ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দুদেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থার সম্পর্ক শক্তিশালী বলেছেন প্রণয় ভার্মা পহেলা বৈশাখ: ঢাবিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ডিএমপি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি নির্দেশনা নববর্ষের আবাহন : ঐতিহ্যের পথ বেয়ে আধুনিকতার উৎসবে ভিসার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির বাংলা নববর্ষ ঘিরে কোনো নাশকতার শঙ্কা নেই জানিয়েছেন র‌্যাব মহাপরিচালক জামিন পেলেন বাউলশিল্পী আবুল সরকার ​দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: ২০ এপ্রিল নিজ জন্মভূমি বগুড়া সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুদ্ধ নয়, কেবল ‘সতর্কবার্তা’? ইরানে সীমিত হামলার পরিকল্পনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের। বিকেলে নুসুক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের ডিএনএ ল্যাবরেটরি করা হবে বলেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র জানিয়েছেন গোলাম পরওয়ার

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:১৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া দেশের সকল মহানগরের স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। 

আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘জাতিকে মেধাশূন্য করার এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, গত ৩১ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় ঢাকাসহ সকল মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও অপরিণামদর্শী। জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এই ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া মূলত তাদের শিক্ষাজীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার শামিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বিবৃতিতে অনলাইননির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার নানা নেতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেন, এর ফলে শিক্ষার্থীরা বহুমুখী ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ইন্টারনেটের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী মূল শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং অনলাইন ক্লাসের নামে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে পড়ে।

বিবৃতিতে বিগত কোভিড-১৯ কালীন অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট ২০২২’-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনলাইন ক্লাসের কারণে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বাংলা ও গণিতে কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সচ্ছল অঞ্চলের তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে এবং ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থার জরিপে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার ও শিশুশ্রম বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের নতুন শিক্ষাক্রমের অপরিকল্পিত বাস্তবায়ন এবং জুলাই বিপ্লব পরবর্তী অনিশ্চয়তার কারণে শিক্ষাখাতের যে ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে আবারও অনলাইন ক্লাসে ফিরে যাওয়া আত্মঘাতী হবে।

জ্বালানি সংকটের দোহাই দিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস করার প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল প্রশ্ন তোলেন  রাষ্ট্রের বিলাসিতাসহ অন্য সব খাত সচল রেখে কেন কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে? তিনি সরকারকে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সবশেষে তিনি অবিলম্বে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সকল শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত ও সশরীরে পাঠদান নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুদেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থার সম্পর্ক শক্তিশালী বলেছেন প্রণয় ভার্মা

অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র জানিয়েছেন গোলাম পরওয়ার

আপডেট সময় ০২:১৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া দেশের সকল মহানগরের স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। 

আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘জাতিকে মেধাশূন্য করার এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, গত ৩১ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় ঢাকাসহ সকল মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও অপরিণামদর্শী। জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এই ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া মূলত তাদের শিক্ষাজীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার শামিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বিবৃতিতে অনলাইননির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার নানা নেতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেন, এর ফলে শিক্ষার্থীরা বহুমুখী ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ইন্টারনেটের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী মূল শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং অনলাইন ক্লাসের নামে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে পড়ে।

বিবৃতিতে বিগত কোভিড-১৯ কালীন অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট ২০২২’-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনলাইন ক্লাসের কারণে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বাংলা ও গণিতে কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সচ্ছল অঞ্চলের তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে এবং ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থার জরিপে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার ও শিশুশ্রম বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের নতুন শিক্ষাক্রমের অপরিকল্পিত বাস্তবায়ন এবং জুলাই বিপ্লব পরবর্তী অনিশ্চয়তার কারণে শিক্ষাখাতের যে ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে আবারও অনলাইন ক্লাসে ফিরে যাওয়া আত্মঘাতী হবে।

জ্বালানি সংকটের দোহাই দিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস করার প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল প্রশ্ন তোলেন  রাষ্ট্রের বিলাসিতাসহ অন্য সব খাত সচল রেখে কেন কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে? তিনি সরকারকে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সবশেষে তিনি অবিলম্বে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সকল শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত ও সশরীরে পাঠদান নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।