ইরানের শেষ সম্রাট শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিধবা পত্নী ফারাহ পাহলভি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইরানি জনগণের নিজস্ব পথ বেছে নেওয়ার অধিকারকে সম্মান করতে হবে।
গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্যারিসে বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। ১৯৮৭ সালে প্যারিসে নির্বাসিত হওয়া এই ৮৭ বছর বয়সী সাবেক সম্রাজ্ঞী মনে করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইর মৃত্যু ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এটি সরাসরি বর্তমান ব্যবস্থার পতন ঘটাবে না। বরং ইরানি জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই দেশটির ভবিষ্যৎ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমি চাই বিশ্ব সম্প্রদায় স্পষ্টভাবে ইরানিদের মৌলিক অধিকারগুলোকে সমর্থন করুক। তাদের নিজেদের নেতা বেছে নেওয়া, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করা এবং মর্যাদা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।’ এই সমর্থন ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের বদলে জনগণের স্বার্থে হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-এর তথ্যমতে, এই দমন-পীড়নে ৭ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে যাদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী। তবে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে। এই চরম উত্তেজনার মাঝে ফারাহ পাহলভি কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা সহিংসতা না ছড়িয়ে একটি পদ্ধতিগত পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন।
এদিকে ফারাহ পাহলভির পুত্র এবং শাহের উত্তরাধিকারী রেজা পাহলভি বর্তমান সংকটে নিজেকে একটি বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে উপস্থাপন করছেন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি ইরানের জাতিগত সংখ্যালঘুদের প্রতি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন।তিনি বিভিন্ন সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিকে বিচ্ছিন্নতাবাদের কাজে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে নির্বাসনে থাকা পাহলভি পরিবার এখন ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের আশায় বিশ্ব জনমত গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ইরানের ভেতরে এই পরিবারের প্রভাব এবং গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

ডিজিটাল ডেস্ক 






















