জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণে পাঠ’এই শ্লোগানে একুশে পাঠচক্রের নিয়মিত আসর ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শেরপুর নালিতাবাড়ী সেঁজুতি অঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘ একাত্তরের জননী রমা চৌধুরী ‘ শিরোনামে একুশে পাঠচক্রের সার্ধশত আসরে প্রেসক্লাব নালিতাবাড়ী’র আহ্বায়ক বৈশাখী টেলিভিশন’এর জেলা প্রতিনিধি বিপ্লব দে কেটু’র সভাপতিত্বে বক্তব্য উপস্থাপন করেন শিক্ষক শঙ্করী পাঠক, মনি গাঙ্গুলি, সাংবাদিক হারুন অর রশিদ ও সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠের উপজেলা প্রতিনিধি কেয়া নকরেক,মিলন শেখ,সুজানা,অমিত চক্রবর্তী প্রমুখ।উপস্থাপনা করেন আবৃত্তিকার ও উপস্থাপিকা একুশে দ্যুতি।রমা চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর রমা চৌধুরী এবং স্বনামধন্য লেখক।
জন্ম ও শিক্ষা
১৯৪১ সালের ১৪ অক্টোবর রমা চৌধুরী: একাত্তরের জননী হয়েই বেঁচে ছিলেন যিনি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার পোপাদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করেন একাত্তরের জননী একজন বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী। তিনি ছিলেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রথম নারী স্নাতকোত্তর।
মুক্তিযুদ্ধ ও একাত্তরের নির্যাতন
১৯৭১ সালের ১৩ মে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তার বাড়িতে আক্রমণ করে। তারা তাকে অমানবিক নির্যাতন করে এবং তার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
এই যুদ্ধের ভয়াবহতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি বেঁচে ছিলেন এবং ত্যাগের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হন।
জীবনসংগ্রাম ও সাহিত্যকর্ম।তার বিখ্যাত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো ‘একাত্তরের জননী’। এছাড়া তিনি প্রায় ১৮টির মতো বই লিখেছেন।
তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর জুতো পরেননি। তিনি বলতেন, যে মাটিতে তার সন্তানদের স্মৃতি ও মৃতদেহ রয়েছে, সে মাটিতে তিনি জুতো পায়ে হাঁটবেন না। তিনি নিজেই নিজের লেখা বই চট্টগ্রাম শহরের রাস্তায় ঘুরে বিক্রি করতেন।
২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
দ্বিতীয় পর্বে গান পরিবেশন করেন সঙ্গীত শিক্ষক ও শিশু শিক্ষার্থীরা।

খন্দকার আব্দুল আলীম জেলা প্রতিনিধি শেরপুর 



















