ময়মনসিংহ , সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় ভাড়া বেশির নজির পাওয়া যায়নি, কোথাও কোথাও কম নেওয়া হচ্ছে জানিয়েছেন সড়কমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৈয়দপুরে পৌঁছেছেন পরিকল্পিত ৫ নং ওয়ার্ড গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী গোলাম মোস্তফা বাবু চৌধুরী পূর্বধলায় অসহায় পরিবারের পাশে ‘স্বর্ণ সুধা যুব উন্নয়ন সমিতি’ আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে কদর যশোরের দুই মহাসড়কে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে প্রাণ গেল দুজনের নদীবন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত,ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা খুনের হুমকি বাদশাহকে
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

নোয়াখালী স্বাধীনতার পর প্রথমবার মন্ত্রীশূন্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জয় এনে দিয়েও নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের নীরব অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিজয়ের উচ্ছ্বাস ম্লান করে দিয়েছে মন্ত্রিসভার তালিকা প্রকাশের পরের বাস্তবতা। স্থানীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থকদের অনেকেই বিষয়টিকে কেবল পদবঞ্চনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবদানের মূল্যায়নের প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন।

গত মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোয়াখালী ইস্যুটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। দলীয় কর্মীদের পোস্ট, সমর্থকদের মন্তব্য এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়—জেলার মানুষের প্রত্যাশা ছিল অন্তত একজন হলেও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবেন।

নির্বাচনে জয়ী নেতাদের অভিজ্ঞতার দিক থেকেও নোয়াখালী পিছিয়ে ছিল না। নোয়াখালী-২ আসনের জয়নুল আবদিন ফারুক ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বরকতউল্লা বুলু ও মো. শাহজাহান পাঁচবার করে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এম মাহবুব উদ্দিন খোকন দ্বিতীয়বার এবং মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন–সংগ্রামে সম্পৃক্ততা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তাদের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় ছিল।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়ায় ফুটে উঠেছে আবেগ ও বাস্তবতার মিশ্র সুর। জেলা সদরের ক্রীড়া সংগঠক মো. জহীর উদ্দিন মনে করেন, পাঁচটি আসনে ধানের শীষের বিজয় নোয়াখালীর পরীক্ষিত নেতৃত্বের স্বীকৃতি। তাই মন্ত্রিসভায় অন্তত একজনের অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাশিত ছিল। ব্যবসায়ী আশরাফুল এজাজ নতুন মন্ত্রিসভায় নবীন–প্রবীণের সমন্বয়কে ইতিবাচক বললেও জেলার অনুপস্থিতিকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, দলকে ধারাবাহিকভাবে আসন উপহার দেওয়া একটি জেলার এমন বঞ্চনা দুঃখজনক। প্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ শফিক আন্দোলনের সময়কার ত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের সময় আঞ্চলিক ভারসাম্য, দক্ষতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা—সবকিছু মিলিয়ে একটি সমন্বিত হিসাব করা হয়। ফলে কোনো জেলার শক্ত নির্বাচনী ফলাফল থাকলেও তা সরাসরি মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে না। তবুও নোয়াখালীর মতো ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়ায় রাজনৈতিক বার্তা কী গেল—সেই প্রশ্ন উঠছে।

স্থানীয় উন্নয়ন–ভাবনাও এই আলোচনায় যুক্ত হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের নেতা আব্দুজ জাহের মনে করেন, নোয়াখালী বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও বিমানবন্দরসহ বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিসভায় জেলার প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন। তার মতে, বর্ধিত মন্ত্রিসভায় এই শূন্যতা পূরণ হতে পারে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীরের বক্তব্যে তৃণমূলের অনুভূতির প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। তবে প্রকাশ্যে ক্ষোভ থাকলেও দলীয় শৃঙ্খলার কারণে কেউই বিষয়টিকে সংঘাতমুখী করতে চান না—এটিও স্পষ্ট।

তবে পুরো পরিস্থিতি একপাক্ষিক হতাশার নয়। অনেকেই মনে করছেন, প্রথম দফার মন্ত্রিসভা ঘোষণায় কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণে নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব আসতে পারে। নতুন সরকার দক্ষতা ও কার্যকারিতার মাধ্যমে আস্থা অর্জন করতে পারলে আঞ্চলিক বঞ্চনার এই আলোচনা ধীরে ধীরে প্রশমিত হবে বলেও তাদের বিশ্বাস।

