ময়মনসিংহ , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পূর্বধলায় বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া আদায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ২০৬ সংযোগ বিচ্ছিন্ন সরকারি চাকরিজীবীদের সুখবর: জুনেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট, আসছে গ্রেড ও পেনশন সুবিধায় বড় পরিবর্তন গৌরীপুরে মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ, সন্ধানের অপেক্ষায় পরিবার ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মামলার জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ, লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফেরাতে উদ্যোগ: আলিমের সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক জুলাই থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে নবম পে-স্কেল! প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা: অনুমোদনের অপেক্ষায় ৮,১০৬ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্মবিরতি শেষে কাজে যোগ দিচ্ছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা দুই পয়েন্ট থেকে ২১ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

মৃত নয় এই শহর,ইতিহাস জানে—ঘুম ভাঙলেই ময়মনসিংহ হাঁটতে শেখে নতুন পথে

“চাকার ঘূর্ণনের অপেক্ষায় আজ ময়মনসিংহ শহর,এ কি শুধু থমকে থাকা – নাকি নীরবে জেগে ওঠার পূর্বক্ষণ?মৃত নয় এই শহর,ইতিহাস জানে—ঘুম ভাঙলেই ময়মনসিংহ হাঁটতে শেখে নতুন পথে।”

থমকে থাকা সময়ই আজ ময়মনসিংহের সবচেয়ে বড় সংকট।ব্রহ্মপুত্রের তীরে গড়ে ওঠা শিক্ষা, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের শহর ময়মনসিংহ আজ পরিচিত হচ্ছে এক দুঃখজনক নামে— যানজটের শহর।এটা শুধু যানবাহনের জট নয়,এটা আমাদের সময়ের অপমান,জীবনের গতির বিরুদ্ধে এক নীরব যুদ্ধ।কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে যখন ঘণ্টা পার হয়,তখন হারায় অফিসগামী মানুষের কর্মঘণ্টা,ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা,আর অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকে অনিশ্চয়তার প্রহরে।এই যানজট একদিনে তৈরি হয়নি ।অপরিকল্পিত নগরায়ণ,দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের অভাব,প্রতিনিধিদের জবাবদিহিতায় না দাড়াঁনো নিয়ন্ত্রণহীন ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা,অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত দখল—সব মিলিয়ে শহরের শ্বাসরোধ করছি আমরা নিজেরাই।রেলক্রসিং নামলেই শহর দুই ভাগে বিভক্ত হয়,গেট উঠলেও বিশৃঙ্খলার রেশ কাটে না ঘণ্টার পর ঘণ্টা।নিয়মের চেয়ে বিশৃঙ্খলাই এখানে বেশি কার্যকর—এটাই আজ আমাদের বাস্তবতা।কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমরা কি এই বাস্তবতাকেই ভবিষ্যৎ বানাতে চাই?ময়মনসিংহ আমাদের গর্ব।এই শহর ক্লান্তির ভার বইবে না,এই শহর থেমে থাকবে না।আমরা চাই এমন এক ময়মনসিংহ—যেখানে সময় মানেই অগ্রগতি,যেখানে চাকা ঘুরবে গন্তব্যের টানে,অনন্ত অপেক্ষার বোঝা নিয়ে নয়।এর জন্য দরকার যুগোপযোগী ট্রাফিক প্রকৌশল,এক মুখী সড়ক ব্যবস্থা,নির্দিষ্ট পার্কিং জোন,উড়াল সড়ক ও বিকল্প সংযোগ সড়ক।আর সবচেয়ে বড় কথা— কঠোর আইন প্রয়োগ ও নাগরিক সচেতনতা।ফুটপাত হবে পথচারীদের,রাস্তা থাকবে যানবাহনের জন্য।নিয়ম মানা হবে ভয় থেকে নয়,দায়িত্ববোধ থেকে।কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা আর নাগরিকের সচেতনতা—এই দুই শক্তিই পারেময়মনসিংহের এই নীরব আর্তনাদ থামিয়েশহরটাকে আবার গতিশীল করতে।সময় থামিয়ে রাখা যায় না।চলুন, ময়মনসিংহকে আবার চলতে দিই।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পূর্বধলায় বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া আদায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ২০৬ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

মৃত নয় এই শহর,ইতিহাস জানে—ঘুম ভাঙলেই ময়মনসিংহ হাঁটতে শেখে নতুন পথে

আপডেট সময় ০২:৪২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

“চাকার ঘূর্ণনের অপেক্ষায় আজ ময়মনসিংহ শহর,এ কি শুধু থমকে থাকা – নাকি নীরবে জেগে ওঠার পূর্বক্ষণ?মৃত নয় এই শহর,ইতিহাস জানে—ঘুম ভাঙলেই ময়মনসিংহ হাঁটতে শেখে নতুন পথে।”

থমকে থাকা সময়ই আজ ময়মনসিংহের সবচেয়ে বড় সংকট।ব্রহ্মপুত্রের তীরে গড়ে ওঠা শিক্ষা, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের শহর ময়মনসিংহ আজ পরিচিত হচ্ছে এক দুঃখজনক নামে— যানজটের শহর।এটা শুধু যানবাহনের জট নয়,এটা আমাদের সময়ের অপমান,জীবনের গতির বিরুদ্ধে এক নীরব যুদ্ধ।কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে যখন ঘণ্টা পার হয়,তখন হারায় অফিসগামী মানুষের কর্মঘণ্টা,ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা,আর অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকে অনিশ্চয়তার প্রহরে।এই যানজট একদিনে তৈরি হয়নি ।অপরিকল্পিত নগরায়ণ,দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের অভাব,প্রতিনিধিদের জবাবদিহিতায় না দাড়াঁনো নিয়ন্ত্রণহীন ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা,অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত দখল—সব মিলিয়ে শহরের শ্বাসরোধ করছি আমরা নিজেরাই।রেলক্রসিং নামলেই শহর দুই ভাগে বিভক্ত হয়,গেট উঠলেও বিশৃঙ্খলার রেশ কাটে না ঘণ্টার পর ঘণ্টা।নিয়মের চেয়ে বিশৃঙ্খলাই এখানে বেশি কার্যকর—এটাই আজ আমাদের বাস্তবতা।কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমরা কি এই বাস্তবতাকেই ভবিষ্যৎ বানাতে চাই?ময়মনসিংহ আমাদের গর্ব।এই শহর ক্লান্তির ভার বইবে না,এই শহর থেমে থাকবে না।আমরা চাই এমন এক ময়মনসিংহ—যেখানে সময় মানেই অগ্রগতি,যেখানে চাকা ঘুরবে গন্তব্যের টানে,অনন্ত অপেক্ষার বোঝা নিয়ে নয়।এর জন্য দরকার যুগোপযোগী ট্রাফিক প্রকৌশল,এক মুখী সড়ক ব্যবস্থা,নির্দিষ্ট পার্কিং জোন,উড়াল সড়ক ও বিকল্প সংযোগ সড়ক।আর সবচেয়ে বড় কথা— কঠোর আইন প্রয়োগ ও নাগরিক সচেতনতা।ফুটপাত হবে পথচারীদের,রাস্তা থাকবে যানবাহনের জন্য।নিয়ম মানা হবে ভয় থেকে নয়,দায়িত্ববোধ থেকে।কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা আর নাগরিকের সচেতনতা—এই দুই শক্তিই পারেময়মনসিংহের এই নীরব আর্তনাদ থামিয়েশহরটাকে আবার গতিশীল করতে।সময় থামিয়ে রাখা যায় না।চলুন, ময়মনসিংহকে আবার চলতে দিই।