ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন, এতে সরকারের করার কিছু নেই বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তীব্র খাদ্য ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশের এক কোটি ৮১ লাখ মানুষ জানিয়েছে ডব্লিউএফপি চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা কবে: শিক্ষামন্ত্রী ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সরকার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অপরাধ বৃদ্ধি নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের তথ্যের মিল নেই বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপি কমিশনার নেত্রকোনা সদর ২ নং মেদনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চায় বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোখলেছুর রহমান দলীয় বহিষ্কারেই গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নয় জানিয়েছেন ইসি মাছউদ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে পৌঁছেছে ৩৬.৪৭ বিলিয়ন ডলারে জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা: ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামি মোজাফফর ​ভাইস অ্যাডমিরাল র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পেলেন নতুন নৌবাহিনী প্রধান
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সরকার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

  • ডিজিটাল রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:০২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশীয় উদ্যোক্তা কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী-যে কেউ বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে তাদের পাশে থাকবে। এটি কেবল একটি আশ্বাস নয়, ইনশাআল্লাহ এটি আমাদের সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের সম্মেলনে দেশি-বিদেশি করপোরেট প্রধান, সফল বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠছে।’

নিজের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি নিজেও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন, কোনো ব্যবসার সফলতা শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে না; বরং সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’দেশের রয়েছে দ্রুত বিকাশমান বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনগণের সমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এসব শক্তি বাংলাদেশকে টেকসই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ’সরকারের লক্ষ্য একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা। নির্বাচনী ইশতেহারে সেই অর্থনৈতিক রূপান্তরের সুস্পষ্ট রূপরেখা রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শুধু বিনিয়োগ নয়, বরং বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

সরকারের পাঁচ মাসের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’নির্বাচনের আগেই অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা থেকে সরকার বিনিয়োগবান্ধব সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ’বিনিয়োগকারীদের প্রধান চাহিদা ছিল আইনি সুরক্ষা জোরদার, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজ কর ব্যবস্থা, মুনাফা নির্বিঘ্নে নিজ দেশে পাঠানোর সুযোগ, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো। সরকার ইতোমধ্যে এসব ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।’

তারেক রহমান বলেন, ’সরকার আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগ সুরক্ষা, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি, কর ও ভ্যাট প্রশাসন সহজীকরণ এবং মুনাফা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সহজ করছে। পাশাপাশি পুঁজিবাজার শক্তিশালী করা, স্টার্টআপে উৎসাহ দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তা উন্নয়নে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, তৈরি পোশাক খাতের বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।’

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর নির্ভর করেন বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন, এতে সরকারের করার কিছু নেই বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সরকার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৩:০২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশীয় উদ্যোক্তা কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী-যে কেউ বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে তাদের পাশে থাকবে। এটি কেবল একটি আশ্বাস নয়, ইনশাআল্লাহ এটি আমাদের সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের সম্মেলনে দেশি-বিদেশি করপোরেট প্রধান, সফল বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠছে।’

নিজের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি নিজেও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন, কোনো ব্যবসার সফলতা শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে না; বরং সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’দেশের রয়েছে দ্রুত বিকাশমান বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনগণের সমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এসব শক্তি বাংলাদেশকে টেকসই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ’সরকারের লক্ষ্য একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা। নির্বাচনী ইশতেহারে সেই অর্থনৈতিক রূপান্তরের সুস্পষ্ট রূপরেখা রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শুধু বিনিয়োগ নয়, বরং বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

সরকারের পাঁচ মাসের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’নির্বাচনের আগেই অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা থেকে সরকার বিনিয়োগবান্ধব সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ’বিনিয়োগকারীদের প্রধান চাহিদা ছিল আইনি সুরক্ষা জোরদার, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজ কর ব্যবস্থা, মুনাফা নির্বিঘ্নে নিজ দেশে পাঠানোর সুযোগ, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো। সরকার ইতোমধ্যে এসব ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।’

তারেক রহমান বলেন, ’সরকার আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগ সুরক্ষা, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি, কর ও ভ্যাট প্রশাসন সহজীকরণ এবং মুনাফা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সহজ করছে। পাশাপাশি পুঁজিবাজার শক্তিশালী করা, স্টার্টআপে উৎসাহ দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তা উন্নয়নে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, তৈরি পোশাক খাতের বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।’

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর নির্ভর করেন বলেও জানান তিনি।