ময়মনসিংহ , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আইনজীবী সনদ হারালেন আলোচিত মাসদার হোসেন স্কুল ছুটি, টয়লেটে আটকা তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেরপুর প্রধানমন্ত্রী আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন আসল রাজনীতিটা বুঝতে শিখলাম পরে বলেছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া রাজধানীতে আজ বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা: ‘জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয়’—দলীয় নেতাদের দাবি ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর বড় হামলা: ২৪ ঘণ্টায় ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন অসহায় মুহূর্তে যারা ছায়া হয়ে ছিলেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার সচল আছে: জ্বালানি মন্ত্রণালয়
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

বগুড়া নাতনিকে পাল্লায় তুলে সমান ওজনের ‘পয়সা’ উপহার দিলেন নানা

২৩ বছর আগে করা স্ত্রীর একটি প্রতিশ্রুতি পূরণের মাধ্যমে নাতনিকে ব্যতিক্রমী উপহার দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা গাড়িচালক আবদুল কাদের। নাতনির বিয়ে ও নানির মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও, অটুট ভালোবাসা আর ইচ্ছাশক্তি দিয়ে শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর শেষ ইচ্ছা পূরণ করলেন তিনি।

গত শুক্রবার নিজের বাড়িতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দাঁড়িপাল্লায় নাতনি নাঈমা খাতুনকে (২৩) বসিয়ে তার সমান ওজনের ৭০ কেজি ৩০০ গ্রাম ধাতব মুদ্রা উপহার হিসেবে প্রদান করেন আবদুল কাদের। এই আয়োজনে আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীসহ প্রায় ১৫০ জন অতিথি অংশ নেন।

ঘটনার সূত্রপাত ২৩ বছর আগে, যখন আবদুল কাদের ও তার স্ত্রী প্রয়াত পাতা বেগমের ঘরে ফেরদৌসী খাতুনের কোলজুড়ে কন্যাসন্তান নাঈমার জন্ম হয়। নাতনির জন্মের পর উচ্ছ্বসিত নানি পাতা বেগম ঘোষণা দিয়েছিলেন, নাঈমার বিয়ের সময় তাকে দাঁড়িপাল্লায় তুলে সমান ওজনের ধাতব মুদ্রা উপহার দেবেন। স্ত্রীর এই ইচ্ছায় সম্মতি জানান নানা আবদুল কাদের। সেই থেকে স্ত্রীর ইচ্ছা পূরণে মাটির ব্যাংকে ধাতব মুদ্রা জমানো শুরু করেন এই দম্পতি।

বছর দুয়েক আগে পাতা বেগম মারা যান। এর কিছু সময় পর নাঈমার বিয়ে হয়। কিন্তু সে সময় মাটির ব্যাংকে প্রয়োজনীয় ধাতব মুদ্রার পরিমাণ কম থাকায় স্ত্রীর সেই ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে যায়। তবে নাতনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর আবদুল কাদের আর বিলম্ব করেননি। নিজের দীর্ঘদিনের জমানো দেড় বস্তা ধাতব মুদ্রা দিয়ে অবশেষে স্ত্রীর করা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা আবদুল কাদেরের ভাতিজা ও বগুড়া জেলা ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হাসান জানান, নাতনির জন্মের সময় করা চাচির সেই ঘোষণাটি পরিবারের সবারই মনে ছিল। চাচি বেঁচে না থাকলেও তার সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে চাচা আবদুল কাদের আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই উপহার প্রদান করেন। মূলত বেশিরভাগ ৫ টাকার মুদ্রার মাধ্যমেই এই ৭০ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজন পূরণ করা হয়েছে। নাতনির প্রতি নানা-নানির এই ভালোবাসার গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সাড়া ফেলেছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইনজীবী সনদ হারালেন আলোচিত মাসদার হোসেন

বগুড়া নাতনিকে পাল্লায় তুলে সমান ওজনের ‘পয়সা’ উপহার দিলেন নানা

আপডেট সময় ১০:০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

২৩ বছর আগে করা স্ত্রীর একটি প্রতিশ্রুতি পূরণের মাধ্যমে নাতনিকে ব্যতিক্রমী উপহার দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা গাড়িচালক আবদুল কাদের। নাতনির বিয়ে ও নানির মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও, অটুট ভালোবাসা আর ইচ্ছাশক্তি দিয়ে শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর শেষ ইচ্ছা পূরণ করলেন তিনি।

গত শুক্রবার নিজের বাড়িতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দাঁড়িপাল্লায় নাতনি নাঈমা খাতুনকে (২৩) বসিয়ে তার সমান ওজনের ৭০ কেজি ৩০০ গ্রাম ধাতব মুদ্রা উপহার হিসেবে প্রদান করেন আবদুল কাদের। এই আয়োজনে আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীসহ প্রায় ১৫০ জন অতিথি অংশ নেন।

ঘটনার সূত্রপাত ২৩ বছর আগে, যখন আবদুল কাদের ও তার স্ত্রী প্রয়াত পাতা বেগমের ঘরে ফেরদৌসী খাতুনের কোলজুড়ে কন্যাসন্তান নাঈমার জন্ম হয়। নাতনির জন্মের পর উচ্ছ্বসিত নানি পাতা বেগম ঘোষণা দিয়েছিলেন, নাঈমার বিয়ের সময় তাকে দাঁড়িপাল্লায় তুলে সমান ওজনের ধাতব মুদ্রা উপহার দেবেন। স্ত্রীর এই ইচ্ছায় সম্মতি জানান নানা আবদুল কাদের। সেই থেকে স্ত্রীর ইচ্ছা পূরণে মাটির ব্যাংকে ধাতব মুদ্রা জমানো শুরু করেন এই দম্পতি।

বছর দুয়েক আগে পাতা বেগম মারা যান। এর কিছু সময় পর নাঈমার বিয়ে হয়। কিন্তু সে সময় মাটির ব্যাংকে প্রয়োজনীয় ধাতব মুদ্রার পরিমাণ কম থাকায় স্ত্রীর সেই ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে যায়। তবে নাতনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর আবদুল কাদের আর বিলম্ব করেননি। নিজের দীর্ঘদিনের জমানো দেড় বস্তা ধাতব মুদ্রা দিয়ে অবশেষে স্ত্রীর করা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা আবদুল কাদেরের ভাতিজা ও বগুড়া জেলা ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হাসান জানান, নাতনির জন্মের সময় করা চাচির সেই ঘোষণাটি পরিবারের সবারই মনে ছিল। চাচি বেঁচে না থাকলেও তার সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে চাচা আবদুল কাদের আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই উপহার প্রদান করেন। মূলত বেশিরভাগ ৫ টাকার মুদ্রার মাধ্যমেই এই ৭০ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজন পূরণ করা হয়েছে। নাতনির প্রতি নানা-নানির এই ভালোবাসার গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সাড়া ফেলেছে।