ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দুদেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থার সম্পর্ক শক্তিশালী বলেছেন প্রণয় ভার্মা পহেলা বৈশাখ: ঢাবিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ডিএমপি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি নির্দেশনা নববর্ষের আবাহন : ঐতিহ্যের পথ বেয়ে আধুনিকতার উৎসবে ভিসার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির বাংলা নববর্ষ ঘিরে কোনো নাশকতার শঙ্কা নেই জানিয়েছেন র‌্যাব মহাপরিচালক জামিন পেলেন বাউলশিল্পী আবুল সরকার ​দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: ২০ এপ্রিল নিজ জন্মভূমি বগুড়া সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুদ্ধ নয়, কেবল ‘সতর্কবার্তা’? ইরানে সীমিত হামলার পরিকল্পনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের। বিকেলে নুসুক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের ডিএনএ ল্যাবরেটরি করা হবে বলেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

দ্বীনি শিক্ষার নিভৃত সাধক মাওলানা আহমদ হোসাইন আর নেই

একটি প্রদীপের আলো নিভে গেলে চারপাশ অন্ধকারে ছেয়ে যায়, কিন্তু একটি আদর্শিক বটবৃক্ষের পতন ঘটলে শূন্যতা তৈরি হয় জনপদে।বৃহত্তর ময়মনসিংহের দ্বীনি শিক্ষার আকাশে তেমনি এক নক্ষত্রের পতন ঘটলো। ৯৬ বছরের এক দীর্ঘ ও বরকতময় জীবনের ইতি টেনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন জামিয়া ক্বাওমীয়া দারুল উলুম সেহলা মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও প্রবীণ আলেমে দ্বীন মাওলানা আহমদ হোসাইন পীর সাহেব।

আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালের সূর্য যখন কেবল উঁকি দিচ্ছে, ঠিক তখনই ৬টা ৫০ মিনিটে সেহলার সেই চেনা আঙিনায় নেমে আসে বিষাদের ছায়া। বার্ধক্যজনিত রোগ আর শারীরিক অসুস্থতাকে সঙ্গী করে অবশেষে চিরবিদায় নিলেন মাওলানা আহমদ হোসাইন পীর সাহেব।

হোগলা ইউনিয়নের দামপাড়া গ্রামের মাওলানা আব্দুল মান্নানের ঘরে জন্ম নেওয়া আহমদ হোসাইনের শৈশব কেটেছে সাধারণ শিক্ষার সংস্পর্শে। তার মনের গহীনে দানা বাঁধে দ্বীনি শিক্ষার পিপাসা। সেই টানেই ভর্তি হন সেহলা মাদরাসায়। পরবর্তীতে বালিয়া, ইসলামপুর ও সোহাগী মাদরাসার পাঠ চুকিয়ে অর্জন করেন ‘দাওরায়ে হাদিস’ ডিগ্রি।

মাওলানা আহমদ হোসাইন কেবল একজন শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন আধ্যাত্মিক পথের দিশারি। ময়মনসিংহ বড় মসজিদের সাবেক পেশ ইমাম মাওলানা ফয়জুর রহমান (রহ.)-এর কাছ থেকে খেলাফত লাভের পর তিনি হয়ে ওঠেন অঞ্চলের মানুষের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু। তার সান্নিধ্যে এসে অসংখ্য মানুষ খুঁজে পেয়েছেন সত্যের পথ। শায়খুল হাদিস হিসেবে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে তিনি পড়িয়েছেন নবীজির অমীয় বাণী।

মাওলানা আহমদ হোসাইন বিশ্বাস করতেন, ইসলাম কেবল তসবিহ পাঠের নাম নয়, বরং সমাজের অসঙ্গতি দূর করার নাম। সেই তাড়না থেকেই তিনি বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। চারদলীয় জোটের সময় এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।

৭ পুত্র ও ৪ কন্যাসহ অসংখ্য ছাত্র-মুরিদ রেখে যাওয়া এই আলেমের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পুরো নেত্রকোনায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংবাদিক সমাজ—সবাই আজ বাকরুদ্ধ। প্রিয় উস্তাদকে শেষ দেখা দেখতে আজ বিকেলে মানুষের ঢল নামবে সেই সেহলা মাদরাসা মাঠে, যেখানে তিনি জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো বিলিয়ে দিয়েছিলেন।

