মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযানের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, লেবানন ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমেরিকান নাগরিকদের অবিলম্বে অঞ্চল ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পলিটিকো।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তারা। এই যৌথ হামলার পর ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের পাশের একটি পার্কিং এলাকায় ইরানি ড্রোন আঘাত হানে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিউ। তিনি বলেন, ‘আমাদের দূতাবাস ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো একটি সন্ত্রাসী হামলার মুখে রয়েছে।’
এদিকে ইসরায়েলের জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তাদের পক্ষে সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা নেই এবং দেশ ছাড়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি সামাজিক মাধ্যমে এ তথ্য জানান।
পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভকারীরা হামলার চেষ্টা চালায়। দেশটির বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যার কিছু সহিংসতায় রূপ নেয়।
সংকটের প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট ও ভারী বোমাবর্ষণ চলবে।’
তবে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নিউ জার্সির সিনেটর অ্যান্ডি কিম ও কানেকটিকাটের সিনেটর ক্রিস মারফি সামাজিক মাধ্যমে প্রশাসনের কৌশল ও পরিকল্পনার ঘাটতির সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে, যা ‘দুর্বল পরিকল্পনার’ ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে মার্কিন সামরিক পরিবহন কর্মসূচি ‘সিভিল রিজার্ভ এয়ার ফ্লিট’ এখনো সক্রিয় করা হয়নি বলে জানা গেছে। যদিও পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মার্কিন নাগরিকদের সরিয়ে নিতে সামরিক ও চার্টার বিমান প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, অভিযান দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলকভাবে শেষ হবে। তার দাবি, এই পদক্ষেপ ইরানি জনগণের জন্য নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরির পথ খুলে দেবে।

ডিজিটাল ডেস্ক 






















