ময়মনসিংহ , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজার প্যারেড বিফিং আলোর ফেরিওয়ালা সেকান্দার আলী তালুকদার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৬ বোতল বিদেশি মদসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পেতে শর্ত পূরণ করতে হবে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী কৃষিখাত লাভজনক করতে প্রণোদনা দিতে হবে বলেছেন রাষ্ট্রপতি ৫৪ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কাজ করছে সরকার জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী শেরপুরে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস পালিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী পূর্বধলায় দুর্যোগ প্রশমন দিবসে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া, সচেতন হলো শিক্ষার্থীরা ​কালীগঞ্জে ‘মাদককে না বলুন’ স্লোগানে মাদকবিরোধী মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

বেনাপোল দিয়ে ভারতীয় মাছ আমদানি বন্ধের পথে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাছ আমদানির ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মাছ আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন,অতিরিক্ত শুল্কের কারণে লোকসানের আশঙ্কায় প্রথম দিন থেকেই অনেক আমদানিকারক মাছ আমদানি স্থগিত রেখেছেন ।

 

আমদানিকারকদের দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মাছ আমদানির ওপর মোট শুল্কহার ৪৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করেছে। ফলে দেশের বাজারে মাছের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।


বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বাজেট ঘোষণার পরের দিন থেকেই নতুন মূল্যে শুল্ক আদায় শুরু করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

মিঠা পানির মাছ: আগে প্রতি কেজি মিঠা পানির মাছ আমদানিতে ৮৬ টাকা ১০ পয়সা শুল্ক দিতে হলেও এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৩১ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি প্রায় ৪৬ টাকা বেশি শুল্ক দিতে হচ্ছে।

সামুদ্রিক ও রুই মাছ: সামুদ্রিক মাছ ও রুই মাছের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে শুল্ক ৪৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৬ টাকা ১০ পয়সা, যা কেজিপ্রতি প্রায় ২৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মাছ আমদানিকারক ব্যবসায়ী রহমত আলী জানান, ভারতীয় মাছের দেশে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও অতিরিক্ত শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এর ফলে বাজারে মাছের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আরও বাড়তে পারে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে রয়েছে কাস্টমস। নতুন অর্থবছরে উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে আমদানি কমে গেলে এই রাজস্ব ঘাটতি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে মাছ আমদানি কমে যাওয়ায় বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। এক বন্দর শ্রমিক জানান, দুই দিন ধরে অপেক্ষা করেও মাছবোঝাই কোনো ট্রাক লোড করতে পারেননি তারা। একই কারণে অলস বসে থাকা ট্রাকচালকরাও মাছের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

বেনাপোল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ট্রাকে থাকা পণ্যের ওজনের পরিবর্তে ট্রাকের চাকার সংখ্যার ওপর শুল্ককর নির্ধারণে এমনিতেই মাছ আমদানি কমেছিল। এর পর নতুন বাজেটে মাছের ওপর শুল্ক বাড়ানোর পর থেকেই ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায় উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য নিয়ন্ত্রণ ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম জানান, বাজেট ঘোষণার আগে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের মাছ আমদানি হলেও বাজেটের পর থেকে তা নাটকীয়ভাবে কমেছে। এমনকি গত সোমবার বন্দরে একটি মাছবোঝাই ট্রাকও প্রবেশ করেনি।

তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন মাছ কম আমদানি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্কহার পুনর্বিবেচনা না করলে আমদানি আরও কমে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের বাজার, সাধারণ ভোক্তা এবং সরকারের রাজস্ব আয়ে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজার প্যারেড বিফিং

বেনাপোল দিয়ে ভারতীয় মাছ আমদানি বন্ধের পথে

আপডেট সময় ১০:৫৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাছ আমদানির ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মাছ আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন,অতিরিক্ত শুল্কের কারণে লোকসানের আশঙ্কায় প্রথম দিন থেকেই অনেক আমদানিকারক মাছ আমদানি স্থগিত রেখেছেন ।

 

আমদানিকারকদের দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মাছ আমদানির ওপর মোট শুল্কহার ৪৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করেছে। ফলে দেশের বাজারে মাছের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।


বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বাজেট ঘোষণার পরের দিন থেকেই নতুন মূল্যে শুল্ক আদায় শুরু করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

মিঠা পানির মাছ: আগে প্রতি কেজি মিঠা পানির মাছ আমদানিতে ৮৬ টাকা ১০ পয়সা শুল্ক দিতে হলেও এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৩১ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি প্রায় ৪৬ টাকা বেশি শুল্ক দিতে হচ্ছে।

সামুদ্রিক ও রুই মাছ: সামুদ্রিক মাছ ও রুই মাছের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে শুল্ক ৪৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৬ টাকা ১০ পয়সা, যা কেজিপ্রতি প্রায় ২৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মাছ আমদানিকারক ব্যবসায়ী রহমত আলী জানান, ভারতীয় মাছের দেশে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও অতিরিক্ত শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এর ফলে বাজারে মাছের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আরও বাড়তে পারে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে রয়েছে কাস্টমস। নতুন অর্থবছরে উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে আমদানি কমে গেলে এই রাজস্ব ঘাটতি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে মাছ আমদানি কমে যাওয়ায় বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। এক বন্দর শ্রমিক জানান, দুই দিন ধরে অপেক্ষা করেও মাছবোঝাই কোনো ট্রাক লোড করতে পারেননি তারা। একই কারণে অলস বসে থাকা ট্রাকচালকরাও মাছের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

বেনাপোল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ট্রাকে থাকা পণ্যের ওজনের পরিবর্তে ট্রাকের চাকার সংখ্যার ওপর শুল্ককর নির্ধারণে এমনিতেই মাছ আমদানি কমেছিল। এর পর নতুন বাজেটে মাছের ওপর শুল্ক বাড়ানোর পর থেকেই ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায় উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য নিয়ন্ত্রণ ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম জানান, বাজেট ঘোষণার আগে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের মাছ আমদানি হলেও বাজেটের পর থেকে তা নাটকীয়ভাবে কমেছে। এমনকি গত সোমবার বন্দরে একটি মাছবোঝাই ট্রাকও প্রবেশ করেনি।

তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন মাছ কম আমদানি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্কহার পুনর্বিবেচনা না করলে আমদানি আরও কমে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের বাজার, সাধারণ ভোক্তা এবং সরকারের রাজস্ব আয়ে।