ময়মনসিংহ , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
​ডিসিদের প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের কড়া বার্তা জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষরকে আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী আওয়ামী লীগ শুধু উঁকি দিচ্ছে, তৎপরতার মুরোদ নেই বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার কথা বলায় ভারত সরকারের কোনো বাধা নেই জানিয়েছেন এফসিসি সভাপতি অবাক কাণ্ড! পারিবারিক কবরস্থানকে ঢাল বানিয়ে চলছিলো গাঁজার চাষ, আটক ১ চট্টগ্রামজুড়ে চরম দুর্ভোগ: গ্যাস সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও শিল্প উৎপাদন দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান: এই প্রথম চালু হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া! প্রবাসী আয়ে বড় উল্লম্ফন: জুলাই মাসেই দেশে এলো রেকর্ড ২৮৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স! গোপনীয়তা ভেঙে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা! নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৫০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কড়া মামলা “ওজন ১১০ কেজি হলেও কোনো বাধা নেই!”: শৌভিককে নিয়ে চাঞ্চল্যকর উড্ডয়নের অনুমতি
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

সংবিধান সংস্কার যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন কেবল সংশোধন হবে জানিয়েছেন চিফ হুইপ

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে

দেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ‘সংস্কার’ পর্ব ইতিমধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন তা আইনি রূপ দিতে সংবিধানে কেবল ‘সংশোধন’ আনা হবে বলে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের সংবিধানের আমূল পরিবর্তন বা সংস্কার নাকি বিদ্যমান কাঠামোর সংশোধন করা হবে—এমন এক জটিল ও সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘সংবিধানের মৌলিক সংস্কারটা মূলত হয়ে গেছে, যা হওয়ার তা চূড়ান্ত হয়েছে। এখন হবে সুনির্দিষ্ট সংশোধন। সংবিধান সংশোধনই হবে এবং দেশের সর্বোচ্চ আইনসভার সদস্য হিসেবে আমরা সেটাই করতে যাচ্ছি।’

গত শনিবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে দেশের সাংবিধানিক ও আইনি রূপরেখা নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন।

সংবিধান সংশোধনীর লক্ষ্যে সংসদে একটি সর্বদলীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমরা এই ঐতিহাসিক কাজটি একতরফাভাবে করতে চাই না। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল, এমনকি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের নিয়েও আমরা একযোগে এই কাজটা করব। সে জন্যই আমরা সংসদে একটি বিশেষ কমিটির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব করেছি। সরকারি দলের পক্ষ থেকে কিছু যোগ্য ও বিশেষজ্ঞ নাম আমাদের তালিকায় ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত আছে।

এখন সংসদে থাকা বিরোধী দল যখন তাদের মনোনীত সদস্যদের নাম জমা দেবে, তখন আমরা সবাই একত্র হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু করব। আমাদের দল ও জোটের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, আমরা ইচ্ছে করলেই নিজেদের মতো করে তা পাস করতে পারি, কিন্তু আমরা তা করব না। আমরা সকলকে সাথে নিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে চলতে চাই।’ সাংবাদিকরা যদি বিরোধী দল নাম না দেয় তবে কী হবে—এমন প্রশ্ন তুললে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, ‘বিরোধী দল নাম দেবেই। কেন দেবে? কারণ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি বাস্তবতায় সংবিধান সংশোধন করা ছাড়া কারও সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।’

সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং মৌলিক অধিকারের ধারাগুলো কোনোভাবেই পরিবর্তনযোগ্য নয়। এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ধারা যদি অসাবধানতাবশত সংশোধন করাও হয়, তবে সেই সংশোধিত অংশটুকু আপনাআপনি বাতিল হয়ে যাবে, দেশের আইনি কাঠামোতে এ রকম কঠোর আইন আছে। তারপরও সার্বভৌম সংসদ যদি কোনো কিছু ভুলবশত করে ফেলে, সে ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট হচ্ছেন সংবিধানের মূল “কাস্টডি” বা অভিভাবক। অতীতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে দেশের সব বিভাগে হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল করে দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট।’ তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, সাম্প্রতিক গণভোটে দেশের ৭২ শতাংশ মানুষ ইতিবাচক পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং দেশের বৃহত্তম দল হিসেবে আমাদের প্রার্থীরা ৫২ শতাংশ মানুষের সরাসরি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে, যা মূলত এই সংস্কার ও সনদের পক্ষেই গণরায়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

