নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় জীবিত বাবা-মাকে মৃত দেখিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে রুমা বেগমের নামে। ভুয়া মৃত্যু সনদ ব্যবহার করে ভোটার হওয়ার আবেদন করেন যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোহালাকান্দা ইউনিয়নের শালদিঘা গ্রামে, উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ভোটার নিবন্ধনের আবেদন যাচাইয়ের সময় তথ্যগত অসংগতি ধরা পড়ে। অনুসন্ধান করে জানা যায়, আবেদনপত্রে রুমার পিতা-মাতাকে মৃত দেখানো হয় অথচ রুমা বেগমের বাবা জামাল মিয়া ও মা মনোয়ারা বেগম দুজনই জীবিত আছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জামাল মিয়া শ্যামগঞ্জ বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মাংসের ব্যবসা করছেন এবং পরিবারসহ স্বাভাবিকভাবেই জীবন যাপন করছেন।
এ বিষয়ে গোহালাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তিনি দাবি করেন, আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পালন করেন। তারা নথি পরীক্ষা করে আনলে আমি স্বাক্ষর করি। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. হাসিন ইসরাক বলেন, অনেক সময় উদ্যোক্তাদের কাছেও অনলাইন পোর্টালের আইডি ও পাসওয়ার্ড থাকে। সেই সুযোগে কেউ অপব্যবহার করে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। রুমা বেগম জানান, মায়ের সাথে বয়সজনিত জটিলতার কারণে তিনি আগে ভোটার হতে পারেননি। পরে স্থানীয় এক উদ্যোক্তার সহযোগিতায় আবেদন করেন।
এ বিষয়ে উদ্যোক্তা জেবিন বেগম ও সাদ্দাম হোসেন বলেন, তারা এ বিষয়ে জানেন না নির্বাচন অফিস থেকে জানানোর পর তারা তা জানতে পারেন উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, রুমা বেগমের জন্মসাল ২০০৪।তাঁর মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্মসাল ১৯৯০ হলেও মৃত্যু নিবন্ধনে তা ১৯৭৫ দেখানো হয়েছে। বাবার ক্ষেত্রেও হিসাব গরমিল। এ বিষয়ে পূর্বধলা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনীম জাহান বলেন, জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে সরকারি নথি তৈরি করা গুরুতর অপরাধ। যারা এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হারাধন সূত্রধর:পূর্বধলা,(নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 


















