ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নেত্রকোনার কলমাকান্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সাব-রেজিস্ট্রার দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় ভূমি সেবা ব্যাহত শিক্ষামন্ত্রীর ঝটিকা অভিযান: না জানিয়েই কেন্দ্র পরিদর্শনে যাওয়ার ঘোষণা জ্বালানি দামের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিবহন ভাড়া নির্ধারণ হবে জানিয়েছেন ডা. জাহেদ আদালতে হাজির না হওয়ায় মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে পরোয়ানা তৌকীর আমার জীবনের ‘প্রথম ভিলেন’ জানিয়েছেন আবুল হায়াত ​বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে পর্তুগালের প্রতি আহ্বান প্রশাসনহীন নালিতাবাড়ী: থেমে ছে উন্নয়ন : বেড়েছে ভোগান্তি ” ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বক্তব্যে পাকিস্তানের তীব্র প্রতিবাদ ও সতর্কতা পূর্বধলায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ, কারণ দর্শানোর নোটিশ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

মাদারগঞ্জের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসক নেই

মা ও শিশুর উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ হলেও গর্ভবতী, প্রসূতি ও শিশুদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। 

মাদারগঞ্জ পৌরসভার গাবেরগ্রাম এলাকায় ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি উদ্বোধন করা হয় তিন তলাবিশিষ্ট হাসপাতালটি। অথচ হাসপাতালটি এখনো পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) ও পিয়ন কাম চৌকিদার দিয়ে চলছে এ হাসপাতালের কার্যক্রম। ফলে বাধ্য হয়ে গর্ভবতী, প্রসূতি ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিতে উপজেলা সদরে ছুটে যেতে হচ্ছে। এতে অবর্ণনীয় ভোগান্তি, অতিরিক্ত ব্যয় ও জীবনঝুঁকির পাশাপাশি ঘটছে প্রাণহানিও।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিতে দুইজন মেডিকেল অফিসারসহ অন্যান্য পদ রয়েছে ১৪ টি। এর মধ্যে মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক), মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি), ফার্মাসিস্ট, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ফিমেইল মেডিক্যাল এ্যাটেনডেন্ট, ড্রাইভার, অফিস সহায়ক, আয়া, সুইপার, এমএলএসএসসহ ১২ পদ খালি রয়েছে। পিয়ন কাম চৌকিদার প্রেষণে এই হাসপাতালে রয়েছেন।

 মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে তিন তলাবিশিষ্ট ভবন আছে, প্রয়োজনীয় পরিমাণ আসবাবপত্র আছে, প্রচুর রোগীও আছে; চিকিৎসকদের জন্য আবাসিক ভবনও আছে। নেই শুধু চিকিৎসক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম। গর্ভবতী মা ও শিশুদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য নির্মিত হাসপাতাল উদ্বোধনের পর দীর্ঘ নয় বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম। ফলে আধুনিক অবকাঠামোর এই হাসপাতালটি অনেকটা অকেজো এবং অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা খালেদা বেগম জানান, হাসপাতাল উদ্বোধনের পর তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাননি। এখানে কোনো চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। রোগী ভর্তি, অপারেশন ও চিকিৎসাসেবা না থাকায় এ স্বাস্থ্য কেন্দ্র মানুষের কোনো কাজেই আসছে না।

গাবেরগ্রাম এলাকার  লোকজন জানান, এই হাসপাতালে ডাক্তার থাকলে আমরা হাতের কাছেই সব চিকিৎসা পেতাম, ওষুধও পেতাম। বাইরে চিকিৎসা নিতে যাওয়ায় খরচ বাড়ে, সময় অপচয় হয়।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ডা. সুস্মিতা দত্ত জানান, গাবেরগ্রামের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে জনবল সংকটে রয়েছে। সেখানে কোন চিকিৎসক নেই। তিনি কেন্দ্রটিতে সপ্তাহে একদিন চিকিৎসা সেবা দেন। এছাড়াও একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা তিন দিন রোগীদের সেবা প্রদান করেন।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, জনবল না থাকায় স্থানীয়ভাবে সমন্বয় করে আংশিকভাবে সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনার কলমাকান্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে

মাদারগঞ্জের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসক নেই

আপডেট সময় ০২:২৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

মা ও শিশুর উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ হলেও গর্ভবতী, প্রসূতি ও শিশুদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। 

মাদারগঞ্জ পৌরসভার গাবেরগ্রাম এলাকায় ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি উদ্বোধন করা হয় তিন তলাবিশিষ্ট হাসপাতালটি। অথচ হাসপাতালটি এখনো পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) ও পিয়ন কাম চৌকিদার দিয়ে চলছে এ হাসপাতালের কার্যক্রম। ফলে বাধ্য হয়ে গর্ভবতী, প্রসূতি ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিতে উপজেলা সদরে ছুটে যেতে হচ্ছে। এতে অবর্ণনীয় ভোগান্তি, অতিরিক্ত ব্যয় ও জীবনঝুঁকির পাশাপাশি ঘটছে প্রাণহানিও।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিতে দুইজন মেডিকেল অফিসারসহ অন্যান্য পদ রয়েছে ১৪ টি। এর মধ্যে মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক), মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি), ফার্মাসিস্ট, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ফিমেইল মেডিক্যাল এ্যাটেনডেন্ট, ড্রাইভার, অফিস সহায়ক, আয়া, সুইপার, এমএলএসএসসহ ১২ পদ খালি রয়েছে। পিয়ন কাম চৌকিদার প্রেষণে এই হাসপাতালে রয়েছেন।

 মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে তিন তলাবিশিষ্ট ভবন আছে, প্রয়োজনীয় পরিমাণ আসবাবপত্র আছে, প্রচুর রোগীও আছে; চিকিৎসকদের জন্য আবাসিক ভবনও আছে। নেই শুধু চিকিৎসক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম। গর্ভবতী মা ও শিশুদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য নির্মিত হাসপাতাল উদ্বোধনের পর দীর্ঘ নয় বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম। ফলে আধুনিক অবকাঠামোর এই হাসপাতালটি অনেকটা অকেজো এবং অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা খালেদা বেগম জানান, হাসপাতাল উদ্বোধনের পর তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাননি। এখানে কোনো চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। রোগী ভর্তি, অপারেশন ও চিকিৎসাসেবা না থাকায় এ স্বাস্থ্য কেন্দ্র মানুষের কোনো কাজেই আসছে না।

গাবেরগ্রাম এলাকার  লোকজন জানান, এই হাসপাতালে ডাক্তার থাকলে আমরা হাতের কাছেই সব চিকিৎসা পেতাম, ওষুধও পেতাম। বাইরে চিকিৎসা নিতে যাওয়ায় খরচ বাড়ে, সময় অপচয় হয়।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ডা. সুস্মিতা দত্ত জানান, গাবেরগ্রামের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে জনবল সংকটে রয়েছে। সেখানে কোন চিকিৎসক নেই। তিনি কেন্দ্রটিতে সপ্তাহে একদিন চিকিৎসা সেবা দেন। এছাড়াও একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা তিন দিন রোগীদের সেবা প্রদান করেন।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, জনবল না থাকায় স্থানীয়ভাবে সমন্বয় করে আংশিকভাবে সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।