ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দুদেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থার সম্পর্ক শক্তিশালী বলেছেন প্রণয় ভার্মা পহেলা বৈশাখ: ঢাবিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ডিএমপি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি নির্দেশনা নববর্ষের আবাহন : ঐতিহ্যের পথ বেয়ে আধুনিকতার উৎসবে ভিসার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির বাংলা নববর্ষ ঘিরে কোনো নাশকতার শঙ্কা নেই জানিয়েছেন র‌্যাব মহাপরিচালক জামিন পেলেন বাউলশিল্পী আবুল সরকার ​দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: ২০ এপ্রিল নিজ জন্মভূমি বগুড়া সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুদ্ধ নয়, কেবল ‘সতর্কবার্তা’? ইরানে সীমিত হামলার পরিকল্পনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের। বিকেলে নুসুক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের ডিএনএ ল্যাবরেটরি করা হবে বলেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

গৌরীপুরে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ১২ বছরেও পূর্ণাঙ্গ রূপ পাইনি

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় আধুনিক মাতৃস্বাস্থ্য সেবার স্বপ্ন নিয়ে নির্মিত ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি এক যুগেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। জনবল সংকট আর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে প্রায় ১২ বছর আগে নির্মিত এই হাসপাতালটির সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেই গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৬৩ জন প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) সম্পন্ন করে আশার আলো দেখাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের এপ্রিলে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালের অক্টোবরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল ও আবাসিক ভবন নির্মাণ শেষে স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০১৭ সাল থেকে নামমাত্র ইনডোর (আন্তঃবিভাগ) সেবা শুরু হলেও অ্যানেসথেসিয়া ও গাইনি বিশেষজ্ঞের অভাবে আজও সচল হয়নি অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। ফলে জরুরি সিজারিয়ান সেবার প্রয়োজন হলে দরিদ্র রোগীদের বাধ্য হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল বা জেলা শহরের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালটিতে পদের বিপরীতে জনবল নেই বললেই চলে। বর্তমানে ২ জন চিকিৎসকের স্থলে আছেন মাত্র ১ জন। ৪ জন পরিদর্শকের জায়গায় কাজ করছেন ২ জন। আয়া ও নৈশপ্রহরীর পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। একমাত্র ফার্মাসিস্ট বগুড়ায় এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ময়মনসিংহে প্রেষণে কর্মরত আছেন। বর্তমানে আউটসোর্সিং ও চুক্তিভিত্তিক কর্মী দিয়ে কোনোমতে চলছে দাপ্তরিক কাজ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন তলাবিশিষ্ট এই কেন্দ্রের নিচতলায় বহির্বিভাগের চিকিৎসা চললেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় অবস্থিত ওটি এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম কক্ষগুলো আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে অকেজো পড়ে আছে। আবাসিক ভবনটি অব্যবহৃত থাকায় সেখানে মাদকসেবী ও চোরদের উপদ্রব বেড়েছে। মাদকসেবীরা ভবনের গ্রিল, দরজা-জানালা ও শৌচাগারের ফিটিংস চুরি করে নিয়ে গেছে। আবাসিক সুবিধা না থাকায় ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

“এখানে আমরা ২৪ ঘণ্টা নরমাল ডেলিভারি সেবা দিচ্ছি। কিন্তু জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে কাজ করতে চরম বিঘ্ন ঘটে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় আমরা সিজার করতে পারছি না।” — ডাঃ তাহসিন কামাল প্রমী, মেডিকেল অফিসার।

মেডিকেল অফিসার ডাঃ তাহসিন কামাল আরও জানান, আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা গত ২৫ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না, যা অত্যন্ত অমানবিক। তিনি দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ ও বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুদেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থার সম্পর্ক শক্তিশালী বলেছেন প্রণয় ভার্মা

গৌরীপুরে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ১২ বছরেও পূর্ণাঙ্গ রূপ পাইনি

আপডেট সময় ১০:২৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় আধুনিক মাতৃস্বাস্থ্য সেবার স্বপ্ন নিয়ে নির্মিত ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি এক যুগেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। জনবল সংকট আর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে প্রায় ১২ বছর আগে নির্মিত এই হাসপাতালটির সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেই গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৬৩ জন প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) সম্পন্ন করে আশার আলো দেখাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের এপ্রিলে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালের অক্টোবরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল ও আবাসিক ভবন নির্মাণ শেষে স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০১৭ সাল থেকে নামমাত্র ইনডোর (আন্তঃবিভাগ) সেবা শুরু হলেও অ্যানেসথেসিয়া ও গাইনি বিশেষজ্ঞের অভাবে আজও সচল হয়নি অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। ফলে জরুরি সিজারিয়ান সেবার প্রয়োজন হলে দরিদ্র রোগীদের বাধ্য হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল বা জেলা শহরের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালটিতে পদের বিপরীতে জনবল নেই বললেই চলে। বর্তমানে ২ জন চিকিৎসকের স্থলে আছেন মাত্র ১ জন। ৪ জন পরিদর্শকের জায়গায় কাজ করছেন ২ জন। আয়া ও নৈশপ্রহরীর পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। একমাত্র ফার্মাসিস্ট বগুড়ায় এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ময়মনসিংহে প্রেষণে কর্মরত আছেন। বর্তমানে আউটসোর্সিং ও চুক্তিভিত্তিক কর্মী দিয়ে কোনোমতে চলছে দাপ্তরিক কাজ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন তলাবিশিষ্ট এই কেন্দ্রের নিচতলায় বহির্বিভাগের চিকিৎসা চললেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় অবস্থিত ওটি এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম কক্ষগুলো আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে অকেজো পড়ে আছে। আবাসিক ভবনটি অব্যবহৃত থাকায় সেখানে মাদকসেবী ও চোরদের উপদ্রব বেড়েছে। মাদকসেবীরা ভবনের গ্রিল, দরজা-জানালা ও শৌচাগারের ফিটিংস চুরি করে নিয়ে গেছে। আবাসিক সুবিধা না থাকায় ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

“এখানে আমরা ২৪ ঘণ্টা নরমাল ডেলিভারি সেবা দিচ্ছি। কিন্তু জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে কাজ করতে চরম বিঘ্ন ঘটে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় আমরা সিজার করতে পারছি না।” — ডাঃ তাহসিন কামাল প্রমী, মেডিকেল অফিসার।

মেডিকেল অফিসার ডাঃ তাহসিন কামাল আরও জানান, আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা গত ২৫ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না, যা অত্যন্ত অমানবিক। তিনি দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ ও বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।