ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
অনলাইন-অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি ঘোষণা করল ঢাকার নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখাতে চাই বলেছেন সিইসি পহেলা বৈশাখে কৃষকদের নতুন উপহার: ১০ জেলায় ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী বেরোবির দুই শিক্ষক ও শাখা ছাত্রলীগ সভাপতির ১০ বছরের কারাদণ্ড সংসদে হাসনাত: মানবাধিকার কমিশন আইন দিয়ে বিরোধী দল দমনের অভিযোগ সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিল পাস রামেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫০ শিশুর মৃত্যু রাজনৈতিক আক্রমণ’ নিয়ে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন থালাপতি বিজয় কর্ম হারিয়ে দেশে আসা প্রবাসীদের নতুন কর্মসংস্থানের চেষ্টা করছি জানিয়েছেন শামা ওবায়েদ শিশু বলাৎকারের অভিযোগ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

মাত্র ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে জেল খাটছেন সাইফুল ,প্রকৃত আসামি বাইরে

গাজীপুরে মাত্র ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রকৃত আসামির হয়ে কারাবন্দি হয়েছেন সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। বন বিভাগের করা মামলায় প্রধান আসামি সাত্তার মিয়া আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কারাগারে থাকার কথা থাকলেও তিনি দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন এলাকায়। আর তার পরিবর্তে গাজীপুর জেলা কারাগারে বন্দি আছেন একই গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল।

প্রকৃত আসামি সাত্তার মিয়ার বয়স ৪৫ বছর। তার বাড়ি কালিয়াকৈর উপজেলার মোথাজুরী তালচালা গ্রামে। কারাগারে থাকা সাইফুল ইসলাম (৩০) একই গ্রামের রহিম বাদশার ছেলে। এলাকাবাসীর দাবি, মামলার ঝামেলা এড়াতেই সাত্তারের লোকজন সাইফুলকে অর্থের লোভ দেখিয়ে তার নামে কাগজপত্র তৈরি করেন এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করান।

গত ৯ সেপ্টেম্বর কালিয়াকৈরের ফুলবাড়িয়া (বা কাচিঘাটা) রেঞ্জ এলাকার বন থেকে সরকারি গাছ কাটার সময় বন কর্মকর্তারা হাতেনাতে কয়েকজনকে আটক করেন। এ সময় বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়। পরে বন বিভাগ জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করে। তিন মাস পর ৭ ডিসেম্বর প্রধান আসামি সাত্তার আদালতে হাজিরা দেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, যার থাকার কথা কারাগারে, তিনি নিজ এলাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছেন।

ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের তালচালা গ্রামে গিয়ে পাওয়া যায় না সাত্তারকে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি ব্যক্তিগত কাজে মাওনায় অবস্থান করছেন। যদিও আদালতের নথি অনুসারে এই সময়ে তার থাকা উচিত ছিল জেলা কারাগারে।

কালিয়াকৈর কাচিঘাটা রেঞ্জের বিট অফিসার শরিফ খান বলেন, ‘স্থানীয়দের অস্ত্রের মুখে আমরা অসহায় তাই আলামত জব্দ করে ফিরে এসে মামলা দায়ের করি।’

কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ রফিকুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসামি এন্ট্রি করার সময় সে তার নাম সাত্তার বলেছে তাই সন্দেহ করিনি। পরে জানার পর বায়োমেট্রিক পরীক্ষা করে জানতে পারি, সে আসলে সাত্তার না; সাইফুল ইসলাম। বিষয়টি আমরা আদালতে চিঠি দিয়ে অবগত করেছি।’

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ‘ভাড়াটে আসামি’ পাঠানোর এ ধরনের ঘটনা সমাজে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অনলাইন-অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি ঘোষণা করল ঢাকার নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

মাত্র ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে জেল খাটছেন সাইফুল ,প্রকৃত আসামি বাইরে

আপডেট সময় ০৯:০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

গাজীপুরে মাত্র ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রকৃত আসামির হয়ে কারাবন্দি হয়েছেন সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। বন বিভাগের করা মামলায় প্রধান আসামি সাত্তার মিয়া আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কারাগারে থাকার কথা থাকলেও তিনি দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন এলাকায়। আর তার পরিবর্তে গাজীপুর জেলা কারাগারে বন্দি আছেন একই গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল।

প্রকৃত আসামি সাত্তার মিয়ার বয়স ৪৫ বছর। তার বাড়ি কালিয়াকৈর উপজেলার মোথাজুরী তালচালা গ্রামে। কারাগারে থাকা সাইফুল ইসলাম (৩০) একই গ্রামের রহিম বাদশার ছেলে। এলাকাবাসীর দাবি, মামলার ঝামেলা এড়াতেই সাত্তারের লোকজন সাইফুলকে অর্থের লোভ দেখিয়ে তার নামে কাগজপত্র তৈরি করেন এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করান।

গত ৯ সেপ্টেম্বর কালিয়াকৈরের ফুলবাড়িয়া (বা কাচিঘাটা) রেঞ্জ এলাকার বন থেকে সরকারি গাছ কাটার সময় বন কর্মকর্তারা হাতেনাতে কয়েকজনকে আটক করেন। এ সময় বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়। পরে বন বিভাগ জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করে। তিন মাস পর ৭ ডিসেম্বর প্রধান আসামি সাত্তার আদালতে হাজিরা দেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, যার থাকার কথা কারাগারে, তিনি নিজ এলাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছেন।

ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের তালচালা গ্রামে গিয়ে পাওয়া যায় না সাত্তারকে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি ব্যক্তিগত কাজে মাওনায় অবস্থান করছেন। যদিও আদালতের নথি অনুসারে এই সময়ে তার থাকা উচিত ছিল জেলা কারাগারে।

কালিয়াকৈর কাচিঘাটা রেঞ্জের বিট অফিসার শরিফ খান বলেন, ‘স্থানীয়দের অস্ত্রের মুখে আমরা অসহায় তাই আলামত জব্দ করে ফিরে এসে মামলা দায়ের করি।’

কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ রফিকুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসামি এন্ট্রি করার সময় সে তার নাম সাত্তার বলেছে তাই সন্দেহ করিনি। পরে জানার পর বায়োমেট্রিক পরীক্ষা করে জানতে পারি, সে আসলে সাত্তার না; সাইফুল ইসলাম। বিষয়টি আমরা আদালতে চিঠি দিয়ে অবগত করেছি।’

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ‘ভাড়াটে আসামি’ পাঠানোর এ ধরনের ঘটনা সমাজে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।