স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর কোনো প্রতিনিধি না থাকায় জেলার রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি নতুন প্রশ্ন সামনে এসেছে—দলীয় অবদান, নির্বাচনী সাফল্য এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদারত্বের সমীকরণ কীভাবে নির্ধারিত হবে। সেই উত্তর মিলবে হয় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে, নয়তো সরকারের নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে জেলার বাস্তব উন্নয়নের প্রতিফলনে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদযাত্রায় ভাড়া বেশির নজির পাওয়া যায়নি, কোথাও কোথাও কম নেওয়া হচ্ছে জানিয়েছেন সড়কমন্ত্রী

নোয়াখালী স্বাধীনতার পর প্রথমবার মন্ত্রীশূন্য

আপডেট সময় ০৯:০৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জয় এনে দিয়েও নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের নীরব অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিজয়ের উচ্ছ্বাস ম্লান করে দিয়েছে মন্ত্রিসভার তালিকা প্রকাশের পরের বাস্তবতা। স্থানীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থকদের অনেকেই বিষয়টিকে কেবল পদবঞ্চনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবদানের মূল্যায়নের প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন।

গত মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোয়াখালী ইস্যুটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। দলীয় কর্মীদের পোস্ট, সমর্থকদের মন্তব্য এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়—জেলার মানুষের প্রত্যাশা ছিল অন্তত একজন হলেও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবেন।

নির্বাচনে জয়ী নেতাদের অভিজ্ঞতার দিক থেকেও নোয়াখালী পিছিয়ে ছিল না। নোয়াখালী-২ আসনের জয়নুল আবদিন ফারুক ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বরকতউল্লা বুলু ও মো. শাহজাহান পাঁচবার করে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এম মাহবুব উদ্দিন খোকন দ্বিতীয়বার এবং মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন–সংগ্রামে সম্পৃক্ততা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তাদের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় ছিল।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়ায় ফুটে উঠেছে আবেগ ও বাস্তবতার মিশ্র সুর। জেলা সদরের ক্রীড়া সংগঠক মো. জহীর উদ্দিন মনে করেন, পাঁচটি আসনে ধানের শীষের বিজয় নোয়াখালীর পরীক্ষিত নেতৃত্বের স্বীকৃতি। তাই মন্ত্রিসভায় অন্তত একজনের অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাশিত ছিল। ব্যবসায়ী আশরাফুল এজাজ নতুন মন্ত্রিসভায় নবীন–প্রবীণের সমন্বয়কে ইতিবাচক বললেও জেলার অনুপস্থিতিকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, দলকে ধারাবাহিকভাবে আসন উপহার দেওয়া একটি জেলার এমন বঞ্চনা দুঃখজনক। প্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ শফিক আন্দোলনের সময়কার ত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের সময় আঞ্চলিক ভারসাম্য, দক্ষতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা—সবকিছু মিলিয়ে একটি সমন্বিত হিসাব করা হয়। ফলে কোনো জেলার শক্ত নির্বাচনী ফলাফল থাকলেও তা সরাসরি মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে না। তবুও নোয়াখালীর মতো ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়ায় রাজনৈতিক বার্তা কী গেল—সেই প্রশ্ন উঠছে।

স্থানীয় উন্নয়ন–ভাবনাও এই আলোচনায় যুক্ত হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের নেতা আব্দুজ জাহের মনে করেন, নোয়াখালী বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও বিমানবন্দরসহ বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিসভায় জেলার প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন। তার মতে, বর্ধিত মন্ত্রিসভায় এই শূন্যতা পূরণ হতে পারে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীরের বক্তব্যে তৃণমূলের অনুভূতির প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। তবে প্রকাশ্যে ক্ষোভ থাকলেও দলীয় শৃঙ্খলার কারণে কেউই বিষয়টিকে সংঘাতমুখী করতে চান না—এটিও স্পষ্ট।

তবে পুরো পরিস্থিতি একপাক্ষিক হতাশার নয়। অনেকেই মনে করছেন, প্রথম দফার মন্ত্রিসভা ঘোষণায় কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণে নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব আসতে পারে। নতুন সরকার দক্ষতা ও কার্যকারিতার মাধ্যমে আস্থা অর্জন করতে পারলে আঞ্চলিক বঞ্চনার এই আলোচনা ধীরে ধীরে প্রশমিত হবে বলেও তাদের বিশ্বাস।

স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর কোনো প্রতিনিধি না থাকায় জেলার রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি নতুন প্রশ্ন সামনে এসেছে—দলীয় অবদান, নির্বাচনী সাফল্য এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদারত্বের সমীকরণ কীভাবে নির্ধারিত হবে। সেই উত্তর মিলবে হয় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে, নয়তো সরকারের নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে জেলার বাস্তব উন্নয়নের প্রতিফলনে।