ময়মনসিংহ , বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে যেকোনো বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে প্রস্তুত জানিয়েছেন জামায়াত আমির মদনে উচিপুর হাওরে অবৈধ বেড় ও চায়না জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস শেখ হাসিনা রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন কি না, তা ভারতকেই স্পষ্ট করতে হবে বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উত্তাল সেই দিনগুলো: জুলাই অভ্যুত্থানের এই সময়েই ঘোষণা করা হয়েছিল তিন দিনের সাধারণ ছুটি আন্দোলনের উত্তাল পরিস্থিতিতে সারাদেশের সব পোশাক কারখানা বন্ধের ঘোষণা জাতীয় মৎস্য পক্ষ সফল করতে শেরপুরে প্রস্তুতি সভা যেকোনো বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে প্রস্তুত: জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবসে র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: ১০ দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী পূর্বধলায় ৩০ অসহায় পরিবার পেলেন অনুদান, বেশ কিছু উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করলেন এমপি মানসুরা নরসিংদীতে কক্ষে আটকে পড়া দুই বছরের শিশুকে উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

​মধ্যপ্রাচ্যে স্বস্তি: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিতে যুদ্ধের সমাপ্তি

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:১৬:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘শান্তি চুক্তি’ চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হবে।

আজ সোমবার (১৫ জুন) ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।

শেহবাজ শরিফের ঘোষণার পর চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন।’

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেলের প্রবাহ চলুক।’

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রচার করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ঘোষণায় উপস্থাপক বলেছেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এবং দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে সই করতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও ইরানি কিছু সংবাদমাধ্যমে এই চুক্তিকে ইরানের জন্য বিজয় হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

গতকাল রোববার লেবাননে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় ইরান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়েই তীব্র নিন্দা জানান। সেই উত্তেজনার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাল দুই দেশ।

এর আগে গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি হামলার কড়া সমালোচনা করেন ইরানের আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে চালানো ওই হামলা নিয়ে ইসরায়েলের দাবি ছিল, তারা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেছে। তবে গালিবাফ বলেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের ‘ইচ্ছা ও সক্ষমতা’ রাখে না।

এ ছাড়া বৈরুতে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি দায়ী করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরান এর ‘কঠোর জবাব’ দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। দেশটির সামরিক কমান্ড জানায়, তাদের ‘আঙুল ট্রিগারে রয়েছে’ এবং তারা ‘শত্রুর হৃৎপিণ্ড’ লক্ষ্য করে গুলি চালাতে প্রস্তুত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘আজ (রোববার) সকালে বৈরুতে এ হামলা হওয়া মোটেও উচিত হয়নি। বিশেষ করে এমন এক দিনে এ ঘটনা ঘটল, যখন আমরা ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির একেবারে কাছাকাছি রয়েছি।’

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা পরিকল্পিত এই চুক্তির অংশ নয়। লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান কমানোর মার্কিন দাবির বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর লেবাননে ইরানপন্থী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত আবার তীব্র আকার ধারণ করে।

এখনো চুক্তির শর্তগুলো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হয়েছে।

এর আগে রয়টার্সকে বেশ কিছু সূত্র জানায়, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে। ইরানের বন্দরগুলোয় মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য আরও ৬০ দিন সময় রাখা হয়েছে।

ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, চুক্তির খসড়া অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আটকে রাখা ২৫ বিলিয়ন ডলার সম্পদ ছেড়ে দেবে। বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। এ ছাড়া চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক স্থাপনা সম্প্রসারণ না করার বিষয়েও সম্মত হয়েছে ইরান।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের স্বার্থে যেকোনো বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে প্রস্তুত জানিয়েছেন জামায়াত আমির

​মধ্যপ্রাচ্যে স্বস্তি: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিতে যুদ্ধের সমাপ্তি

আপডেট সময় ১০:১৬:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘শান্তি চুক্তি’ চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হবে।

আজ সোমবার (১৫ জুন) ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।

শেহবাজ শরিফের ঘোষণার পর চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন।’

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেলের প্রবাহ চলুক।’

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রচার করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ঘোষণায় উপস্থাপক বলেছেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এবং দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে সই করতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও ইরানি কিছু সংবাদমাধ্যমে এই চুক্তিকে ইরানের জন্য বিজয় হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

গতকাল রোববার লেবাননে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় ইরান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়েই তীব্র নিন্দা জানান। সেই উত্তেজনার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাল দুই দেশ।

এর আগে গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি হামলার কড়া সমালোচনা করেন ইরানের আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে চালানো ওই হামলা নিয়ে ইসরায়েলের দাবি ছিল, তারা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেছে। তবে গালিবাফ বলেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের ‘ইচ্ছা ও সক্ষমতা’ রাখে না।

এ ছাড়া বৈরুতে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি দায়ী করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরান এর ‘কঠোর জবাব’ দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। দেশটির সামরিক কমান্ড জানায়, তাদের ‘আঙুল ট্রিগারে রয়েছে’ এবং তারা ‘শত্রুর হৃৎপিণ্ড’ লক্ষ্য করে গুলি চালাতে প্রস্তুত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘আজ (রোববার) সকালে বৈরুতে এ হামলা হওয়া মোটেও উচিত হয়নি। বিশেষ করে এমন এক দিনে এ ঘটনা ঘটল, যখন আমরা ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির একেবারে কাছাকাছি রয়েছি।’

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা পরিকল্পিত এই চুক্তির অংশ নয়। লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান কমানোর মার্কিন দাবির বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর লেবাননে ইরানপন্থী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত আবার তীব্র আকার ধারণ করে।

এখনো চুক্তির শর্তগুলো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হয়েছে।

এর আগে রয়টার্সকে বেশ কিছু সূত্র জানায়, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে। ইরানের বন্দরগুলোয় মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য আরও ৬০ দিন সময় রাখা হয়েছে।

ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, চুক্তির খসড়া অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আটকে রাখা ২৫ বিলিয়ন ডলার সম্পদ ছেড়ে দেবে। বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। এ ছাড়া চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক স্থাপনা সম্প্রসারণ না করার বিষয়েও সম্মত হয়েছে ইরান।