ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পাইলট কার্যক্রম: প্রথম ধাপে বিনামূল্যে জুতা পাবে ১ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থী বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে রাজধানী: ঘরে ঘরে সোলার বসানোর মেগা পরিকল্পনা সরকারের ময়মনসিংহের গৌরীপুরে, কৃষি ও পুষ্টি উন্নয়নে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াকফ প্রশাসকের সাক্ষাৎ, তুলে ধরলেন সংস্থার কার্যক্রম নড়াইলে স্ত্রীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী আটক জ্বালানি খাতে স্বস্তি: সৌদি তেলের চালানে সচল হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি চুক্তি লঙ্ঘন করে বৈরুতে ইসরায়েলি হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা রাজনীতিতে আর জড়াতে চাই না, অভিনয় নিয়ে থাকবো জানিয়েছেন দেব লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা, হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার নিহতের দাবি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৫.৩৩ বিলিয়ন ডলার
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ফরিদপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় দুর্ভোগ চরমে

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় গত অনেকদিন যাবৎ স্থানীয় জনগণ মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। জমি বেচা-কেনা বন্ধ থাকায় অনেকেরই চিকিৎসা সেবা, প্রবাস যাত্রা, বাসাবাড়ি নির্মাণ, ব্যবসা বাণিজ্যে বিনিয়োগসহ নানা ধরণের কাজ থমকে রয়েছে। মানুষ দূর দূরান্ত থেকে দিনের পর দিন সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে এসে দলিল করতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। এখানে কর্মরত দলিল লেখকগণ, নকল নবিশগণ, স্ট্রাম্প ভেন্ডারগণ, সহকারী দলিল লেখকগণসহ প্রায় ৫০ মানুষ বেকার সময় পার করে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি সরকারও প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এখানে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার পদটি গত দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য রয়েছে।

অত্র উপজেলার বনওয়ারীনগর ইউনিয়নের গ্রামের মো: মতিউর রহমান জানান, সম্প্রতি তাঁর ছেলে মো: নয়ন মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর ক্যান্সার ধরা পড়েছে। তিনি তাঁর ছেলের চিকিৎসার ব্যয় মিটানোর জন্য এক প্রতিবেশীর কাছে জমি বিক্রি করেছেন। কিন্তু বিক্রিত জমি রেজিস্ট্রী করে দিতে না পারায় তাঁর কাছ থেকে তিনি সমুদয় টাকা নিতে পারছেন না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টির দ্রুত সমাধান চান তিনি।

এবার মালোশিয়ার ‘নয়া মানুষ’ মো: হেলাল জানান, তিনি ব্যাংকে কিছু জমি বন্ধক রেখে ঋণের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এখন তাকে টাকা দিতে প্রস্তুত। কিন্তু আজ দীর্ঘদিন যাবৎ সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে তিনি দলিল সম্পাদন করতে পারছেন না। ফলে এই মুহূর্তে তিনি টাকার অভাবে মারাত্মক সমস্যায় রয়েছেন।

পুঙ্গলী ইউনিয়নের গ্রামের মো: হাবিবুর রহমান জানান, তিনি তাঁর ছেলেকে প্রবাসে পাঠানোর যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এখন জমি বিক্রি করে টাকা দিতে না পারার কারণে তাঁর ছেলের প্রবাসযাত্রা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ফরিদপুর উপজেলায় ০৬টি ইউনিয়ন ও ০১টি পৌরসভার শত শত মানুষ বর্তমানে জমি কেনা-বেচা করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এখানে কর্মরত দলিল লেখকগণ তারিকুল ইসলাম ও মো: আব্দুল আউয়াল জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় প্রায় ৩০ জন দলিল লেখকগণ ও ১৫-২০ জন নকল নবিশসহ প্রায় ৫০ মানুষের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এখন তাঁরা সবাই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। জনদুর্ভোগ, সরকারের রাজস্ব অর্জন বন্ধ থাকা ও উপজেলা ফরিদপুর সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের অচল অবস্থা সবার সামনে তুলে ধরলাম।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইলট কার্যক্রম: প্রথম ধাপে বিনামূল্যে জুতা পাবে ১ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থী

ফরিদপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় দুর্ভোগ চরমে

আপডেট সময় ০৯:৫৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় গত অনেকদিন যাবৎ স্থানীয় জনগণ মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। জমি বেচা-কেনা বন্ধ থাকায় অনেকেরই চিকিৎসা সেবা, প্রবাস যাত্রা, বাসাবাড়ি নির্মাণ, ব্যবসা বাণিজ্যে বিনিয়োগসহ নানা ধরণের কাজ থমকে রয়েছে। মানুষ দূর দূরান্ত থেকে দিনের পর দিন সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে এসে দলিল করতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। এখানে কর্মরত দলিল লেখকগণ, নকল নবিশগণ, স্ট্রাম্প ভেন্ডারগণ, সহকারী দলিল লেখকগণসহ প্রায় ৫০ মানুষ বেকার সময় পার করে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি সরকারও প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এখানে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার পদটি গত দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য রয়েছে।

অত্র উপজেলার বনওয়ারীনগর ইউনিয়নের গ্রামের মো: মতিউর রহমান জানান, সম্প্রতি তাঁর ছেলে মো: নয়ন মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর ক্যান্সার ধরা পড়েছে। তিনি তাঁর ছেলের চিকিৎসার ব্যয় মিটানোর জন্য এক প্রতিবেশীর কাছে জমি বিক্রি করেছেন। কিন্তু বিক্রিত জমি রেজিস্ট্রী করে দিতে না পারায় তাঁর কাছ থেকে তিনি সমুদয় টাকা নিতে পারছেন না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টির দ্রুত সমাধান চান তিনি।

এবার মালোশিয়ার ‘নয়া মানুষ’ মো: হেলাল জানান, তিনি ব্যাংকে কিছু জমি বন্ধক রেখে ঋণের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এখন তাকে টাকা দিতে প্রস্তুত। কিন্তু আজ দীর্ঘদিন যাবৎ সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে তিনি দলিল সম্পাদন করতে পারছেন না। ফলে এই মুহূর্তে তিনি টাকার অভাবে মারাত্মক সমস্যায় রয়েছেন।

পুঙ্গলী ইউনিয়নের গ্রামের মো: হাবিবুর রহমান জানান, তিনি তাঁর ছেলেকে প্রবাসে পাঠানোর যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এখন জমি বিক্রি করে টাকা দিতে না পারার কারণে তাঁর ছেলের প্রবাসযাত্রা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ফরিদপুর উপজেলায় ০৬টি ইউনিয়ন ও ০১টি পৌরসভার শত শত মানুষ বর্তমানে জমি কেনা-বেচা করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এখানে কর্মরত দলিল লেখকগণ তারিকুল ইসলাম ও মো: আব্দুল আউয়াল জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় প্রায় ৩০ জন দলিল লেখকগণ ও ১৫-২০ জন নকল নবিশসহ প্রায় ৫০ মানুষের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এখন তাঁরা সবাই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। জনদুর্ভোগ, সরকারের রাজস্ব অর্জন বন্ধ থাকা ও উপজেলা ফরিদপুর সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের অচল অবস্থা সবার সামনে তুলে ধরলাম।