ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
​সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, মাছ ধরার নৌকায় সতর্কতা জুলাই নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার করতে হবে বললেন আখতার হোসেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বড় রদবদল: স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান ​জাতীয় নির্বাচনের পাঠ নিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে নামছে নির্বাচন কমিশন পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায় বৃহস্পতিবার জনদুর্ভোগ লাঘবে নারী এমপির অনুদান; সড়ক সংস্কারে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল ​আর্জেন্টিনার প্রতি শুভকামনা মোস্তফা জিকোর, প্রত্যাশা আরও এক বিশ্বকাপের রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ: ‘টাকার বিনিময়ে ম্যাচ হেরেছি’, অভিযোগ মিশর কোচের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ-পাকিস্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত ​কারবালার পথে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত টানা বর্ষণে , পানিবন্দি লাখো মানুষ

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪৯:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
  • ২০৫ বার পড়া হয়েছে

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে জেলা শহরের সড়ক থেকে গলি, বাড়ি থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। হাঁটুপানি জমেছে শহরের অধিকাংশ এলাকায়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। এছাড়া পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে সবজিক্ষেত ও আমন বীজতলা।

বুধবার ( ৯ জুলাই) সরেজমিন দেখা যায়, শহরের খানজাহান আলী রোড, রেল রোড, সাধনার মোড়, শালতলা, পিটিআই মোড়, খারদার স্কুল রোড, জেলা হাসপাতাল মোড়, জেলা ডাকঘরের সামনে, বাসাবাটি, মিঠাপুকুরপাড় মোড়, পৌরসভার পাশের এলাকা, জাহানাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সড়ক, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রসহ অনেক জায়গায় হাঁটুপানি জমে আছে।

এ ছাড়া, অনেক দোকান ও বাসাবাড়িতে পানি উঠে গেছে। রাস্তা-ঘাটে পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

সদর ছাড়াও বাগেরহাটের নয়টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে, উপকূলের উপজেলা মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল ও মোংলার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে ছোট ছোট মাছের ঘের ও পুকুর।

শহরের খারদ্বর এলাকার গৃহবধূ জুলিয়া বেগম জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। এতে শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না। জরুরি প্রয়োজনে দোকান ও বাজারে যাতায়াতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শহরের বাসিন্দা স্বপ্না আক্তার বলেন, ‘বাড়ির ভেতরে পানি উঠে গেছে। চুলায় আগুন ধরানো যাচ্ছে না। ছোট ছেলেটা পানিতে ভিজে সর্দি-জ্বরে ভুগছে।’

বাগেরহাট পৌরসভার একাধিক বাসিন্দা জানান, সরকারি খাল প্রভাবশালীরা দখল করে নেওয়ায় এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় পানি নামতে পারছে না। তারা অবিলম্বে সরকারি খাল দখলমুক্ত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে বাগেরহাট পৌরসভার প্রশাসক ডা. ফখরুল হাসান বলেন, ‘পৌর শহরে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে, দৃশ্যমান হলে জনভোগান্তি কমবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে।’

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আলহাজ মোতাহার হোসেন জানান, টানা বর্ষণে বাগেরহাটের ১ হাজার ৮ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত রয়েছে। এর মধ্যে ২২২ সেক্টর আমন বীজতলা, ১৭০ হেক্টর সবজি, চার হেক্টর পান ও সাত হেক্টর মরিচক্ষেত রয়েছে।

এই মুহূর্তে বৃষ্টির পানি নেমে গেলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে না বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

​সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, মাছ ধরার নৌকায় সতর্কতা

বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত টানা বর্ষণে , পানিবন্দি লাখো মানুষ

আপডেট সময় ১০:৪৯:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে জেলা শহরের সড়ক থেকে গলি, বাড়ি থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। হাঁটুপানি জমেছে শহরের অধিকাংশ এলাকায়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। এছাড়া পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে সবজিক্ষেত ও আমন বীজতলা।

বুধবার ( ৯ জুলাই) সরেজমিন দেখা যায়, শহরের খানজাহান আলী রোড, রেল রোড, সাধনার মোড়, শালতলা, পিটিআই মোড়, খারদার স্কুল রোড, জেলা হাসপাতাল মোড়, জেলা ডাকঘরের সামনে, বাসাবাটি, মিঠাপুকুরপাড় মোড়, পৌরসভার পাশের এলাকা, জাহানাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সড়ক, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রসহ অনেক জায়গায় হাঁটুপানি জমে আছে।

এ ছাড়া, অনেক দোকান ও বাসাবাড়িতে পানি উঠে গেছে। রাস্তা-ঘাটে পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

সদর ছাড়াও বাগেরহাটের নয়টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে, উপকূলের উপজেলা মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল ও মোংলার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে ছোট ছোট মাছের ঘের ও পুকুর।

শহরের খারদ্বর এলাকার গৃহবধূ জুলিয়া বেগম জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। এতে শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না। জরুরি প্রয়োজনে দোকান ও বাজারে যাতায়াতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শহরের বাসিন্দা স্বপ্না আক্তার বলেন, ‘বাড়ির ভেতরে পানি উঠে গেছে। চুলায় আগুন ধরানো যাচ্ছে না। ছোট ছেলেটা পানিতে ভিজে সর্দি-জ্বরে ভুগছে।’

বাগেরহাট পৌরসভার একাধিক বাসিন্দা জানান, সরকারি খাল প্রভাবশালীরা দখল করে নেওয়ায় এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় পানি নামতে পারছে না। তারা অবিলম্বে সরকারি খাল দখলমুক্ত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে বাগেরহাট পৌরসভার প্রশাসক ডা. ফখরুল হাসান বলেন, ‘পৌর শহরে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে, দৃশ্যমান হলে জনভোগান্তি কমবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে।’

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আলহাজ মোতাহার হোসেন জানান, টানা বর্ষণে বাগেরহাটের ১ হাজার ৮ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত রয়েছে। এর মধ্যে ২২২ সেক্টর আমন বীজতলা, ১৭০ হেক্টর সবজি, চার হেক্টর পান ও সাত হেক্টর মরিচক্ষেত রয়েছে।

এই মুহূর্তে বৃষ্টির পানি নেমে গেলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে না বলেও জানান তিনি।