ময়মনসিংহ , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা ঘুরে দেখলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জুম প্ল্যাটফর্মে সেমিনার-কর্মশালার সম্মানির হার পুননির্ধারণ গ্যাসগ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু মৌলভীবাজার সফর: সিলেটে অবতরণের পর সড়কপথে রওনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের অধীন ১৯ জনের চাকরির সুযোগ শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতি: ২৩৭ প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে শোকজ, এমপিও বাতিলের শঙ্কা ​মেসির চোখের জল: গোল উদযাপনের আড়ালে লুকিয়ে কোন আবেগ? এস আলমের শেয়ার পুরানো মালিককে দেয়ার দাবি ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের মেসি যেদিন খেলা ছেড়ে দেবেন, আমরা তাকে ভীষণভাবে মিস করব বললেন স্ক্যালোনি
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

বেনাপোল দিয়ে ভারতীয় মাছ আমদানি বন্ধের পথে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাছ আমদানির ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মাছ আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন,অতিরিক্ত শুল্কের কারণে লোকসানের আশঙ্কায় প্রথম দিন থেকেই অনেক আমদানিকারক মাছ আমদানি স্থগিত রেখেছেন ।

 

আমদানিকারকদের দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মাছ আমদানির ওপর মোট শুল্কহার ৪৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করেছে। ফলে দেশের বাজারে মাছের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।


বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বাজেট ঘোষণার পরের দিন থেকেই নতুন মূল্যে শুল্ক আদায় শুরু করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

মিঠা পানির মাছ: আগে প্রতি কেজি মিঠা পানির মাছ আমদানিতে ৮৬ টাকা ১০ পয়সা শুল্ক দিতে হলেও এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৩১ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি প্রায় ৪৬ টাকা বেশি শুল্ক দিতে হচ্ছে।

সামুদ্রিক ও রুই মাছ: সামুদ্রিক মাছ ও রুই মাছের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে শুল্ক ৪৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৬ টাকা ১০ পয়সা, যা কেজিপ্রতি প্রায় ২৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মাছ আমদানিকারক ব্যবসায়ী রহমত আলী জানান, ভারতীয় মাছের দেশে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও অতিরিক্ত শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এর ফলে বাজারে মাছের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আরও বাড়তে পারে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে রয়েছে কাস্টমস। নতুন অর্থবছরে উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে আমদানি কমে গেলে এই রাজস্ব ঘাটতি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে মাছ আমদানি কমে যাওয়ায় বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। এক বন্দর শ্রমিক জানান, দুই দিন ধরে অপেক্ষা করেও মাছবোঝাই কোনো ট্রাক লোড করতে পারেননি তারা। একই কারণে অলস বসে থাকা ট্রাকচালকরাও মাছের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

বেনাপোল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ট্রাকে থাকা পণ্যের ওজনের পরিবর্তে ট্রাকের চাকার সংখ্যার ওপর শুল্ককর নির্ধারণে এমনিতেই মাছ আমদানি কমেছিল। এর পর নতুন বাজেটে মাছের ওপর শুল্ক বাড়ানোর পর থেকেই ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায় উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য নিয়ন্ত্রণ ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম জানান, বাজেট ঘোষণার আগে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের মাছ আমদানি হলেও বাজেটের পর থেকে তা নাটকীয়ভাবে কমেছে। এমনকি গত সোমবার বন্দরে একটি মাছবোঝাই ট্রাকও প্রবেশ করেনি।

তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন মাছ কম আমদানি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্কহার পুনর্বিবেচনা না করলে আমদানি আরও কমে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের বাজার, সাধারণ ভোক্তা এবং সরকারের রাজস্ব আয়ে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ

বেনাপোল দিয়ে ভারতীয় মাছ আমদানি বন্ধের পথে

আপডেট সময় ১০:৫৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাছ আমদানির ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মাছ আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন,অতিরিক্ত শুল্কের কারণে লোকসানের আশঙ্কায় প্রথম দিন থেকেই অনেক আমদানিকারক মাছ আমদানি স্থগিত রেখেছেন ।

 

আমদানিকারকদের দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মাছ আমদানির ওপর মোট শুল্কহার ৪৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করেছে। ফলে দেশের বাজারে মাছের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।


বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বাজেট ঘোষণার পরের দিন থেকেই নতুন মূল্যে শুল্ক আদায় শুরু করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

মিঠা পানির মাছ: আগে প্রতি কেজি মিঠা পানির মাছ আমদানিতে ৮৬ টাকা ১০ পয়সা শুল্ক দিতে হলেও এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৩১ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি প্রায় ৪৬ টাকা বেশি শুল্ক দিতে হচ্ছে।

সামুদ্রিক ও রুই মাছ: সামুদ্রিক মাছ ও রুই মাছের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে শুল্ক ৪৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৬ টাকা ১০ পয়সা, যা কেজিপ্রতি প্রায় ২৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মাছ আমদানিকারক ব্যবসায়ী রহমত আলী জানান, ভারতীয় মাছের দেশে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও অতিরিক্ত শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এর ফলে বাজারে মাছের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আরও বাড়তে পারে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে রয়েছে কাস্টমস। নতুন অর্থবছরে উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে আমদানি কমে গেলে এই রাজস্ব ঘাটতি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে মাছ আমদানি কমে যাওয়ায় বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। এক বন্দর শ্রমিক জানান, দুই দিন ধরে অপেক্ষা করেও মাছবোঝাই কোনো ট্রাক লোড করতে পারেননি তারা। একই কারণে অলস বসে থাকা ট্রাকচালকরাও মাছের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

বেনাপোল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ট্রাকে থাকা পণ্যের ওজনের পরিবর্তে ট্রাকের চাকার সংখ্যার ওপর শুল্ককর নির্ধারণে এমনিতেই মাছ আমদানি কমেছিল। এর পর নতুন বাজেটে মাছের ওপর শুল্ক বাড়ানোর পর থেকেই ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায় উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য নিয়ন্ত্রণ ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম জানান, বাজেট ঘোষণার আগে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের মাছ আমদানি হলেও বাজেটের পর থেকে তা নাটকীয়ভাবে কমেছে। এমনকি গত সোমবার বন্দরে একটি মাছবোঝাই ট্রাকও প্রবেশ করেনি।

তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন মাছ কম আমদানি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্কহার পুনর্বিবেচনা না করলে আমদানি আরও কমে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের বাজার, সাধারণ ভোক্তা এবং সরকারের রাজস্ব আয়ে।