ময়মনসিংহ , শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শাপলা চত্বর হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ২৭ জুলাই জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর অবশেষে পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আলোচনার মানে হয় না: ককরোচ জনতা পার্টি সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বার্তা সরকার রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিবির সভাপতি সাদ্দাম মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ: ভারতের রাজপথে এখন জেন-জি প্রজন্মের উত্তাল আন্দোলন মনোহরদীতে পানের বরজ: যেন এক জীবন্ত ‘নগদ ব্যাংক’ বদলে গাছ’: তরুণদের পরিবেশবান্ধব হওয়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর সিলেট থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী বিপাশা নিখোঁজ, দু’দিনেও মেলেনি সন্ধান ময়মনসিংহের টুমপাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার নিজস্ব ভূমিতে অবস্থিত গাছ কর্তনের পাঁয়তারা
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

অবশেষে পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র নিয়ে বিকেলে বঙ্গভবন থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব।রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, কোনো রাজনৈতিক চাপে নয়, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে একটি গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রপতি বলেন, “এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।”

পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে জানাতে বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সংসদের শপথকক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। স্পিকার অথবা তার প্রতিনিধি সেখানে বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবরে থাইল্যান্ড থেকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেন স্পিকার। শুক্রবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে দ্রুত সংসদ ভবনের উদ্দেশে রওনা হন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি?
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সরকার ও সরকারি দল বিএনপির উচ্চপর্যায়ে নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। সেখানেই নির্বাচিত হবেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।

ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা। মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি সংসদ বিলুপ্ত ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি তোলেন আন্দোলনকারীরা। তার পদত্যাগ দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ও বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলো তাকে অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শাপলা চত্বর হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ২৭ জুলাই জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর

অবশেষে পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

আপডেট সময় ১১:৩১:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র নিয়ে বিকেলে বঙ্গভবন থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব।রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, কোনো রাজনৈতিক চাপে নয়, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে একটি গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রপতি বলেন, “এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।”

পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে জানাতে বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সংসদের শপথকক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। স্পিকার অথবা তার প্রতিনিধি সেখানে বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবরে থাইল্যান্ড থেকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেন স্পিকার। শুক্রবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে দ্রুত সংসদ ভবনের উদ্দেশে রওনা হন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি?
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সরকার ও সরকারি দল বিএনপির উচ্চপর্যায়ে নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। সেখানেই নির্বাচিত হবেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।

ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা। মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি সংসদ বিলুপ্ত ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি তোলেন আন্দোলনকারীরা। তার পদত্যাগ দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ও বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলো তাকে অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।