আজ ​বিকেল সাড়ে ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে তার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। দেহ নশ্বর, কিন্তু মাওলানা আহমদ হোসাইন পীর সাহেব বেঁচে থাকবেন তার রেখে যাওয়া আদর্শ, অসংখ্য ছাত্র আর ভক্তদের হৃদয়ে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুদেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থার সম্পর্ক শক্তিশালী বলেছেন প্রণয় ভার্মা

দ্বীনি শিক্ষার নিভৃত সাধক মাওলানা আহমদ হোসাইন আর নেই

আপডেট সময় ০৪:০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

একটি প্রদীপের আলো নিভে গেলে চারপাশ অন্ধকারে ছেয়ে যায়, কিন্তু একটি আদর্শিক বটবৃক্ষের পতন ঘটলে শূন্যতা তৈরি হয় জনপদে।বৃহত্তর ময়মনসিংহের দ্বীনি শিক্ষার আকাশে তেমনি এক নক্ষত্রের পতন ঘটলো। ৯৬ বছরের এক দীর্ঘ ও বরকতময় জীবনের ইতি টেনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন জামিয়া ক্বাওমীয়া দারুল উলুম সেহলা মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও প্রবীণ আলেমে দ্বীন মাওলানা আহমদ হোসাইন পীর সাহেব।

আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালের সূর্য যখন কেবল উঁকি দিচ্ছে, ঠিক তখনই ৬টা ৫০ মিনিটে সেহলার সেই চেনা আঙিনায় নেমে আসে বিষাদের ছায়া। বার্ধক্যজনিত রোগ আর শারীরিক অসুস্থতাকে সঙ্গী করে অবশেষে চিরবিদায় নিলেন মাওলানা আহমদ হোসাইন পীর সাহেব।

হোগলা ইউনিয়নের দামপাড়া গ্রামের মাওলানা আব্দুল মান্নানের ঘরে জন্ম নেওয়া আহমদ হোসাইনের শৈশব কেটেছে সাধারণ শিক্ষার সংস্পর্শে। তার মনের গহীনে দানা বাঁধে দ্বীনি শিক্ষার পিপাসা। সেই টানেই ভর্তি হন সেহলা মাদরাসায়। পরবর্তীতে বালিয়া, ইসলামপুর ও সোহাগী মাদরাসার পাঠ চুকিয়ে অর্জন করেন ‘দাওরায়ে হাদিস’ ডিগ্রি।

মাওলানা আহমদ হোসাইন কেবল একজন শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন আধ্যাত্মিক পথের দিশারি। ময়মনসিংহ বড় মসজিদের সাবেক পেশ ইমাম মাওলানা ফয়জুর রহমান (রহ.)-এর কাছ থেকে খেলাফত লাভের পর তিনি হয়ে ওঠেন অঞ্চলের মানুষের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু। তার সান্নিধ্যে এসে অসংখ্য মানুষ খুঁজে পেয়েছেন সত্যের পথ। শায়খুল হাদিস হিসেবে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে তিনি পড়িয়েছেন নবীজির অমীয় বাণী।

মাওলানা আহমদ হোসাইন বিশ্বাস করতেন, ইসলাম কেবল তসবিহ পাঠের নাম নয়, বরং সমাজের অসঙ্গতি দূর করার নাম। সেই তাড়না থেকেই তিনি বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। চারদলীয় জোটের সময় এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।

৭ পুত্র ও ৪ কন্যাসহ অসংখ্য ছাত্র-মুরিদ রেখে যাওয়া এই আলেমের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পুরো নেত্রকোনায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংবাদিক সমাজ—সবাই আজ বাকরুদ্ধ। প্রিয় উস্তাদকে শেষ দেখা দেখতে আজ বিকেলে মানুষের ঢল নামবে সেই সেহলা মাদরাসা মাঠে, যেখানে তিনি জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো বিলিয়ে দিয়েছিলেন।

আজ ​বিকেল সাড়ে ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে তার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। দেহ নশ্বর, কিন্তু মাওলানা আহমদ হোসাইন পীর সাহেব বেঁচে থাকবেন তার রেখে যাওয়া আদর্শ, অসংখ্য ছাত্র আর ভক্তদের হৃদয়ে।