ময়মনসিংহ , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কুয়াকাটায় ছিন্নমূল ও অসহায়দের জন্য “চেষ্টা” সংগঠনের বস্ত্র বিতরণ বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহহ এবং বিজ্ঞান মেলার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত এআই যুগে শ্রমিক নায্য অধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন ও অভিবাসী শ্রমিক সুরক্ষায় বৈশ্বিক উদ্যোগ পরিচয় অনুসন্ধান নাকি পাসপোর্ট জালিয়াতি? নেত্রকোণায় আটক রোহিঙ্গা যুবককে ঘিরে ঘনীভূত রহস্য পূর্বধলায় কৃষি প্রণোদনা তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ঘাগড়া চৌরাস্তায় সংবাদ সম্মেলন ​লোহালিয়া নদীর ওপর ৯ম মৈত্রী সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ ও চীনের চুক্তি রামিসা হত্যা মামলা: বিচার চেয়ে রোববার শুনানি করবেন অ্যাটর্নি জেনারেল ​আসছে নবম পে-স্কেল: ১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন বেতন কাঠামো ​হঠাৎ জার্সি বদলের চাপে হাইতি: ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে এসেই সংকটে দলটি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জনসহ দগ্ধ, ৫
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

পারমাণবিক ইস্যুতে পিছু হটছে না ইরান, খুলছে হরমুজ প্রণালী

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭৩ বার পড়া হয়েছে

ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবটি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান চাইছে যুক্তরাষ্ট্র আগে তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিক এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনুক। বিনিময়ে তেহরানও এই জলপথের ওপর থেকে তাদের সামরিক কড়াকড়ি শিথিল করতে এবং যুদ্ধবিরতিতে যেতে সম্মত আছে। তবে এই আলোচনার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পর্কিত কোনো শর্ত এখনই অন্তর্ভুক্ত করতে রাজি নয় তারা।

তবে এই প্রস্তাবটি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে এক্সিওসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালি নিয়ে এখনই কোনো চুক্তিতে পৌঁছায় এবং বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ সরিয়ে নেয়, তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের হাতে আর কোনো জোরালো ‘লিভারেজ’ বা দরকষাকষির হাতিয়ার থাকবে না।

এর ফলে তেহরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করানো কিংবা অন্তত এক দশকের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি আদায় করা ট্রাম্পের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। মূলত সামরিক চাপের সুযোগে ইরানকে একটি কঠোর পারমাণবিক চুক্তিতে বাধ্য করার যে পরিকল্পনা হোয়াইট হাউসের ছিল, তা এই প্রস্তাবের ফলে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বর্তমানে পাকিস্তান এই সংঘাত নিরসনে একটি সক্রিয় সেতু হিসেবে কাজ করছে। ইসলামাবাদে অবস্থানরত মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের গতিবিধি এই গুঞ্জনকে আরও জোরালো করেছে, একটি পর্দার অন্তরালের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বেশ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই ‘আংশিক’ প্রস্তাবে শেষ পর্যন্ত সায় দেবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

কারণ ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই একটি ‘বৃহৎ ও স্থায়ী’ চুক্তির ওপর জোর দিয়ে আসছে যা কেবল যুদ্ধ নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকেও সীমিত করবে। এই নতুন প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ এখন ওয়াশিংটনের পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করছে যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী সামরিক ও রাজনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়াকাটায় ছিন্নমূল ও অসহায়দের জন্য “চেষ্টা” সংগঠনের বস্ত্র বিতরণ

পারমাণবিক ইস্যুতে পিছু হটছে না ইরান, খুলছে হরমুজ প্রণালী

আপডেট সময় ১২:১৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবটি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান চাইছে যুক্তরাষ্ট্র আগে তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিক এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনুক। বিনিময়ে তেহরানও এই জলপথের ওপর থেকে তাদের সামরিক কড়াকড়ি শিথিল করতে এবং যুদ্ধবিরতিতে যেতে সম্মত আছে। তবে এই আলোচনার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পর্কিত কোনো শর্ত এখনই অন্তর্ভুক্ত করতে রাজি নয় তারা।

তবে এই প্রস্তাবটি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে এক্সিওসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালি নিয়ে এখনই কোনো চুক্তিতে পৌঁছায় এবং বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ সরিয়ে নেয়, তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের হাতে আর কোনো জোরালো ‘লিভারেজ’ বা দরকষাকষির হাতিয়ার থাকবে না।

এর ফলে তেহরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করানো কিংবা অন্তত এক দশকের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি আদায় করা ট্রাম্পের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। মূলত সামরিক চাপের সুযোগে ইরানকে একটি কঠোর পারমাণবিক চুক্তিতে বাধ্য করার যে পরিকল্পনা হোয়াইট হাউসের ছিল, তা এই প্রস্তাবের ফলে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বর্তমানে পাকিস্তান এই সংঘাত নিরসনে একটি সক্রিয় সেতু হিসেবে কাজ করছে। ইসলামাবাদে অবস্থানরত মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের গতিবিধি এই গুঞ্জনকে আরও জোরালো করেছে, একটি পর্দার অন্তরালের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বেশ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই ‘আংশিক’ প্রস্তাবে শেষ পর্যন্ত সায় দেবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

কারণ ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই একটি ‘বৃহৎ ও স্থায়ী’ চুক্তির ওপর জোর দিয়ে আসছে যা কেবল যুদ্ধ নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকেও সীমিত করবে। এই নতুন প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ এখন ওয়াশিংটনের পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করছে যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী সামরিক ও রাজনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।