মাত্র ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তিন দিনের জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট সিম এক অটোচালকের কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন এক চা দোকানদার। অথচ সেই সিমের মাধ্যমে মাত্র তিন দিনেই ২ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ৮০১ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে সিমটির মালিক মো. লিটন হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য জানান। এর আগে গত বুধবার সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নেওয়ার পর লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. লিটন হাওলাদার খুলনার খালিশপুরের বড় বয়রা পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বৈকালী এলাকার ‘লিটন টি-স্টল’-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন।সিআইডি সূত্রে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে শেখ সাখির আহম্মেদ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ১৪ জন দোকানদারের নাম পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরেই লিটনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তে সামনে আসে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিটন জানান, নিজের নামে নিবন্ধিত বিকাশ ও নগদের এজেন্ট সিমটি খুলনার বয়রা এলাকার হানিফ নামের এক অটোচালকের কাছে ১০ হাজার টাকায় মাত্র তিন দিনের জন্য ভাড়া দিয়েছিলেন তিনি।
পরবর্তীতে ওই সিমের বিকাশ অ্যাকাউন্টের লেনদেন পর্যালোচনা করে সিআইডি দেখতে পায়, গত ৭ থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র তিন দিনে অ্যাকাউন্টটিতে ২ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ৮০১ টাকা লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেন অনলাইন জুয়ার সাইটের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
সিআইডির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে লিটন অর্থের বিনিময়ে নিজের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম অনলাইন জুয়ার কাজে ভাড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোন ও একটি বিকাশ/নগদের এজেন্ট সিম জব্দ করা হয়।
ঘটনাটি ঘিরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট সিম ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে কীভাবে অপরাধ চক্রগুলো বিপুল অঙ্কের অর্থ অবৈধ লেনদেনে ব্যবহার করছে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ডিজিটাল ডেস্ক 


















