ময়মনসিংহ , শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পূর্বধলায় মাদকের ছোবলে নষ্ট হচ্ছে পুরো সমাজ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নবী মুজিব, কেবলা ধানমন্ডি-৩২ বললেন সালাউদ্দিন আম্মার ৬৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে পৈতৃক বন্ধকি জমি ফিরে পেল পরিবার বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গৌরীপুর উপজেলা শাখায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত শেরপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ১৩ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ নেত্রকোণায় পাচারকালে সরকারি চাল জব্দ,আটক ২ পূর্বধলায় মাদকসহ কারবারি গ্রেপ্তার,৩ খালিয়াজুরীতে বরফভর্তি বোতলের আঘাতে অচেতন স্কুলছাত্র: শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ময়মনসিংহে মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মায়ের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠান বিএমডিএ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে সংবর্ধনা চাটমোহরে
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

৬৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে পৈতৃক বন্ধকি জমি ফিরে পেল পরিবার

পঞ্চাশের দশকে মাত্র ১৩৫ টাকায় বন্ধক রাখা হয়েছিল ৯ শতক জমি। সেই জমি উদ্ধার করতে গিয়ে পার হয়ে গেছে দীর্ঘ ৬৫ বছর। মামলা, আপিল আর আইনি জটিলতার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে অবশেষে পৈতৃক জমির দখল ফিরে পেয়েছে কুড়িগ্রামের একটি পরিবার।

​গত বুধবার (১৩ মে) বিকেলে কুড়িগ্রাম সদরের পৌর এলাকার চরুয়া পাড়ায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাদীপক্ষকে জমির দখল বুঝিয়ে দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলাম। জমি হস্তান্তরের সময় ঢাকঢোল বাজানো ও লাল পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই দৃশ্য দেখতে এলাকায় উৎসুক মানুষের ঢল নামে।

বিরোধের সূত্রপাত ও আইনি লড়াই
​মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, পঞ্চাশের দশকে স্থানীয় আলেপ উদ্দিন তার ফুফাতো ভাই বছির উদ্দিনের কাছে ১৩৫ টাকায় ৯ শতক জমি বন্ধক রাখেন। পরবর্তী সময়ে বন্ধকি টাকা পরিশোধ করা হলেও জমি ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান বছির উদ্দিন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে জমিটি টাউন চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়। পরে চেয়ারম্যান স্থানীয় এক ব্যক্তিকে এর দেখভালের দায়িত্ব দেন।

জমির প্রকৃত মালিকানা ও আইনি দখল ফিরে পেতে ১৯৬১ সালে আদালতে মামলা করেন আলেপ উদ্দিন। তবে আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি দেখে যেতে পারেননি তিনি; মামলার নিষ্পত্তির আগেই ১৯৭২ সালে মারা যান আলেপ উদ্দিন। বাবার মৃত্যুর পর হাল ছাড়েননি তার সন্তানেরা। ছেলে আব্দুস সাত্তার ও তার ভাই-বোনেরা নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে ছয় দশক ধরে এই আইনি লড়াই চালিয়ে যান।

​অবশেষে অধিকার লাভ
​আদালতের চূড়ান্ত আদেশের পর বুধবার বিকেলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সরকারি সার্ভেয়ার ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে নালিশি জমির দখল বাদীপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে প্রশাসন। উচ্ছেদ ও দখল হস্তান্তরের সময় মৃত বছির উদ্দিনের ওয়ারিশরা উপস্থিত না থাকলেও জমির জিম্মাদাররা উপস্থিত ছিলেন।
​তবে মূল মামলাটি ৯ শতক জমি নিয়ে হলেও বর্তমানে পরিবারটি ৬ দশমিক ৬৮ শতক জমির দখল বুঝে পেয়েছে। বাকি অংশটি দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় তা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

​আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মামলার বাদী আব্দুস সাত্তার বলেন:
“আমার বাবার শুরু করা লড়াই আমরা সন্তানরা চালিয়ে গেছি। দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের নানা প্রতিকূলতা ও হয়রানি সহ্য করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আদালত আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। আজ বাবা বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।”
​৬৫ বছর পর পৈতৃক ভিটার অধিকার ফিরে পাওয়ায় আব্দুস সাত্তারসহ তার চার ভাই ও এক বোনের পরিবারে এখন দীর্ঘদিনের জটলা শেষে স্বস্তি ও আনন্দের হাওয়া বইছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পূর্বধলায় মাদকের ছোবলে নষ্ট হচ্ছে পুরো সমাজ

৬৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে পৈতৃক বন্ধকি জমি ফিরে পেল পরিবার

আপডেট সময় ১২:৪০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

পঞ্চাশের দশকে মাত্র ১৩৫ টাকায় বন্ধক রাখা হয়েছিল ৯ শতক জমি। সেই জমি উদ্ধার করতে গিয়ে পার হয়ে গেছে দীর্ঘ ৬৫ বছর। মামলা, আপিল আর আইনি জটিলতার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে অবশেষে পৈতৃক জমির দখল ফিরে পেয়েছে কুড়িগ্রামের একটি পরিবার।

​গত বুধবার (১৩ মে) বিকেলে কুড়িগ্রাম সদরের পৌর এলাকার চরুয়া পাড়ায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাদীপক্ষকে জমির দখল বুঝিয়ে দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলাম। জমি হস্তান্তরের সময় ঢাকঢোল বাজানো ও লাল পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই দৃশ্য দেখতে এলাকায় উৎসুক মানুষের ঢল নামে।

বিরোধের সূত্রপাত ও আইনি লড়াই
​মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, পঞ্চাশের দশকে স্থানীয় আলেপ উদ্দিন তার ফুফাতো ভাই বছির উদ্দিনের কাছে ১৩৫ টাকায় ৯ শতক জমি বন্ধক রাখেন। পরবর্তী সময়ে বন্ধকি টাকা পরিশোধ করা হলেও জমি ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান বছির উদ্দিন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে জমিটি টাউন চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়। পরে চেয়ারম্যান স্থানীয় এক ব্যক্তিকে এর দেখভালের দায়িত্ব দেন।

জমির প্রকৃত মালিকানা ও আইনি দখল ফিরে পেতে ১৯৬১ সালে আদালতে মামলা করেন আলেপ উদ্দিন। তবে আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি দেখে যেতে পারেননি তিনি; মামলার নিষ্পত্তির আগেই ১৯৭২ সালে মারা যান আলেপ উদ্দিন। বাবার মৃত্যুর পর হাল ছাড়েননি তার সন্তানেরা। ছেলে আব্দুস সাত্তার ও তার ভাই-বোনেরা নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে ছয় দশক ধরে এই আইনি লড়াই চালিয়ে যান।

​অবশেষে অধিকার লাভ
​আদালতের চূড়ান্ত আদেশের পর বুধবার বিকেলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সরকারি সার্ভেয়ার ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে নালিশি জমির দখল বাদীপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে প্রশাসন। উচ্ছেদ ও দখল হস্তান্তরের সময় মৃত বছির উদ্দিনের ওয়ারিশরা উপস্থিত না থাকলেও জমির জিম্মাদাররা উপস্থিত ছিলেন।
​তবে মূল মামলাটি ৯ শতক জমি নিয়ে হলেও বর্তমানে পরিবারটি ৬ দশমিক ৬৮ শতক জমির দখল বুঝে পেয়েছে। বাকি অংশটি দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় তা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

​আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মামলার বাদী আব্দুস সাত্তার বলেন:
“আমার বাবার শুরু করা লড়াই আমরা সন্তানরা চালিয়ে গেছি। দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের নানা প্রতিকূলতা ও হয়রানি সহ্য করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আদালত আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। আজ বাবা বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।”
​৬৫ বছর পর পৈতৃক ভিটার অধিকার ফিরে পাওয়ায় আব্দুস সাত্তারসহ তার চার ভাই ও এক বোনের পরিবারে এখন দীর্ঘদিনের জটলা শেষে স্বস্তি ও আনন্দের হাওয়া বইছে।