অন্যান্য কলেজের ফলাফলে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজে পাসের হার ৮০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। নালিতাবাড়ী শহীদ আব্দুর রশিদ মহিলা কলেজে পাসের হার ৫০ দশমিক ৮৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন। শ্রীবরদী সরকারি কলেজে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।

এ ছাড়া চন্দ্রকোনা কলেজে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ, চৌধুরী ছবরুন্নেছা মহিলা কলেজে ৪০ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ড. সেকান্দর আলী কলেজে ৩০ দশমিক ০২ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি থেকে একজন করে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

জেলার সবচেয়ে হতাশাজনক ফলাফল করেছে মনমথ দে কলেজ এবং আলহাজ্ব এস এম এ ওয়ারেজ নাইম মডেল কলেজ। প্রতিষ্ঠান দুটির পাসের হার মাত্র ০.০০ শতাংশ। অর্থাৎ, এ দুটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

এ ছাড়া ইসলাম নগর সেলামপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে পাসের হার মাত্র ২ দশমিক ২২ শতাংশ এবং সীমান্ত মডেল কলেজে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফল জেলার শিক্ষাঙ্গনে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি করেছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন হতাশাজনক ফলাফলের পেছনে পাঠদান কার্যক্রমের দুর্বলতা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং যথাযথ তদারকির ঘাটতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য কিংবা ১০ শতাংশের নিচে, সেসব কলেজের ফলাফল ও শিক্ষার পরিবেশ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

তাঁদের মতে, শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা, শিক্ষকদের জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং শিক্ষা কার্যক্রমে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করতে হবে।