সওমের প্রকৃত তাৎপর্য আত্মসংযম, নৈতিকতা ও সমাজ পরিবর্তনের চেতনা জাগ্রত করা—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে “সওম (আত্মসংযম): বিপ্লবের অনিবার্য চরিত্র” শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) ময়মনসিংহের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, সওম কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং এটি মানুষের আত্মসংযম, নৈতিক শুদ্ধতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি জোগায়। তিনি বলেন, সমাজে ন্যায়, সত্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মসংযমের শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আত্মসংযমই ব্যক্তি ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে এবং প্রকৃত বিপ্লবের অনিবার্য চরিত্র হিসেবে কাজ করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ বিভাগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোর্শেদ খান। তিনি বলেন, সওম মানুষের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তোলে এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পথ দেখায়। রমজানের এই শিক্ষা যদি ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
ময়মনসিংহ জেলা সভাপতি মো. বাচ্চু মিয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, আত্মসংযম ও নৈতিকতার চর্চা ছাড়া কোনো সমাজেই স্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়। রমজানের সওম মানুষকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেয়, যা একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি বলেন, ব্যক্তি জীবনে সওমের শিক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সমাজে অন্যায়, দুর্নীতি ও অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগের সভাপতি মো. এনামুল হক বাপ্পা। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, রমজানের সওম মানুষের আত্মিক ও নৈতিক উন্নয়নের এক অনন্য সুযোগ। এই শিক্ষা সমাজে ছড়িয়ে দিতে পারলে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
আলোচনা সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের সম্মানে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিভাগীয় সভাপতি মো. এনামুল হক বাপ্পা বলেন, ইসলাম, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে দেশের তরুণ সমাজসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
ইফতার মাহফিলে ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত দলীয় নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানটি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা সরেজমিনে কভার করেন। সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। গণমাধ্যমের উপস্থিতি কর্মসূচিকে আরও তাৎপর্যমণ্ডিত করে তোলে।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি 





















