এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো ধারণা করছে, ঢাকায় দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া বোঝা ও পর্যবেক্ষণে ব্যস্ত সময় কাটাতে হবে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র কর্মকর্তা ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পিটার হাসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। পিটার হাস ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তদশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর অবসরে যান। তার বিদায়ের পর অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে রুটিন দায়িত্ব পালন করেন ট্রেসি অ্যান্ড জ্যাকবসন।
ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে ক্রিস্টেনসেনের। ন্যাশনাল ওয়ার কলেজের ‘ডিস্টিংগুইশড’ গ্র্যাজুয়েট এই কূটনীতিক ২০২২ সালে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি থেকে পরিসংখ্যানে মাস্টার্স এবং রাইস ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে তার। তিনি স্প্যানিশ, জার্মান ও ভিয়েতনামি ভাষায় কথা বলতে পারেন; ফরাসি, জাপানি ও পর্তুগিজ ভাষাও শিখেছেন।
অক্টোবরে সিনেটের ফরেন রিলেশন্স কমিটির শুনানিতে লিখিত বক্তব্যে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, চীন এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে কী ধরনের ‘ঝুঁকি’ রয়েছে, তা বোঝাতে বাংলাদেশের সরকার ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তিনি কাজ করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ হলেও বড় প্রতিবেশীদের ছায়ায় পড়ে থাকায় বাংলাদেশ যথাযথ মনোযোগ পায় না। ফরেন সার্ভিসের চাকরিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ নীতি নিয়ে ২০ বছরের বেশি সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে, যার মধ্যে ঢাকায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফলে আমি দেশটির গুরুত্ব এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের তাৎপর্য ভালোভাবে বুঝি।’
বাংলাদেশকে ‘গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে’ রয়েছে উল্লেখ করে ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘’২৪-এর আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বিক্ষোভ ১৫ বছর শাসনকারী সরকারের পতন ঘটিয়েছে। নতুন সরকার এবং নতুন পথনির্দেশ পেতে আগামী বছরের শুরুতে ভোট দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ, যা হবে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ নির্বাচন।’ তিনি বলেন, ‘উজ্জ্বল ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের যাত্রায় বাংলাদেশকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি ঢাকায় দূতাবাসকর্মীদের নিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত উত্তরাধিকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কাজ করবো।’
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পেলে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক উপস্থিতি বাড়ানো, বাণিজ্য বাধা ও বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করবেন তিনি।

ডিজিটাল ডেস্ক 





















