গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (শনিবার) মহান স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বীরত্বগাথা ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষীদের সম্মান জানাতে এক অনন্য আয়োজনের সাক্ষী হলো রাজধানী। সামাজিক সংগঠন “চেষ্টা “র উদ্যোগে রাওয়া ক্লাব অ্যাংকর হলে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় অনুষ্ঠিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধের চারজন বীরকন্যাকে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠান। সম্মানিত বীরকন্যারা হলেন রিজিয়া খাতুন, ফিরোজা বেগম, ফাতেমা আলী এবং আমিনা বেগম।
অনুষ্ঠানটি ছিল একাধারে শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা এবং মানবিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য মেলবন্ধন। স্বাধীনতার ইতিহাসে অবদান রাখা এই নারীদের সম্মান জানাতে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক অতিরিক্ত সচিবসহ দেশের বিশিষ্টজনেরা। অতিথিদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন “চেষ্টা”র সম্মানিত সভাপতি লায়লা নাজনীন হারুন এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গুলসান নাসরীন চৌধুরী। শুরুতেই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনাপ্রধান প্রয়াত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এম. হারুন-অর-রশিদ (বীর প্রতীক)-এর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বীরকন্যাদের সম্মাননা প্রদান করেন প্রধান অতিথি ও অন্যান্য সম্মানিত অতিথিবৃন্দ। তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়ার সময় পুরো হল জুড়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত অনেকের চোখে জল ছিল কৃতজ্ঞতার, শ্রদ্ধার এবং ইতিহাসের প্রতি গভীর দায়বোধের প্রতিফলন।
দ্বিতীয় পর্বে আয়োজন করা হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দেশের বরেণ্য শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। সমবেত কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য পরিবেশনা এবং কবিতা আবৃত্তি দর্শকদের মুগ্ধ করে। সঙ্গীত পরিবেশন করেন খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী লিনু বিল্লাহ্ এবং চন্দনা মজুমদার। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট সংবাদ পাঠক শিরিন শিলা, যার সাবলীল উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে প্রাণ সঞ্চার করে।
অনুষ্ঠানের আবেগঘন মুহূর্তে এক আবৃত্তিকার উচ্চারণ করেন
“তুমি নারী, তুমি জননী, তুমি শক্তির উৎসধারা,
রক্তে লেখা ইতিহাস তুমি, স্বাধীনতার অগ্নিধারা।
তোমার চোখে জ্বলে ওঠে জাতির মুক্তির শপথ,
তোমার ত্যাগেই রচিত হয়েছে স্বাধীনতার রথ।”
এই কবিতার পংক্তিগুলো যেন বীরকন্যাদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার প্রতিচ্ছবি হয়ে প্রতিধ্বনিত হয় পুরো মিলনায়তনে।
অনুষ্ঠান শেষে বীরকন্যাদের সম্মানে উপস্থিত সকল অতিথিদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ মিলনমেলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
গণমাধ্যমের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এই আয়োজনকে আরও তাৎপর্যমণ্ডিত করে তোলে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানটি সরেজমিনে কভার করেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি ছিল সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর। উপস্থিত সবার মাঝে ছিল মানবসেবার এক গভীর অঙ্গীকার। আয়োজকদের এই মহৎ উদ্যোগকে সকলেই সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে আরও এমন মানবিক কর্মসূচির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের আয়োজন শুধু সম্মান প্রদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজে সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। “চেষ্টা”র এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আগামী প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি 




