​ডিসিদের প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের কড়া বার্তা

সংবিধান সংস্কার যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন কেবল সংশোধন হবে জানিয়েছেন চিফ হুইপ

আপডেট সময় ১০:০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

দেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ‘সংস্কার’ পর্ব ইতিমধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন তা আইনি রূপ দিতে সংবিধানে কেবল ‘সংশোধন’ আনা হবে বলে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের সংবিধানের আমূল পরিবর্তন বা সংস্কার নাকি বিদ্যমান কাঠামোর সংশোধন করা হবে—এমন এক জটিল ও সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘সংবিধানের মৌলিক সংস্কারটা মূলত হয়ে গেছে, যা হওয়ার তা চূড়ান্ত হয়েছে। এখন হবে সুনির্দিষ্ট সংশোধন। সংবিধান সংশোধনই হবে এবং দেশের সর্বোচ্চ আইনসভার সদস্য হিসেবে আমরা সেটাই করতে যাচ্ছি।’

গত শনিবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে দেশের সাংবিধানিক ও আইনি রূপরেখা নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন।

সংবিধান সংশোধনীর লক্ষ্যে সংসদে একটি সর্বদলীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমরা এই ঐতিহাসিক কাজটি একতরফাভাবে করতে চাই না। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল, এমনকি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের নিয়েও আমরা একযোগে এই কাজটা করব। সে জন্যই আমরা সংসদে একটি বিশেষ কমিটির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব করেছি। সরকারি দলের পক্ষ থেকে কিছু যোগ্য ও বিশেষজ্ঞ নাম আমাদের তালিকায় ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত আছে।

এখন সংসদে থাকা বিরোধী দল যখন তাদের মনোনীত সদস্যদের নাম জমা দেবে, তখন আমরা সবাই একত্র হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু করব। আমাদের দল ও জোটের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, আমরা ইচ্ছে করলেই নিজেদের মতো করে তা পাস করতে পারি, কিন্তু আমরা তা করব না। আমরা সকলকে সাথে নিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে চলতে চাই।’ সাংবাদিকরা যদি বিরোধী দল নাম না দেয় তবে কী হবে—এমন প্রশ্ন তুললে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, ‘বিরোধী দল নাম দেবেই। কেন দেবে? কারণ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি বাস্তবতায় সংবিধান সংশোধন করা ছাড়া কারও সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।’

সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং মৌলিক অধিকারের ধারাগুলো কোনোভাবেই পরিবর্তনযোগ্য নয়। এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ধারা যদি অসাবধানতাবশত সংশোধন করাও হয়, তবে সেই সংশোধিত অংশটুকু আপনাআপনি বাতিল হয়ে যাবে, দেশের আইনি কাঠামোতে এ রকম কঠোর আইন আছে। তারপরও সার্বভৌম সংসদ যদি কোনো কিছু ভুলবশত করে ফেলে, সে ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট হচ্ছেন সংবিধানের মূল “কাস্টডি” বা অভিভাবক। অতীতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে দেশের সব বিভাগে হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল করে দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট।’ তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, সাম্প্রতিক গণভোটে দেশের ৭২ শতাংশ মানুষ ইতিবাচক পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং দেশের বৃহত্তম দল হিসেবে আমাদের প্রার্থীরা ৫২ শতাংশ মানুষের সরাসরি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে, যা মূলত এই সংস্কার ও সনদের পক্ষেই গণরায়।