রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধ থাকায় শিক্ষাজীবনে জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দফতরে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধি দল সচিবের দফতরে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন। এ সময় দফতরের কর্মকর্তারা তাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।স্মারকলিপিতে বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শিক্ষাক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় শিগগিরই হাসপাতালটি খুলে দেয়ার দাবি জানানো হয়।এর আগে সোমবার (২২ জুন) একই দাবিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছেও স্মারকলিপি দেন আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
দায়িত্ব অবহেলার কারণে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গত ১১ জুন আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এরপর হাসপাতাল থেকে রোগী স্থানান্তরের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়া হয়। এরপর থেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা অন্যত্র যাওয়া শুরু করে।
ঈদুল আজহার আগের দিন গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিনই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্তে হাসপাতালের চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভবনটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়। সংশ্লিষ্ট কক্ষটিতে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকায় এবং স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন না থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। এছাড়া, ৯০০ বর্গফুটের ওই কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি (প্রায় ৫০ জন) মানুষের উপস্থিতি ছিল।
তদন্তে আরও উঠে আসে, নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের কোনো সক্রিয় ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স ছিল না। সেখানে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং দায়িত্বরত সেবিকাদের চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশ, ১৯৮২’ লঙ্ঘন করায় কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় ওই নোটিশে। শোকজের জবাব সন্তুষ্ট না হওয়ায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

মাটি ও মানুষ ডেস্ক 




















