সেদিন রাজধানীর সেনা সদরদপ্তরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, “জনগণের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের যেকোনো প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে আছে ও থাকবে।”
একই দিন সকালে গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংলাপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গণভবনের দরজা খোলা। আমি আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে বসতে চাই এবং তাদের কথা শুনতে চাই। আমি কোনো সংঘাত চাই না।”
এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও দাবি করেন, আন্দোলন আর কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
৩ আগস্ট রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, বগুড়া, সিলেট, কুষ্টিয়া, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের খবর আসে।
রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার সেই দিনে সেনাপ্রধানের বক্তব্য ছিল অন্যতম আলোচিত ঘটনা। জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকারের এই বার্তা দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বিশেষ গুরুত্ব পায় এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহেও তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

ডিজিটাল ডেস্ক 




















