ময়মনসিংহ , শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দেশের সব ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা চেয়েছে সরকার বাংলাদেশে বিনিয়োগ আরও বাড়াতে চীনকে বাণিজ্যমন্ত্রীর আহ্বান আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতার বিরুদ্ধে আপিল শুনানি ৯ জুন বদলে যাচ্ছে সময়সূচি: ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হতে পারে বছরের শেষ দিনে ​ট্রাইব্যুনালে দীপু মনি, শাকিল আহমেদ ও মোজাম্মেল বাবু: শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে শুনানি জামায়াত সেক্রেটারি মালয়েশিয়া গেলেন মধ্যরাতে ঢাবির হলে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ পূর্বধলায় নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে পিতা গ্রেফতার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির হচ্ছে জানিয়েছেন ভ্যান্স কর্ণাটকের স্কুলগুলোতে হিজাব পরার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প বলেছেন মার্কিন সিনেটর

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৩০:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • ৫০ বার পড়া হয়েছে

ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ধারাবাহিক কয়েকটি পোস্টে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে পুরো অঞ্চলকে সহিংসতার এক ভয়াবহ চক্রে নিক্ষেপ করেছে।

মারফি লিখেছেন, ‘এটি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, ট্রাম্প এই যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা সম্পর্কে তিনি মারাত্মক ভুল ধারণা পোষণ করেছিলেন। পুরো অঞ্চল এখন জ্বলছে।’

মারফি বলেন, প্রথম সংকটটি হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে। এটি একটি সরু নৌপথ যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২০ শতাংশেরও বেশি পরিবাহিত হয়।

সিনেটর বলেন, ইরানের ড্রোন, স্পিডবোট এবং সামুদ্রিক মাইনের ব্যবহার এই জলপথটিকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, এসব অস্ত্র ‘নির্মূল করা সম্ভব নয়। এগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি, সবখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এবং লুকানো।’

মারফি বলেন, এই প্রণালির মধ্য দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়া মার্কিন নৌবাহিনীকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

‘ট্রাম্প বড় ধরনের ভুল করেছেন’

মারফি বলেন, দ্বিতীয় সংকটটি তৈরি হয়েছে আধুনিক যুদ্ধবিগ্রহে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা থেকে। ইরান এই অঞ্চলের তেলক্ষেত্রগুলোতে অনির্দিষ্টকাল ধরে হামলা চালিয়ে যেতে পারে, কারণ তাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে সস্তা ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ড্রোন রয়েছে।

মারফি পারস্য উপসাগরে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর কথা উল্লেখ করেন যা জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি উৎপাদন ব্যাহত করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধ ইতিমধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে ড্রোন আধুনিক যুদ্ধবিগ্রহের ধরন বদলে দিয়েছে।

মারফি বলেন, ‘ট্রাম্প যদি ইউক্রেন যুদ্ধের দিকে সামান্যতম মনোযোগ দিতেন, তবে তিনি লক্ষ্য করতেন যে যুদ্ধকৌশল কতটা বদলে গেছে। কিন্তু তিনি তা করেননি। আর এভাবেই তিনি চরম ভুল করেছেন।’

এদিকে পুরো অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এখন প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে। যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর সাথে সাথে ইসরায়েল ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে যে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা মজুত ফুরিয়ে আসছে। মারফি বলেন, এই সংঘাত ভৌগোলিকভাবেও বিস্তৃতি লাভ করছে।

এই মার্কিন সিনেটর লিখেছেন, ‘একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে কারণ লেবাননে অবস্থিত ইরানের মিত্ররা (প্রক্সি) ইসরায়েলে এবং ইরাকের গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। ইসরায়েল এখন লেবাননে বড় ধরনের স্থল অভিযানের হুমকি দিচ্ছে, যা নিজেই একটি নতুন সংকটে পরিণত হতে পারে।’

তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, অন্যান্য রণাঙ্গনগুলোও শিগগিরই জ্বলে উঠতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের সব ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা চেয়েছে সরকার

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প বলেছেন মার্কিন সিনেটর

আপডেট সময় ০৯:৩০:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ধারাবাহিক কয়েকটি পোস্টে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে পুরো অঞ্চলকে সহিংসতার এক ভয়াবহ চক্রে নিক্ষেপ করেছে।

মারফি লিখেছেন, ‘এটি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, ট্রাম্প এই যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা সম্পর্কে তিনি মারাত্মক ভুল ধারণা পোষণ করেছিলেন। পুরো অঞ্চল এখন জ্বলছে।’

মারফি বলেন, প্রথম সংকটটি হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে। এটি একটি সরু নৌপথ যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২০ শতাংশেরও বেশি পরিবাহিত হয়।

সিনেটর বলেন, ইরানের ড্রোন, স্পিডবোট এবং সামুদ্রিক মাইনের ব্যবহার এই জলপথটিকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, এসব অস্ত্র ‘নির্মূল করা সম্ভব নয়। এগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি, সবখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এবং লুকানো।’

মারফি বলেন, এই প্রণালির মধ্য দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়া মার্কিন নৌবাহিনীকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

‘ট্রাম্প বড় ধরনের ভুল করেছেন’

মারফি বলেন, দ্বিতীয় সংকটটি তৈরি হয়েছে আধুনিক যুদ্ধবিগ্রহে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা থেকে। ইরান এই অঞ্চলের তেলক্ষেত্রগুলোতে অনির্দিষ্টকাল ধরে হামলা চালিয়ে যেতে পারে, কারণ তাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে সস্তা ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ড্রোন রয়েছে।

মারফি পারস্য উপসাগরে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর কথা উল্লেখ করেন যা জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি উৎপাদন ব্যাহত করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধ ইতিমধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে ড্রোন আধুনিক যুদ্ধবিগ্রহের ধরন বদলে দিয়েছে।

মারফি বলেন, ‘ট্রাম্প যদি ইউক্রেন যুদ্ধের দিকে সামান্যতম মনোযোগ দিতেন, তবে তিনি লক্ষ্য করতেন যে যুদ্ধকৌশল কতটা বদলে গেছে। কিন্তু তিনি তা করেননি। আর এভাবেই তিনি চরম ভুল করেছেন।’

এদিকে পুরো অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এখন প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে। যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর সাথে সাথে ইসরায়েল ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে যে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা মজুত ফুরিয়ে আসছে। মারফি বলেন, এই সংঘাত ভৌগোলিকভাবেও বিস্তৃতি লাভ করছে।

এই মার্কিন সিনেটর লিখেছেন, ‘একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে কারণ লেবাননে অবস্থিত ইরানের মিত্ররা (প্রক্সি) ইসরায়েলে এবং ইরাকের গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। ইসরায়েল এখন লেবাননে বড় ধরনের স্থল অভিযানের হুমকি দিচ্ছে, যা নিজেই একটি নতুন সংকটে পরিণত হতে পারে।’

তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, অন্যান্য রণাঙ্গনগুলোও শিগগিরই জ্বলে উঠতে পারে।