ময়মনসিংহ , শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মদের বারে এনসিপির তরুণদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, তোলপাড় চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী: আন্তর্জাতিক মহলের কড়া নজর ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ বলে মন্তব্য করেছেন ওবামা ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সেবানীড় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রক্তদান কার্যক্রমে অবদান রাখায় রক্তদাতা ও সংগঠনকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত নামাজে সালাম ফেরানোর সঠিক নিয়ম কী? জেনে নিন সহজ পদ্ধতি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অনন্য নিদর্শন ‘হার্ডিঞ্জ ব্রিজ’ পাবনার ফরিদপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের রাস্তার বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে হাইতির জালে গোলবন্যা, ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে ব্রাজিল অবশেষে গোলের দেখা: ম্যাথউস কুনহার গোলে এগিয়ে ব্রাজিল পূর্বধলায় ২ দিনব্যাপী স্থানীয় প্রযুক্তির প্রয়োগ ও সম্প্রসারণ সেমিনার-প্রদর্শনী শুরু
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী: আন্তর্জাতিক মহলের কড়া নজর

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের প্রথম চীন সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামী ২৩ জুন শুরু হতে যাওয়া এই সফরটি কেবল ঢাকা-বেইজিং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে বেইজিং যাবেন প্রধানমন্ত্রী। মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক ও একান্ত বৈঠকে অংশ নেবেন। এমন এক সময়ে এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশও তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য নতুন কূটনৈতিক অংশীদারিত্বের পথ খুঁজছে।

এই সফরের ঠিক আগেই চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার প্রকল্প একনেক সভায় পাস হয়েছে, যা বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সফরে দীর্ঘদিনের আলোচিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং বড় ধরনের চীনা বিনিয়োগের বিষয়গুলো বিশেষ প্রাধান্য পাবে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সফিউল্লাহর মতে, এই সফরে তিস্তা প্রকল্পের অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সমাধান বা চুক্তি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, চীনের সঙ্গে বড় ধরনের কৌশলগত সম্পর্কের দিকে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বা ‘হোমওয়ার্ক’ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা আছে।

সার্বিকভাবে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর থেকে বাংলাদেশ কতটা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা অর্জন করতে পারে, তার ওপরই এই সফরের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত কয়েক বছরে অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা খাতে চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে কুনমিং-চট্টগ্রাম সড়ক সংযোগ ও তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে সেই আলোচনাগুলো নতুন গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মদের বারে এনসিপির তরুণদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, তোলপাড়

চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী: আন্তর্জাতিক মহলের কড়া নজর

আপডেট সময় ১২:৪১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের প্রথম চীন সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামী ২৩ জুন শুরু হতে যাওয়া এই সফরটি কেবল ঢাকা-বেইজিং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে বেইজিং যাবেন প্রধানমন্ত্রী। মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক ও একান্ত বৈঠকে অংশ নেবেন। এমন এক সময়ে এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশও তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য নতুন কূটনৈতিক অংশীদারিত্বের পথ খুঁজছে।

এই সফরের ঠিক আগেই চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার প্রকল্প একনেক সভায় পাস হয়েছে, যা বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সফরে দীর্ঘদিনের আলোচিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং বড় ধরনের চীনা বিনিয়োগের বিষয়গুলো বিশেষ প্রাধান্য পাবে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সফিউল্লাহর মতে, এই সফরে তিস্তা প্রকল্পের অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সমাধান বা চুক্তি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, চীনের সঙ্গে বড় ধরনের কৌশলগত সম্পর্কের দিকে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বা ‘হোমওয়ার্ক’ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা আছে।

সার্বিকভাবে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর থেকে বাংলাদেশ কতটা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা অর্জন করতে পারে, তার ওপরই এই সফরের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত কয়েক বছরে অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা খাতে চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে কুনমিং-চট্টগ্রাম সড়ক সংযোগ ও তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে সেই আলোচনাগুলো নতুন গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।