ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পূর্বধলায় ৩০ অসহায় পরিবার পেলেন অনুদান, বেশ কিছু উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করলেন এমপি মানসুরা নরসিংদীতে কক্ষে আটকে পড়া দুই বছরের শিশুকে উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস রৌমারীতে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক ১; পলাতক ১ ঝিনাইদহে জেলা পুলিশের বিশেষ কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত ব্রহ্মপুত্রের তলদেশে পাইপলাইন কেটে গ্যাস চুরির চেষ্টা: কটিয়াদীতে জনমনে আতঙ্ক বিরল সীমান্তে আসামিসহ বিপুল পরিমাণ মাদক ও মোটরসাইকেল জব্দ করল বিজিবি গোপালগঞ্জে র‍্যাবের থাবা: ২৩০০ পিস ইয়াবাসহ আটক মাদক ব্যবসায়ী প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নেত্রকোণায় প্রবীণ হিতৈষী সংঘের কার্যনির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত ক্ষমতার অপব্যবহার ও নৃশংসতা: জুলাই গণহত্যায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ নেত্রকোণায় জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

বেনাপোল দিয়ে ভারতীয় মাছ আমদানি বন্ধের পথে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাছ আমদানির ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মাছ আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন,অতিরিক্ত শুল্কের কারণে লোকসানের আশঙ্কায় প্রথম দিন থেকেই অনেক আমদানিকারক মাছ আমদানি স্থগিত রেখেছেন ।

 

আমদানিকারকদের দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মাছ আমদানির ওপর মোট শুল্কহার ৪৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করেছে। ফলে দেশের বাজারে মাছের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।


বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বাজেট ঘোষণার পরের দিন থেকেই নতুন মূল্যে শুল্ক আদায় শুরু করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

মিঠা পানির মাছ: আগে প্রতি কেজি মিঠা পানির মাছ আমদানিতে ৮৬ টাকা ১০ পয়সা শুল্ক দিতে হলেও এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৩১ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি প্রায় ৪৬ টাকা বেশি শুল্ক দিতে হচ্ছে।

সামুদ্রিক ও রুই মাছ: সামুদ্রিক মাছ ও রুই মাছের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে শুল্ক ৪৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৬ টাকা ১০ পয়সা, যা কেজিপ্রতি প্রায় ২৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মাছ আমদানিকারক ব্যবসায়ী রহমত আলী জানান, ভারতীয় মাছের দেশে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও অতিরিক্ত শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এর ফলে বাজারে মাছের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আরও বাড়তে পারে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে রয়েছে কাস্টমস। নতুন অর্থবছরে উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে আমদানি কমে গেলে এই রাজস্ব ঘাটতি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে মাছ আমদানি কমে যাওয়ায় বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। এক বন্দর শ্রমিক জানান, দুই দিন ধরে অপেক্ষা করেও মাছবোঝাই কোনো ট্রাক লোড করতে পারেননি তারা। একই কারণে অলস বসে থাকা ট্রাকচালকরাও মাছের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

বেনাপোল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ট্রাকে থাকা পণ্যের ওজনের পরিবর্তে ট্রাকের চাকার সংখ্যার ওপর শুল্ককর নির্ধারণে এমনিতেই মাছ আমদানি কমেছিল। এর পর নতুন বাজেটে মাছের ওপর শুল্ক বাড়ানোর পর থেকেই ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায় উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য নিয়ন্ত্রণ ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম জানান, বাজেট ঘোষণার আগে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের মাছ আমদানি হলেও বাজেটের পর থেকে তা নাটকীয়ভাবে কমেছে। এমনকি গত সোমবার বন্দরে একটি মাছবোঝাই ট্রাকও প্রবেশ করেনি।

তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন মাছ কম আমদানি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্কহার পুনর্বিবেচনা না করলে আমদানি আরও কমে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের বাজার, সাধারণ ভোক্তা এবং সরকারের রাজস্ব আয়ে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পূর্বধলায় ৩০ অসহায় পরিবার পেলেন অনুদান, বেশ কিছু উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করলেন এমপি মানসুরা

বেনাপোল দিয়ে ভারতীয় মাছ আমদানি বন্ধের পথে

আপডেট সময় ১০:৫৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাছ আমদানির ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মাছ আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন,অতিরিক্ত শুল্কের কারণে লোকসানের আশঙ্কায় প্রথম দিন থেকেই অনেক আমদানিকারক মাছ আমদানি স্থগিত রেখেছেন ।

 

আমদানিকারকদের দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মাছ আমদানির ওপর মোট শুল্কহার ৪৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করেছে। ফলে দেশের বাজারে মাছের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।


বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বাজেট ঘোষণার পরের দিন থেকেই নতুন মূল্যে শুল্ক আদায় শুরু করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

মিঠা পানির মাছ: আগে প্রতি কেজি মিঠা পানির মাছ আমদানিতে ৮৬ টাকা ১০ পয়সা শুল্ক দিতে হলেও এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৩১ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি প্রায় ৪৬ টাকা বেশি শুল্ক দিতে হচ্ছে।

সামুদ্রিক ও রুই মাছ: সামুদ্রিক মাছ ও রুই মাছের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে শুল্ক ৪৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৬ টাকা ১০ পয়সা, যা কেজিপ্রতি প্রায় ২৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মাছ আমদানিকারক ব্যবসায়ী রহমত আলী জানান, ভারতীয় মাছের দেশে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও অতিরিক্ত শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এর ফলে বাজারে মাছের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আরও বাড়তে পারে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে রয়েছে কাস্টমস। নতুন অর্থবছরে উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে আমদানি কমে গেলে এই রাজস্ব ঘাটতি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে মাছ আমদানি কমে যাওয়ায় বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। এক বন্দর শ্রমিক জানান, দুই দিন ধরে অপেক্ষা করেও মাছবোঝাই কোনো ট্রাক লোড করতে পারেননি তারা। একই কারণে অলস বসে থাকা ট্রাকচালকরাও মাছের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

বেনাপোল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ট্রাকে থাকা পণ্যের ওজনের পরিবর্তে ট্রাকের চাকার সংখ্যার ওপর শুল্ককর নির্ধারণে এমনিতেই মাছ আমদানি কমেছিল। এর পর নতুন বাজেটে মাছের ওপর শুল্ক বাড়ানোর পর থেকেই ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায় উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য নিয়ন্ত্রণ ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম জানান, বাজেট ঘোষণার আগে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের মাছ আমদানি হলেও বাজেটের পর থেকে তা নাটকীয়ভাবে কমেছে। এমনকি গত সোমবার বন্দরে একটি মাছবোঝাই ট্রাকও প্রবেশ করেনি।

তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন মাছ কম আমদানি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্কহার পুনর্বিবেচনা না করলে আমদানি আরও কমে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের বাজার, সাধারণ ভোক্তা এবং সরকারের রাজস্ব আয়ে।