ময়মনসিংহ , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আমরা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না জানিয়েছেন তারেক রহমান ​হু হু করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি: বন্যার আশঙ্কায় ৪ জেলা পূর্বধলায় আইনশৃঙ্খলা সভায় নবাগত ওসির ঘোষণা: মাদক ও অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ গৌরীপুরে ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ, এলাকাবাসীর নিন্দা চট্টগ্রামে নবনির্মিত নেভি মেডিকেল কলেজের উদ্বোধন বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম আবারও গাজা অভিমুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরায়েলের হামলা পেনাল্টি ভাগ্যে সমতা: আর্সেনাল বনাম অ্যাতলেটিকো দ্বৈরথের ফয়সালা দ্বিতীয় লেগে কামরুল-মেননের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ ট্রাম্পের দাবি: ইরানের পরমাণু সংকট সমাধানে ওয়াশিংটনকে সাহায্য করতে আগ্রহী পুতিন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৪০ লাখ ডলার ইরানের ২০ হাজার ডলারের ড্রোন ঠেকাতে

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৫১:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

ইরানের তৈরি শাহেদ সিরিজের ‘কামিকাজে’ ড্রোন বর্তমানে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এক নতুন আতঙ্কের নাম। কম খরচে তৈরি হওয়া এই ড্রোনগুলো জ্বালানিসাশ্রয়ী ইঞ্জিন, রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা এবং বিস্ফোরক বহনের ক্ষমতার কারণে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার খরচে তৈরি হওয়া এই ড্রোনগুলো বিপুল সংখ্যায় ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে কার্যত বিপর্যস্ত করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ড্রোনের সবচেয়ে বড় শক্তি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নয়, বরং এর বিপুল ব্যবহার। ইরান একসঙ্গে বহু ড্রোন পাঠিয়ে প্রতিপক্ষের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখে। ফলে পরবর্তী ধাপে বড় ও শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো তুলনামূলক সহজ হয়ে যায়।

তবে এখানে একটি বড় অর্থনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে। মাত্র ২০ হাজার ডলারের একটি ড্রোন ধ্বংস করতে প্রায় ৪০ লাখ ডলারের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়। ফলে অধিকাংশ ড্রোন ধ্বংস হলেও আক্রমণকারী পক্ষের জন্য এটি কৌশলগতভাবে লাভজনক হয়ে ওঠে।

শাহেদ-১৩১ ও শাহেদ-১৩৬ ড্রোন মূলত ছোট আকারের ডেল্টা-উইংবিশিষ্ট উড়ন্ত অস্ত্র, যার পেছনে একটি প্রপেলারচালিত ইঞ্জিন থাকে। ‘শাহেদ’ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ ‘সাক্ষী’। ২০০০-এর দশকের শুরুতে ইরানের শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ এই ড্রোনের উন্নয়ন শুরু করে।

ড্রোনটি উৎক্ষেপণের সময় একটি রকেট বুস্টারের সাহায্যে আকাশে ওঠে। নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বুস্টারটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পিস্টন ইঞ্জিন চালু হয়। ঘণ্টায় প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার গতিতে উড়ে এটি লক্ষ্যবস্তুর ওপর ঘোরাফেরা করতে পারে এবং সুযোগ বুঝে ডাইভ দিয়ে আঘাত হানে। এর মাথায় প্রায় ৬০ থেকে ৯০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করা সম্ভব।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও এই ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলায় শাহেদ ড্রোন ব্যবহার শুরু করে। এর প্রতিকারে ইউক্রেন একটি বিশেষ অ্যান্টি-ড্রোন স্কোয়াড গঠন করেছে, যা এসব ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংসে কাজ করছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিম এশিয়ায়ও এই বিশেষ দল মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তিনি শর্ত হিসেবে বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলোকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করতে হবে।

শাহেদ ড্রোনের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো শনাক্ত করা তুলনামূলক কঠিন। আকারে ছোট হওয়ায় রাডারে ধরা পড়া কঠিন হয়। এছাড়া খুব সহজে উৎক্ষেপণ করা যায় বলে কোথা থেকে ড্রোনটি ছাড়া হয়েছে, তা নির্ণয় করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে এর পিস্টন ইঞ্জিনের বিশেষ শব্দের কারণে অনেক সময় ড্রোনটির উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। রাশিয়া এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করেছে বলে ধারণা করা হয়, ফলে এগুলো রাতেও সমান কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

শাহেদ ড্রোনের কার্যকারিতা দেখে যুক্তরাষ্ট্রও এখন একই ধরনের কম খরচের আক্রমণাত্মক ড্রোন তৈরি করছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এই ড্রোনগুলোর নাম দিয়েছে লুকাস বা ‘লো কস্ট আনক্রিউড কমব্যাট সিস্টেম’। ইরানের শাহেদ ড্রোনের আদলে তৈরি এই ড্রোনগুলোর উৎপাদন খরচ প্রায় ৩৫ হাজার ডলার।

গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই কৌশলগত পরিবর্তনের কথা জানায় এবং পশ্চিম এশিয়ায় ‘টাস্কফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক’ নামে আত্মঘাতী ড্রোন স্কোয়াড্রন চালু করে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না জানিয়েছেন তারেক রহমান

যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৪০ লাখ ডলার ইরানের ২০ হাজার ডলারের ড্রোন ঠেকাতে

আপডেট সময় ০৮:৫১:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

ইরানের তৈরি শাহেদ সিরিজের ‘কামিকাজে’ ড্রোন বর্তমানে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এক নতুন আতঙ্কের নাম। কম খরচে তৈরি হওয়া এই ড্রোনগুলো জ্বালানিসাশ্রয়ী ইঞ্জিন, রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা এবং বিস্ফোরক বহনের ক্ষমতার কারণে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার খরচে তৈরি হওয়া এই ড্রোনগুলো বিপুল সংখ্যায় ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে কার্যত বিপর্যস্ত করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ড্রোনের সবচেয়ে বড় শক্তি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নয়, বরং এর বিপুল ব্যবহার। ইরান একসঙ্গে বহু ড্রোন পাঠিয়ে প্রতিপক্ষের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখে। ফলে পরবর্তী ধাপে বড় ও শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো তুলনামূলক সহজ হয়ে যায়।

তবে এখানে একটি বড় অর্থনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে। মাত্র ২০ হাজার ডলারের একটি ড্রোন ধ্বংস করতে প্রায় ৪০ লাখ ডলারের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়। ফলে অধিকাংশ ড্রোন ধ্বংস হলেও আক্রমণকারী পক্ষের জন্য এটি কৌশলগতভাবে লাভজনক হয়ে ওঠে।

শাহেদ-১৩১ ও শাহেদ-১৩৬ ড্রোন মূলত ছোট আকারের ডেল্টা-উইংবিশিষ্ট উড়ন্ত অস্ত্র, যার পেছনে একটি প্রপেলারচালিত ইঞ্জিন থাকে। ‘শাহেদ’ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ ‘সাক্ষী’। ২০০০-এর দশকের শুরুতে ইরানের শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ এই ড্রোনের উন্নয়ন শুরু করে।

ড্রোনটি উৎক্ষেপণের সময় একটি রকেট বুস্টারের সাহায্যে আকাশে ওঠে। নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বুস্টারটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পিস্টন ইঞ্জিন চালু হয়। ঘণ্টায় প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার গতিতে উড়ে এটি লক্ষ্যবস্তুর ওপর ঘোরাফেরা করতে পারে এবং সুযোগ বুঝে ডাইভ দিয়ে আঘাত হানে। এর মাথায় প্রায় ৬০ থেকে ৯০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করা সম্ভব।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও এই ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলায় শাহেদ ড্রোন ব্যবহার শুরু করে। এর প্রতিকারে ইউক্রেন একটি বিশেষ অ্যান্টি-ড্রোন স্কোয়াড গঠন করেছে, যা এসব ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংসে কাজ করছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিম এশিয়ায়ও এই বিশেষ দল মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তিনি শর্ত হিসেবে বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলোকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করতে হবে।

শাহেদ ড্রোনের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো শনাক্ত করা তুলনামূলক কঠিন। আকারে ছোট হওয়ায় রাডারে ধরা পড়া কঠিন হয়। এছাড়া খুব সহজে উৎক্ষেপণ করা যায় বলে কোথা থেকে ড্রোনটি ছাড়া হয়েছে, তা নির্ণয় করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে এর পিস্টন ইঞ্জিনের বিশেষ শব্দের কারণে অনেক সময় ড্রোনটির উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। রাশিয়া এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করেছে বলে ধারণা করা হয়, ফলে এগুলো রাতেও সমান কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

শাহেদ ড্রোনের কার্যকারিতা দেখে যুক্তরাষ্ট্রও এখন একই ধরনের কম খরচের আক্রমণাত্মক ড্রোন তৈরি করছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এই ড্রোনগুলোর নাম দিয়েছে লুকাস বা ‘লো কস্ট আনক্রিউড কমব্যাট সিস্টেম’। ইরানের শাহেদ ড্রোনের আদলে তৈরি এই ড্রোনগুলোর উৎপাদন খরচ প্রায় ৩৫ হাজার ডলার।

গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই কৌশলগত পরিবর্তনের কথা জানায় এবং পশ্চিম এশিয়ায় ‘টাস্কফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক’ নামে আত্মঘাতী ড্রোন স্কোয়াড্রন চালু করে।