ঙ্গবন্ধু প্রচার কেন্দ্র ও সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে নিউইয়র্কে ‘মুক্তিযোদ্ধা-সৈনিক হত্যা দিবস’ উপলক্ষে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ম্যানহাটানের একটি রেস্তোরাঁয় এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কবি আব্দুর রাজ্জাক এম আনোয়ার।
স্মরণসভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেএসএফ-বাংলাদেশের সংগঠক হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন, সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল মাহমুদ এবং সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতা, ৭ নভেম্বর নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল খালেদ মোশাররফ (বীর উত্তম), বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এন হুদা (বীর উত্তম) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল এ টি এম হায়দার (বীর উত্তম), ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং ২০২৪-এর সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিকদের ওপর যে নিধনযজ্ঞ শুরু হয়েছিল, তা ছিল ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়। ক্ষমতার অন্ধ লোভ ও লাশ ওপর দাঁড়িয়ে জিয়াউর রহমান মসনদ দখল করেছিলেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, তথাকথিত ‘সিপাহি বিপ্লব’-এর নামে মুক্তিযুদ্ধ ও রণাঙ্গনের শীর্ষ সমরনায়কদের ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়। ২ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক খালেদ মোশাররফ, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অভিযুক্ত ও সাব-সেক্টর কমান্ডার কে এন হুদা এবং বহু গেরিলা বীরের প্রশিক্ষক এ টি এম হায়দারকে দশম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদর দপ্তরে বর্বরোচিতভাবে হত্যা করা হয়।
স্মরণসভায় প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহ্যাস এবং গবেষক গোলাম মুরশিদের গ্রন্থাবলি থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বক্তারা বলেন, ৭ নভেম্বরের পর সশস্ত্র বাহিনীতে একের পর এক অভ্যুত্থানের অজুহাতে হাজার হাজার সেনাসদস্যকে বিনা বিচারে ফাঁসি ও গণকবর দেওয়া হয়েছে। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি এবং ১৫ আগস্টের খুনিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসন করা হয়েছিল।
বক্তারা পরিশেষে বলেন, ‘খালেদ-হুদা-হায়দার থেকে মঞ্জুর পর্যন্ত একের পর এক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। এই পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞের এবং অন্যায়ের বিচার ইতিহাস ও দেশবাসীর কাছে আজও বকেয়া রয়ে গেছে।’

স্টাফ রিপোর্টার 


















